সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন, প্রথম পরীক্ষা দিতে যাচ্ছে নুরুল হুদা কমিশন

সময়ের কণ্ঠস্বর – রকিব কমিশনের পর কেএম নুরুল হুদা নেতৃত্বাধীন বর্তমান নতুন নির্বাচন কমিশন আস্থা ফেরানোর পরীক্ষা দিতে যাচ্ছে। আগামীকাল সোমবার দেশের ১৮ উপজেলায় ভোট সম্পন্ন করার মধ্য দিয়ে আস্থা ফেরানোর প্রথম পরীক্ষা দিতে যাচ্ছে নুরুল হুদা কমিশন।

আর এ লক্ষ্যে সব প্রস্তুতি এরই মধ্যে শেষ করা হয়েছে। নির্বাচনী এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে ভোটের দুই দিন আগে থেকেই মাঠে নেমেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ভোটের পরদিন পর্যন্ত তারা নির্বাচনী এলাকায় মাঠে থাকবেন। দলীয় ভোট হওয়ায় নির্বাচনের তিনটি পদেই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী দিয়েছে। যে কারণে এবারের উপজেলা নির্বাচনে তুমুল লড়াই হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে প্রথমবারের মতো দলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত উপজেলা নির্বাচনের ভোটে নিজেদের নিরপেক্ষতা প্রমাণ করে ইসির প্রতি মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে বাড়তি নজর দিতে হচ্ছে নতুন ইসিকে। নির্বাচন বিশ্লেষকরা বলছেন, নতুন ইসির অধীনে দলীয় এ নির্বাচন কতটা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হয় তাও নির্ভর করছে ইসির কঠোর অবস্থানের ওপর। তারা বলছেন, বিগত

ইসির সময় অনুষ্ঠিত উপজেলা-পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে নানা বিতর্ক থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ভোট নিয়ে হতাশা সৃষ্টি হয়েছে। তাই বিগত ইসির দুর্নাম ঘুচিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান নতুন ইসির জন্য চ্যালেঞ্জ। তাই তাদের সামনে নির্বাচনী পরীক্ষা। দলীয় উপজেলা নির্বাচনে নিজেদের নিরপেক্ষতা ধরে রাখাতেও পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে তাদের। তবে নতুন ইসি কেমন হবে ৬ মার্চের উপজেলা নির্বাচনের পরই বোঝা যাবে।

new-eci

ইসি সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, কেএম নুরুল হুদা নেতৃত্বাধীন ইসির অধীন আগামীকাল ৬ মার্চ ভোট হবে ১৮ উপজেলায়। এ ছাড়া ৪ পৌরসভায় উপনির্বাচন রয়েছে। দলীয় এ উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান তিনটি পদেই আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টিসহ অন্যান্য দলের প্রার্থীরা রয়েছেন। এ কারণে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হবে। সুষ্ঠু ভোটের লক্ষ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি চলছে।

সূত্র জানায়, সিলেটের ওসমানীনগর, খাগড়াছড়ির গুইমারা ও সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় তিন পদে (সাধারণ নির্বাচন) ভোট হবে। চেয়ারম্যান পদে ভোট হবে কুড়িগ্রাম সদর, পাবনার সুজানগর, বরিশালের বানারীপাড়া, গৌরনদী, ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া, পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী, কুমিল্লার আদর্শ সদর, নাটোরের বড়াইগ্রাম এবং কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে। এ ছাড়া ভাইস চেয়ারম্যান পদে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম, নীলফামারীর জলঢাকা, সাতক্ষীরার কলারোয়া ও বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ এবং নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে পাবনার ঈশ্বরদী, কুমিল্লা সদর দক্ষিণে ভোট হবে। একই দিন গলাচিপা পৌরসভায় (পটুয়াখালী) মেয়র পদে উপনির্বাচন ও তিন পৌরসভার তিন ওয়ার্ডে কাউন্সিলর উপনির্বাচন হবে।

ইসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভোটকে ঘিরে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে ইসি। নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে। গতকাল শনিবার থেকে এসব এলাকায় টহল দেয়া শুরু করেছেন বিজিবি ও র‌্যাবের সদস্যরা। এ ছাড়া নির্বাচন মনিটরিংয়ের জন্য আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সেল গঠন করেছে ইসি। ভোটের দিন ইসি সচিবালয়ে এ টিম কাজ করবে। তারা নির্বাচন কমিশনকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করবে।

তারা জানান, যেসব উপজেলায় উপনির্বাচন আছে, সেগুলোতে দু’জন এক্সিকিউটিভ ও একজন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হয়েছে। এ ছাড়া তিন উপজেলার সাধারণ নির্বাচনে প্রতিটি উপজেলার জন্য ৪ জন এক্সিকিউটিভ ও একজন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হয়েছে। অন্যদিকে সাধারণ ভোট কেন্দ্রের জন্য ১৫ এবং গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ১৬ জন সদস্য নিয়োজিত থাকবেন।