তাড়াশে পনেরশত সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাত্র একজন শিক্ষক

আশরাফুল ইসলাম রনি, তাড়াশ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার পনেরশত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় চলছে মাত্র একজন শিক্ষক দিয়ে। অথচ পদ রয়েছে পাঁচজন শিক্ষকের। স্কুল কখন শুরু হয় আর কখন ছুটি হয় এর কোনো নির্দিষ্ট সময় নেই। পিটি-প্যারেড হয় না ঠিকমত। জাতীয় সংগীত গাওয়া হয় না। স্কুলের একজন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রয়েছেন। সে আবার রয়েছেন ডেপুটেশনে।

vobon

জানা গেছে, বাংলাদেশ সরকার ঘোষিত দেশের যে সকল গ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই। সে অনুযায়ী সারাদেশে বিদ্যালয় বিহীন গ্রামে পনেরশতটি বিদ্যালয় স্থাপন করেন। আর তার জন্যই প্রতিটি বিদ্যালয়ের নামকরণ হয় পনেরশত বিদ্যালয় নামে। আর তাড়াশ উপজেলায় দুটি পনেরশত বিদ্যালয় স্থাপন হয়। এর একটি উপজেলার বারুহাস ইউনিয়নের লাউশন আব্দুল হামিদ পনেরশত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ২০১৪ইং সালে স্থাপিত হয়। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর বিদ্যালয়টির তিনটি শ্রেনী কক্ষ, একটি অফিস কক্ষ নিমার্ন করেন। বিদ্যায়রটিতে এক বিঘা জমি দান করেন আব্দুল হামিদ নামের এক ব্যাক্তি।

রবিবার স্কুলে গিয়ে দেখা যায়, লাউশন পনেরশত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণি থেকে ২য় শ্রেণি পর্যন্ত ৪৭ জন ছাত্রছাত্রীর মধ্যে অধিকাংশ শিক্ষার্থী উপস্থিত নেই। কারন হিসেবে জানা যায় বিদ্যালয়টি উপজেলার একটি দুর্গম অঞ্চল হওয়ায় এমনটা হয়। এখানে নেই কোন পাকা সড়ক। যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই নাজুক। তাই যাদের সাংসরিক অবস্থা সচ্ছল। তারা তাদের ছেলেমেয়েকে বাহিরে রেখে পড়ালেখা করান। এ জন্য শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম।

এ ব্যাপারে লাউশন আব্দুল হামিদ পনেরশত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এর প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) রাশেদুল ইসলাম সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান, সরকারে একটি মহৎ উদ্ধ্যেগে এ বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। এখানে মাত্র একজন শিক্ষক রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে কথা হয়েছে। অবিলম্বে শুন্যপদের শিক্ষক দেয়া হবে।

তাড়াশ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, আমাদের অন্য বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক সংকট রয়েছে। তারপরেও ডেপুটেশনে হলেও শিক্ষক দেয়া হবে।