ফরিদপুরে সংখ্যালঘু এক পরিবারকে লাঞ্চিত ও এলাকা ছেড়ে ভারতে পাঠানোর হুঁমকী

Faridpur20170223063047


হারুন-অর-রশীদ,ফরিদপুর প্রতিনিধিঃ

ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী থানার চাদপুর ইউনিয়নের ধোপাডাঙ্গা মৌজার এস এ ১৫১৬ নং দাগের  ৪৮ শতাংশ জমি জাল দলিলে  ক্রয় করে বাড়ি নির্মান করেছে চাদপুর এক ওয়ার্ডের নেতা। বাধা দেওয়ায় জমির প্রকৃত মালিক সাংখালঘু এক পরিবারকে লাঞ্চিত ও এলাকা ছেড়ে ভারতে পাঠানোর হুঁমকী দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ৪৮ শতাংশ ঐ জমির মূল মালিক ছিলেন মালতী প্রভা নাথ, পিতা- মৃত বিজয় চন্দ্র নাথ। তিনি জীবিত থাকাকালীন জমিটি বিক্রি করে দেয় সবু তালুকদারের কাছে। সবু তালুকদার পরবর্তীতে জায়গাটি বিক্রি করেন মঙ্গল নাথের কাছে। মঙ্গল নাথের কাছ থেকে আবার জমিটি ক্রয় করেন রাধানাথ, নিতাই নাথ ও বুদ্ধিস্বর যৌথভাবে। মালতাী নাথ মারা গেলে তার সন্তানরা উক্ত জমির ওয়ারিশ হিসেবে তথ্য গোপণ করে জমিটি পুনরায় বিক্রি করে মনি মৃধা নামে একজনের কাছে। মনি মৃধা জমিটির ক্রয় করে কাগজপত্রে যাচাই-বাছাইয়ে জানতে পারে যে জমির প্রকৃত মালিক মালতী প্রভা নাথ বেঁচে থাকতেই এই জমিটি বিক্রি করে গিয়েছিলেন। ফলে মনি মৃধাও তথ্য গোপন করে জমিটিকে কৌশলে বিক্রি করে দেয় অত্র এলাকার স্থানীয় ওয়ার্ড নেতা হাসিব তালুকদারের কাছে। হাসিব তালুকদার সব জেনে বুঝেই জমিটি ক্রয় করেছেন কারন তিনি তার রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জমিটিকে দখলে রাখতে পারবেন তার এই কাজে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস দেখাবে না। হাসিব তালুকদার ঐ ৪৮ শতাংশ জায়গা দখল নিয়ে বাড়ি নির্মান করেন।

াভিযোগ রয়েছে, বাড়িটি নির্মান করার সময় জমির প্রকৃত ক্রেতার ওয়ারিশগণ বাধা দিলে হাসিবতালুকদার তাদের কথা অগ্রাহ্য করে দখল জায়গায় ঘড় নির্মান করে। আর বাধা দেওয়ার জন্য সাংখালঘু পরিবারকে লাঞ্চিত করে এবং হিন্দুর জাতে গালিগালাজ করে ভারতে পাঠিয়ে দেওয়ার হুমকী দেয়। ভুক্তভোগী পরিবার কোন উপায় অন্ত না পেয়ে চাঁদপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যানকে অবহিত করে । বিষয়টি নিয়ে চেয়ারম্যান কোন সমাধান না দেওয়ায় আদালতে গত ২৫/০৪/২০০৯ইং তারিখে বোয়ালমারী সহকারী জজ আদালতে কালাচাদ দেবনাথ, রামদুলাল দেবনাথ, শ্যাম দুলাল দেবনাথ ও নিত্য নন্দ দেবনাথ বাদী হয়ে মোঃ হাসিবুল তালুকদার, মোঃ সাহাবুল তালুকদার, মোঃ বোরহান তালুকদার,ফরিদমৃধা, আজাদ মৃধা,মোঃ ছরোয়ার মৃধা , আলাউদ্দিন মৃধা,জয়নল বেগম , আকলিমা বেগম, হাফিজা বেগম, সাবানা বেগম, বছিরন নেছা, মোঃ হানিফ শেখ, মোঃ সাহিদ শেখ, মোঃ ওয়াহিদ শেখ, সাহিদা বেগম, হাওয়া বেগম, মল্লিকা খাতুন, নুরু মুন্সি, বিলু মুন্সি, মধুমালা ও হাই বেগম কে বিবাদী করে মামলা করেন।

ভুক্তভোগী সংখ্যালঘু পরিবার আরো জানান, অবৈধভাবে আমাদের জমিদখলকারী হাসিব তালুকদার  চাদপুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যানে আর্শিবাদপুষ্ঠ হওয়ায় তার মুখের উপর কেউ কোন কথা বলতে সাহস পায়না। অত্র এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের পরিবারগুলোকে হাসিব তালুকদার ভালো চোঁখে দেখেন না।

সংখ্যালগু পরিবারের জায়গা দখল ও পরিারকে নানান ভাবে হুঁমকী দেওয়ার বিষয়ে চাঁদপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলতে গেলে তাকে চাঁদপুর ইউনিয়ন কার্যালয়ে পাওয়া যায়নি ফলে তার মোবাইল নম্বরে কথা বলার জন্য ফোন দিলে মোবাইলটি বন্ধ পাওয়া যায় ফলে চেয়ারম্যানের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

সংখ্যালঘু পরিবারের দাবীকৃত জায়গা দখলের বিষয়ে বক্তব্য জানতে জমি দখলকারী হাসিব তালুদারের সাথে কথা বলতে চাইলেও চাঁদপুর বাজারে গিয়ে তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। ফলে তার মোবাইলে যোগাযোগ করার চেষ্ঠা করলে তিনি মোবাইল রিসিভ করেন নি বিধায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি না।

চাদপুর এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা আবেল খাঁ, মহাজন মাতুব্বর, শ্যামল চন্দ্র দেবনাথ এই জমির সকল তথ্য সঠিকভাবে জানাতে পারবেন বলে জানান মামলার বাদীর পরিবার।

এলাকার আরো অনেকেই নাম না প্রকাশ করার শর্তে জানান, ওয়ার্ড নেতা হাসিব তালুকদার মাঝে মাঝেই চাদপুর বাজারে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকদের সাথে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং তাদের পারিবারিক সব বিষয়ে প্রভাব দেখায়।

তারা সাংবাদিকদের আরো বলেন, আমরা কি সঠিক বিচার পাবো না। আমরা  কি ক্ষমতার কাছে আমাদের সহায়সম্বল তুলে দিয়ে ভারতে চলে যাবো। কথিত হাসিব তালুকদারের ভয়ে আতঙ্গে আছি আমরা হিন্দু পরিবারগুলো। এর কি কোন সমাধান নেই? মামলার উপর আশা করে বসে আছে অসহায় এই পরিবারগুলো।