জামালপুরে আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে তামাক চাষ

আবদুল লতিফ লায়ন, জামালপুর প্রতিনিধি: জামালপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীরচর, তুলশিপুর ও বারুয়ামারী এলাকাসহ জেলার বিভিন্ন চরাঞ্চলে তামাক চাষ করে অধিক লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা।

tamak

বিড়ি ও সিগারেট কোম্পানীর মালিকরা কৃষকদের তামাক চাষে আগ্রহী করায় জামালপুরে দিন দিন আশঙ্কাজনক হারে তামাক চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। অথচ স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক এই তামাক চাষ রোধে কেউ কোন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন না।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, জামালপুর সদর উপজেলার লক্ষীরচর ইউনিয়নের চর গজারিয়া ও চরপাড়া গ্রামে এবং একই উপজেলার তুলশিপুর ও বারুয়ামারী এলাকায় প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও মাঠের পর মাঠে ব্যাপক হারে তামাক চাষ হয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশী তামাক চাষ হয়েছে লক্ষীরচর ইউনিয়নের চর গজারিয়া ও চরপাড়া এলাকায়।

চর গজারিয়া গ্রামের তামাক চাষীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এক বিঘা জমিতে ধান বা অন্যান্য ফসল চাষ করে উৎপাদন ব্যয় বাদে মাত্র ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা আয় হয়। আবার অনেক সময় লোকসানও গুনতে হয় কৃষকদের। অপরদিকে এক বিঘা জমিতে তামাক চাষ করে উৎপাদন ব্যয় বাদে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা আয় হয়। তামাক চাষে মাটির উবর্রা শক্তি বৃদ্ধি পাওয়ায় বোরো চাষে জৈব সারের প্রয়োজন হয়না। এ জন্য কৃষকরা অধিক লাভের আশায় তামাক চাষের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।

জামালপুর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাখাওয়াত ইকরাম সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান, জামালপুর সদর উপজেলায় বিভিন্ন বিড়ি ও সিগারেট কোম্পানীর প্রতিনিধিরা আর্থিক সহায়তা করায় এই ফসল উৎপাদনে কৃষকরা অধিক লাভবান হচ্ছেন। তামাক চাষ স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হওয়ায় উপজেলা কৃষি অফিস থেকে কৃষকদের তামাক চাষের পরির্বতে লাভজনক সবজি চাষে উদ্ভুদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই জামালপুরের চাষীরা ব্যাপক হারে সবজি চাষ শুরু করেছেন।

জামালপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক আবু হানিফ সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, জামালপুরে এ বছর ৪০ হেক্টর জমিতে তামাক চাষ হয়েছে। তবে তামাক চাষে নিরুৎসাহিত করতে কৃষি বিভাগের কর্মীরা কাজ করছেন। কৃষকদের সচেতনমুলক নানা কর্মসুচি পালন করায় সম্প্রতি তামাক চাষ কিছুটা কমে এসেছে। তামাক চাষে কোন বিরূপ প্রতিক্রিয়া আছে কি না ? এমন প্রশ্নের জবাবে ওই কর্মকর্তা বলেন, তামাক খেলে ক্ষতি হয়। তবে তামাকের নির্যাস থেকে জৈব বালাই নাশক তৈরী করা হচ্ছে। যা বিষমুক্ত কিটনাশক বা পরিবেশ বান্ধব সবজি চাষে ব্যবহার করা হয়।