‘কিছুদিন পর এই বক্তব্যও অর্থমন্ত্রী প্রত্যাহার করে নিতে পারেন’

সময়ের কণ্ঠস্বর- দারিদ্র্য বিমোচনে ক্ষুদ্রঋণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে’ অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের এমন মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘দেখুন, অর্থমন্ত্রী অনেক সময় অনেক কথাই বলেন। পরে আবার প্রত্যাহারও করেন। এটা তার ব্যক্তিগত মত হতে পারে। হয়তো কিছুদিন পর এটাও তিনি প্রত্যাহার করে নিতে পারেন। ’

1-118রবিবার দুপুরে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের পক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আওয়ামী লীগে যে কেউ যে তার মত প্রকাশ করতে পারে তারই উদারণ হচ্ছে অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য। তিনি অকপটে তার ব্যক্তিগত মত প্রকাশ করেছেন। এটাই হচ্ছে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ গণতান্ত্রিক সৌন্দর্য্য। ’

ক্ষুদ্র ঋণের মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছ থেকে দ্বিগুণ টাকা আদায় করা হয় মন্তব্য করে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘শেখ হাসিনা সরকার ক্ষুদ্র ঋণের পরিবর্তে ক্ষুদ্র অনুদান প্রকল্প চালু করেছে। একটি বাড়ি, একটি খামার প্রকল্পের মাধ্যমে এ অনুদান বাস্তবায়ন করা হয়। প্রতিটি গ্রামে, ইউনিয়নে, উপজেলায় কমিটির মাধ্যমে যে টাকা সঞ্চয় করা হয়, সরকার থেকে এর দ্বিগুণ টাকা অনুদান দেওয়া হয়। জনগণকে ক্ষুদ্র ঋণের আষ্টেপৃষ্ঠে বাঁধার পরিবর্তে জনগণ যাতে সঞ্চয় করতে পারে সেই ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর ফলেই দেশে দারিদ্র্র্য বিমোচন হচ্ছে। ’

দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি যুক্তরাষ্টের চেয়ে অনেক ভালো উল্লেখ করে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র বিভাগের এ প্রতিবেদনে সরকারের জঙ্গী দমন কর্মকান্ডেরও সমালোচনা করা হয়েছে। আমাদের দেশের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী জঙ্গীবাদ দমনে যেভাবে দক্ষতা দেখিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও তা দেখাতে পারেননি।

দেশের প্রতিটি খাতে সরকারের অভূতপূর্ব সফলতার চিত্র তুলে ধরে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্ষুদ্র ঋণের পরিবর্তে ক্ষুদ্র অনুদান প্রকল্প হাতে নেওয়ায় দেশের এ অভাবনীয় উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে।

ক্ষুদ্র ঋণকে সম্মানের সাথে ভিক্ষাদান হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ক্ষুদ্র ঋণের কুফলে দেশের প্রান্তিক দরিদ্রগোষ্ঠীর মানুষ ঋণের আষ্টেপৃষ্ঠে বন্দী হয়ে যায়। এতে তারা দরিদ্র থেকে দরিদ্রতর হতে থাকে।