নন্দীগ্রামে ছাত্র পিটানো আলোচিত সেই দুই শিক্ষক বরখাস্ত

মুনিরুজ্জামান মুনির, নন্দীগ্রাম প্রতিনিধি: বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার কুমিড়া পন্ডিতপুকুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র কাওছার মাহমুদ (১৪) কে বেত্রাঘাত করার ঘটনায় দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে শনিবার বিকেলে প্রধান শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত এবং খন্ডকালীন শিক্ষককে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

borkhasto

গত মঙ্গলবার দুপুর ২টায় দিকে প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলামের নির্দেশে সহকারী শিক্ষক আমজাদ হোসেন (অবসরপ্রাপ্ত) স্কুলের ভিপি সাদিয়া আকতার মারফত কাওসার মাহামুদকে শ্রেণি কক্ষ থেকে অফিস কক্ষে নিয়ে যান। তাকে কোন কিছু জিজ্ঞাসা না করে অফিস কক্ষের দরজা বন্ধ করে প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম ও সহকারী শিক্ষক আমজাদ হোসেন (অবসরপ্রাপ্ত) মোটা বেত দিয়ে বেদম প্রহার করে। পরে তাকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে কাওছার মাহামুদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

এ ঘটনার বিচার চেয়ে কাওছারের বাবা হাসান মাহমুদ বুধবার শিক্ষামন্ত্রী বরাবর অভিযোগ দেন। পাশাপাশি নন্দীগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগের অনুলিপি দেন তিনি।

অভিযোগের ভিত্তিতে গত বৃহস্পতিবার ওই স্কুলে গিয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোতাহার আলী তদন্ত করে নবম শ্রেণির ছাত্র কাওছার মাহমুদকে মারপিটের ঘটনা সত্যতা পান।

পরে গত শনিবার এই বিদ্যালয়ে ম্যানেজিং কমিটির জরুরি সভায় প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত ও খন্ডকালীন শিক্ষক আমজাদ হোসেনকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে কুমিড়া পন্ডিতপুকুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মাহবুব হোসেন উজ্জল জানান, বেত্রাঘাত আইনসংঘত না হওয়ায় ও কমিটির সাথে আলোচনা না করে ওই দুই শিক্ষক ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে ছাত্রকে মারপিট করার কারণে প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত ও খন্ডকালীন শিক্ষক আমজাদ হোসেনকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

আজ রবিবার দুপুরে উপজেলা মাধ্যমিক কর্মকর্তা মোতাহার আলীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে কাওসারকে অমানষিক নির্যাতনের সত্যতা পাওয়া গেছে। সেই অনুযায়ী স্কুল পরিচালনা কমিটি দায়ী শিক্ষকদের বরখাস্ত করেছেন। এছাড়াও তদন্ত প্রতিবেদন আজ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে দাখিল করবেন বলেও জানান তিনি।