আমতলীতে ৫০ হাজার টাকা যৌতুকের জন্য নার্গিস নামে এক গৃহবধূকে নির্যাতনের অভিযোগ

এম এ সাইদ খোকন, বরগুনা প্রতিনিধি: আমতলী সদর ইউনিয়নের মাইঠা গ্রামে নার্গিস নামে এক গৃহবধূকে ৫০ হাজার টাকা যৌতুকের দাবীতে স্বামী সেলিম খন্দকার কর্তৃক ২ দিন ধরে ঘড়ে আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। নির্যাতনে ওই গৃহবধূর একটি চোখ নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে এবং পিটিয়ে একটি পা ভেঙ্গে দিয়েছে স্বামী।

বন্দী দশা থেকে পালিয়ে এসে শনিবার সকাল ১০টায় চাচা এবং মায়ের সহযোগিতায় আমতলী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে নির্যাতিত গৃহবধূ নার্গিস বেগম।

আমতলীর নাচনাপাড়া গ্রামের মৃত্যু সিদ্দিকুর রহমান মোল্লার স্ত্রী নির্যাতিত নার্গিস বেগমের মা রিজিয়া বেগম জানান, ২২ বছর পূর্বে ১৯৯৫ সালে আমতলী সদর ইউনিয়নের মাইঠা গ্রামের হাসেম খন্দকারের ছেলে সেলিম খন্দকারের সাথে বাবাহীন এতিম নার্গিসের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় চাচা জাকির মোল্লা এবং মাইঠা গ্রামের সমাজ সেবক ছত্তার আকনের সহযোগিতায় সেলিম খন্দকারকে নগদ ৫০ হাজার টাকা এবং সংসারের সকল মালামাল যৌতুক হিসেবে দেওয়া হয়।

বিয়ের পর নার্গিসের কোল জুরে আলামিন (১২), ফারজানা (৯) ও জান্নাতী (৪) নামে তিনটি সন্তান আসে। বিয়ের পর থেকে নার্গিসকে বাবার বাড়ি থেকে স্বামী সেলিম বিভিন্ন সময় টাকা এনে দেওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকে। স্বামীকে খুশী করার জন্য নার্গিস তার চাচার নিকট থেকে মাঝে মধ্যে টাকা এনে দিত। কিন্তু যৌতুক লোভী স্বামী সেলিমের অল্প টাকায় মন ভরত না। নার্গিসের সন্তান জন্ম নেওয়ার পর ধীরে ধীরে যৌতুক লোভী স্বামী সেলিমের নির্যাতনের মাত্রা বাড়তে থাকে।

গত কয়েক দিন ধরে নার্গিসকে তার চাচা এবং মায়ের নিকট থেকে ব্যবসার জন্য ৫০ হাজার টাকা যৌতুক এনে দিতে বলে নার্গিসকে। বাবাহীন দরিদ্র মা এবং চাচার পক্ষেএত টাকা দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানালে নার্গিগের উপর নেমে আসে নির্যাতনের খরগ। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে নার্গিসকে বাঁশের লাঠি এবং লোহার রড় দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করে ঘড়ে আটকে রাখে। এভাবে দু’দিন ধরে ঘড়ে আটকে নির্যাতন করে পাশন্ড শেলিম খন্দকার। নির্যাতনে নার্গিসের ডান চোখটি নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। চোখে রক্ত জমা হয়ে এখন ঝাপসা দেখছেন নার্গিস। বাম পায়ে বাঁশের আঘাতে ভেঙ্গে ফুলে গেছে। শারা শরীর এবং মাথায় আঘাতের কারনে ফুলে গেছে। মাথা সোজা করে রাখতে পারছে না। আটক অবস্থা থেকে শনিবার সকালে সন্তানদের ফেলে পালিয়ে এসে চাচা জাকির মোল্লা এবং মা রিজিয়া বেগমরে সহযোগিতায় গুরুতর আহত অবস্থায় নার্গিস আমতলী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

nargis with logo

আমতলী হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায় অসহ্য ব্যাথায় কাতরাচ্ছে নার্গিস বেগম। ডান চোখে আঘাতের কারনে লাল রক্ত জমাট বেধে আছে। বাম পা বাঁশের লাঠি এবং রডের আঘাতে ভেঙ্গে ফুলে গেছে। কান্না জরিত কন্ঠে নার্গিস জানায় ‘মোর বাবা নাই এতিম মানুষ মায় মানসের কাম হইরা খায় মোর কাছে স্বামী ৫০ হাজার টাহা চায়। মুই এত টাহা দিমু কই গোনে। টাহা দিতে পারি নাই বইল্লা বাঁশ আর লোহার রড দিয়া ডিডাইয়া মোর এমন দশা করছে। দ্যাহেন ছার মাইরা মোর চউখ নষ্ট করছে পা ভাইঙ্গ্যা দেছে মুই এহন জামু কই’। কথাগুলো শেষ হতে না হতেই আবার কন্নায় ভেঙ্গে পরেন নার্গিস।
নার্গিসের চাচা জাকির মোল্লা জানান, নার্গিসের ৭ বছর বয়সের সময় ওর বাবা সিদিদ্দক মোল্লা মারা যান। মারা যাওয়ার পর ১২ বছর বয়সের সময়

