সাপাহারে চলতি মৌসুমে আমের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

নয়ন বাবু, সাপাহার প্রতিনিধি: নওগাঁ জেলার খাদ্য ভান্ডার ও আমের রাজধানী হিসেবে পরিচিত সাপাহার উপজেলায় এবারে কৃষকের বাগানে বাগানে আমের মুকুলের মৌ মৌ গন্ধে চারিদিক মুখরিত হয়ে উঠেছে।

ame

প্রতিটি বাগানে যে হারে মুকুল এসেছে কোন রকম বালাই ছাড়া আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে এবারে আমের বাম্পার ফলন হতে পারে বলে একাধিক বাগান মালিক সহ উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা গেছে। বাগান মালিকগন এখন থেকেই সকল প্রকার কিট পতঙ্গের অনিষ্ট হতে রক্ষা পেতে বাগানে মুকুলেই কীটনাশক স্প্রে করে চলেছে। গাছে আমের মুকুল দেখে প্রতিটি বাগান মালিক নাওয়া খাওয়া ছেড়ে এখন থেকেই বাগানে সময় কাটাতে শুরু করেছেন।

উপজেলার অসংখ্য বাগান মালিকের সাথে কথা হলে তারা জানান, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবারে আমের ব্যাপক ফলন হতে পারে বলে তারা আশা করছেন। সৃষ্টিকর্তা আবহাওয়া অনুকুলে রাখলে এবারে প্রতি বিঘা বাগানে তারা ১ লক্ষ থেকে সোয়া লক্ষ টাকার আম বিক্রি করতে পারবেন বলেও প্রতিবেদককে জানিয়েছেন। সাপাহারের আমের বাগানে ব্যাপক হারে ফলনের জন্য গাছের অপুরনীয় ক্ষতিকারক ভারতীয় হরমোন জাতীয় ঔষধ কালটার ব্যাবহারের বিষয়ে একাধীক বাগান মালিকদের সাথে কথা হলে তারা এখনও ওই ঔষধটির নাম শোনেননি বলে জানান।

এছাড়া সাপাহারের মটিতে প্রতিবছর যে হারে আমের মুকুল ও ফলন হয়ে থাকে তাতে করে ওই হরমোনের কোন প্রয়োজন আছে বলে তারা মনে করেন না। ইতো মধ্যেই সাপাহারের আম বহিঃ বিশ্বে রপ্তানির জন্য বাংলাদেশ রপ্তানি বিভাগের ডেপুটি ডাইরেক্টর আনোয়ার হোসেন সাপাহার উপজেলা কৃষি অফিসে এসে উপজেলার বিভিন্ন আম বাগান গুলি পরিদর্শন করেছেন। তিনি হাইজানিক পদ্ধতিতে প্রতিটি আম ব্যাগিং, বাগান পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রেখে ও পরিমিত পরিমান কীট নাশক স্প্রে করে আম চাষের জন্য বাগান মলিকদের পরামর্শ দিয়েছেন। সে মতে অনেক বাগান মালিক এখন থেকেই তাদের বাগানগুলো পরিষ্কার পরিচ্ছন্নসহ কীটনাশক ব্যাবহারের লক্ষমাত্রা অনেকাংশে কমিয়ে দিয়েছেন।

কোন কারণে আমের বাজারে দরপতন ঘটলে সাপাহার উপজেলার আম চাষীগন অপুুরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হবে বলে অভিজ্ঞ মহল মনে করছেন। তাই তারা ও উপজেলাবাসী ব্যক্তিগত উদ্যোগ কিংবা সরকারী ভাবে অচিরেই উপজেলায় একটি জুস জেলীর কারখানা বা একটি বৃহত্তম আম সংরক্ষনাগার/ হিমাগার নির্মানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট আকুল আবেদন জানিয়েছে।

এবারে উপজেলায় ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে উচ্চ ফলনশীলসহ বিভিন্ন জাতের তৈরী কৃত আমের বাগান থেকে প্রায় দেড় লক্ষ টন বা ৪০ হাজার লক্ষ মন আম উৎপাদন হতে পারে বলে উপজেলা কৃষি অফিসার এএফএম গোলাম ফারুক হোসেন জানিয়েছেন।