চোরাচালানিদের পছন্দ বকশীগঞ্জ সীমান্ত

আবদুল লতিফ লায়ন, জামালপুর প্রতিনিধি: জামালপুরের বকশীগঞ্জ সীমান্তপথ চোরাচালানিদের কাছে পছন্দের রুটে পরিণত হয়েছে।

boksigonj

একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে ভারত থেকে প্রতিদিন কয়েক হাজার গরু বাংলাদেশে পাচার হচ্ছে। সেই সঙ্গে পাচার হচ্ছে বিভিন্ন মাদকদ্রব্যও।

ভারতীয় মেঘালয় রাজ্যের সীমান্তঘেঁষা বকশীগঞ্জ উপজেলার বিশাল এলাকা জুড়ে রয়েছে টিলা ও বনভূমি। বাংলাদেশের গারোপাহাড়ের রামরামপুর, টিলাপাড়া, দিঘলাকোনা, হারিয়াকোনা, বাবলাকোনা গ্রাম ভারত সীমান্তের খুব কাছাকাছি অবস্থিত। বিজিবির জোন এরিয়া হওয়ায় উল্লেখিত গ্রামগুলোতে সহজে পুলিশ প্রবেশ করে না। কালক্রমে চোরাকারবারিদের নিরাপদ স্বর্গ রাজ্যে পরিণত হয়েছে সীমান্তবর্তী পাহাড়ি গ্রামগুলো। বকশীগঞ্জ উপজেলার ভারতীয় সীমান্ত ঘেঁষে গড়ে উঠেছে একটি চোরাকারবারি সিন্ডিকেট।

জানা গেছে, এই চক্রের নেতৃত্ব দিচ্ছেন গডফাদার আব্দুর রাজ্জাক ও ফিরোজ মিয়া। তাদের মাধ্যমেই প্রতিদিন সীমান্ত পেরিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে অবৈধভাবে আসছে শত শত গরু। ফলে সরকার প্রতিদিন মোটা অংকের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এছাড়া একই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নিয়মিতভাবে আসছে ফেন্সিডিল, গাঁজা, হেরোইন, বিদেশি মদ ও ইয়াবাসহ নানা মাদকদ্রব্য।

অভিযোগে জানা যায়, চোরাকারবারি আব্দুর রাজ্জাক বিজিবির কথিত নিয়ন্ত্রক। রাজ্জাক নিয়মিভাবে বিজিবির নামে মোটা অংকের চাঁদা তুলে থাকে। রাজ্জাক দাপটের সাথেই দীর্ঘদিন যাবত তার অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে ফিরোজ মিয়া নিয়মিতভাবে থানা পুলিশ, স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাংবাদিকদের নাম ভাঙিয়ে মাসোহারা আদায়ের দায়িত্ব পালন করে আসছে।

এ ব্যাপারে ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, চোরাকারবারের সঙ্গে আওয়ামী লীগের কোনো নেতাকর্মী জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ধানুয়া কামালপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল জানান, সীমান্তে বিজিবি-পুলিশ যৌথ অভিযান পরিচালনা করলে চোরাকারবারিদের ততপরতা বন্ধ করা সম্ভব হবে। তবে কামালপুর বিজিবি ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার আমিনুল ইসলাম জানান, এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে। সীমান্তে বিজিবির ততপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

বকশীগঞ্জ থানার ওসি আসলাম হোসেন বলেন, চোরাকারবারের ব্যাপারে পুলিশের সর্বোচ্চ নজরদারি রয়েছে। সিন্ডিকেট চক্র যতই শক্তিশালী হোক ছাড় দেওয়া হবে না।

এ ব্যাপারে জামালপুরের বিজিবির লেঃ কর্নেল আতিকুর রহমান সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান, গত এক সপ্তাহে শতাধিক চোরাই গরু উদ্ধার হয়েছে। তিনি জানান, বিজিবির কোনো দালাল নেই। বিজিবির নামে কেউ দালালি করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।