এতিম মেয়েটাকে আমরা টাকা পয়সা খরচ করে এবং নগদ ৫০ হাজার টাকা যৌতুক দিয়ে মাইঠা গ্রামের হাসেম খন্দকারের ছেলে সেলিম খন্দকারের নিকট বিয়ে দিয়েছি। এখন মেয়েটাকে দু’দিন ধরে ঘড়ে আটকে রেখে যে ভাবে নির্যাতন করছে এটা মেনে নেওয়া যায় না। আমরা এর বিচার চাই।
নার্গিস বেগমের মা রিজিয়া বেগম কান্না জরিত কন্ঠে বলেন, দ্যাহেন মোর মাইয়াডারে মাইরা হরছে কি। আমরা এর বিচার চাই।

আমতলী হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার মো: হারুন অর রশিদ জানান, নার্গিসের ডান চোখে আঘাতের কারনে রক্ত জমে লাল হয়ে আছে। বাম পা লাঠির আঘাতে ফুলে গেছে। মাথা এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
এবিষয়ে অভিযুক্ত সেলিম খন্দকারের সাথে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। (০১৭৩৪০০৩৩০৩) মোবইল নম্বরে বার বার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেনি। পরে মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেওয়া হয়।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: সহিদ উল্লাহ জানান, নির্যাতনের ব্যাপারে থানায় এখনো কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আমতলী ও তালতলীতে স্যানিটেশন ব্যবস্থা বেহাল সুপেয় পানির তীব্র সংকট

পানির অপর নাম জীবন। আর সেই জীবন চলার জন্য নিজেকে সুস্থ রাখতে সুপেয় পানি এবং পরিবেশ দূষণমুক্ত রাখতে স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ব্যবস্থার ভূমিকা অপরিসীম। অথচ আধুনিক প্রযুক্তির এ যুগেও বন্য ও দুর্যোগ কবলিত আমতলী ও তালতলী উপজেলায় সেই নিরাপদ পানি ও স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ব্যবস্থা আজো সেই প্রাচীনকালের গহীন অন্ধকারে নিমজ্জিত। যদিও এ বিষয়ে মাঝে-মধ্যে সরকারি-বেসরকারি ভাবে জনসচেতনতামূলক সভা, সেমিনার ও বাস্তব মুখী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দৃশ্য চোখে পড়লেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল। ফলে সময়ের সাথে সাথে প্রকট আকার ধারণ করা জীবনের অতি গুরুত্বপূর্ণ এ দুই সমস্যার কারণে প্রতিনিয়ত বাড়ছে বিভিন্ন রোগীর সংখ্যা।

সূত্রমতে দেখা দিয়েছে সুপেয় পানির তীব্র সংকট। ফলে অস্বাস্থ্যকর টয়লেট ও পানিবাহিত রোগে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ মানুষ ছোট-বড় ব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছেন। স্যানিটেশন ব্যবস্থা নাজুক ও সুপেয় পানির সংকটের কথা সত্যতা স্বীকার করেছেন আমতলী উপজেলার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মো. তরিকুল ইসলাম । জানা যায়, আমতলী ও তালতলী উপজেলার মানুষ বন্যার শিকার হয়ে জলাবদ্ধতার সাথে একরকম যুদ্ধ করে বেঁচে থাকেন। ২০০০ সালের পর থেকে বর্ষা মৌসুমে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা উপজেলা দু’টির স্যানিটেশন ব্যবস্থা একেবারেই ভেঙে পড়ে।

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী উপজেলা দু’টির ১৪টি ইউনিয়নে ১৮৩ টি গ্রামে ২ লাখ ৭০ হাজার ৮০২ জন জনসংখ্যা ছিল। বর্তমান বেসরকারি জরিপ অনুযায়ী এর সংখ্যা ৩ লাখ ৫০ হাজার। প্রকৃতপক্ষে শুমারি হলে লোকসংখ্যা আরো বৃদ্ধি পাবে। জলাবদ্ধতার কবলে আমতলী ও তালতলী উপজেলার বেশিরভাগ মানুষ বসবাস করছেন স্যাঁতস্যাতে ও নোংরা পরিবেশে। একই সাথে অস্বাস্থ্যকর ল্যাট্রিন ও নিরাপদ পানির ব্যবস্থা না থাকায় কঠিন ও জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন সাধারণ জনগণ।

দু’টি উপজেলা সরকারিভাবে আমতলীতে ৩৩০০ আর তালতলীতে ১৩০০ টি নলকূপ আছে বলে জানান এ আমতলী ও তালতলী উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মো. তরিকুল ইসলাম। এ বিষয়ে আমতলী উপজেলা ৫০ শয্যা হাসপাতালের প্রশাসক ডাঃ এম এ মতিন জানিয়েছেন, অস্বাস্থ্যকর ল্যাট্রিন ও সুপেয় পানির সংকট হওয়ায় আর্সেনিক, ডায়েরিয়া, কলেরা, টায়ফয়েড, চুলকানি, খোসপাচড়া, এমনকি মরণব্যাধি ক্যান্সারও হতে পারে।
এ ব্যপারে বে-সরকারী সংস্থা এন এস এস ও নির্বার্হী পরিচালক শাহাবুদ্দিন পাননা বলেন আরো ২ হাজার থেকে ৩০ হাজার গভীর নলকুপ হলে এ সমস্যার কিছুটা হলেও সমাধান হবে। তালতলী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মিন্টু বলেন বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচী (এডিপি)ও মাধ্যমে পানি সংকট দুরী করনে প্রকল্প দেয়া হবে।

আমতলী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জি এম দেলওয়ার হোসেন বলেন সুপেয় পানীর সংকট দুর করনে কাজ করে যাচ্ছি।