যুদ্ধের ময়দানে ক্রিকেট!

স্পোর্টস আপডেট ডেস্ক – আট বছর পর আজ পাকিস্তানে ক্রিকেটের বড় কোনো টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে পিএসএলের ফাইনালে মুখোমুখি হবে কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটস ও পেশোয়ার জালমি। তবে ফাইনাল আয়োজন নিয়ে স্বস্তিতে নেই পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। কেননা কোয়েটারের বিদেশি ক্রিকেটার কেভিন পিটারসেন, লুকরাইট ও ডেভিড সালান জানিয়ে দিয়েছেন তারা ঝুঁকি নিয়ে লাহোরে যাবেন না।

অন্যদিকে পেশোয়ার জালমির বিদেশি ক্রিকেটাররা লাহোরে যাবেন বলে আশা করছেন দলটির মালিক জাভেদ আফ্রিদি। বাংলাদেশের এনামুল হক বিজয় এবার পিএসএলে খেলছেন কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটসে। তাকে লাহোরে ফাইনাল খেলার অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। তিনি এখন লাহোরে। ফাইনাল উপলক্ষে লাহোরে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুলিশ ছাড়াও শহরে সেনাবাহিনী টহল দিচ্ছে। ফাইনাল শেষ না হওয়া পর্যন্ত সব মার্কেট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আর এই অবস্থায় যেন বলাই যায়, যুদ্ধের ময়দানে ক্রিকেট। কম কি তাতে ?

cricket lahore

পাকিস্তানের ঘরোয়া ক্রিকেট পাকিস্তানে হবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু দেশটিতে যে ভয়ঙ্কর অবস্থা বিরাজ করছে সেখানে লাহোরে ফাইনাল আয়োজনের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড ম্যাচটি সফল সমাপ্তির জন্য সব রকমই ব্যবস্থা নিয়েছে। শুধু পুলিশ নয়, লাহোর শহরে সার্বক্ষণিক সেনাবাহিনীও টহল দিচ্ছে। শহরে সব মার্কেট বন্ধ রাখা হয়েছে। সন্দেহভাজন মনে হলেই গ্রেফতার করা হচ্ছে। এছাড়া হেলিকপ্টারও টহল দিচ্ছে। পিসিবি চাচ্ছে এই ফাইনাল শান্তিপূর্ণভাবে শেষ করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফিরিয়ে আনতে।

পাকিস্তানের দৈনিক দ্য ডন জানিয়েছে, পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা বেষ্টনী থাকছে দু’দলের ক্রিকেটারদের জন্য। বুলেটপ্রুফ বাসে করে হোটেল থেকে স্টেডিয়ামে যাতায়াত করবেন ক্রিকেটাররা। তাদের যাতায়াতের রাস্তায়ও ভারী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে পাহারায় থাকবে কমান্ডো বাহিনী রেঞ্জার্স। পাকিস্তান সেনাবাহিনী ও রেঞ্জার্স এরই মধ্যে স্টেডিয়ামের চারপাশে বাংকার বানিয়ে অস্ত্র-গোলাবারুদ নিয়ে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। শুধু তাই নয়, যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় যুদ্ধক্ষেত্রের মতো গাদ্দাফি স্টেডিয়াম লাগোয়া হকি স্টেডিয়ামে ২৫ শয্যার একটি অস্থায়ী হাসপাতালও স্থাপন করা হয়েছে।