স্কুল ছাত্রীকে নির্যাতন: শ্লীতাহানী করে ভিডিও করা রেজাউলকে আটকের পর ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ!

মোঃ ফেরদাউছ সিকদার, বরিশাল প্রতিনিধি:

নলছিটিতে এক স্কুল পড়ুয়া ছাত্রীকে নির্যাতন, শ্লীলতাহানি ও ভিডিও ধারণের ঘটনায় পৌর মেয়র তসলিম চৌধুরীর ভাতিজা স্থানীয় সন্ত্রাসী রেজাউল চৌধুরী ওরফে খোজা রেজাউলকে আটকের পর গভীর রাতে রহস্যজনক কারণে থানা থেকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ।

অভিযোগ উঠেছে, ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর র‌্যাবের হাতে আটক থেকে বাঁচাতে রেজাউলকে থানায় নিয়ে আটক নাটক করেছে নলছিটি থানার পুলিশ কর্তারা। এ নিয়ে এলাকায় তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

জানা গেছে, শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে এক স্কুল পড়ুয়া মেয়েকে নির্যাতন ও শ্লীলতাহানির ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। এটি ফেইসবুকে লাইক, কমেন্টস ও শেয়ারের মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে উঠলে রেজাউলসহ ওই ঘটনায় জড়িত অন্যান্য অপরাধীদের আটক ও শাস্তির দাবিতে ফেইসবুক ঝড় ওঠে। ঘটনাটি বরিশালস্থ র‌্যাব-৮ এর সদস্যরা জানতে পেরে রেজাউলসহ অন্যান্য অপরাধীদের আটকের চেষ্টায় নলছিটিতে আসে ও অপরাধীদের খোঁজখুজি শুরু করে। অবস্থা বেগতিক দেখে র‌্যাবের হাতে আটক ঠেকাতে পুলিশ নাটক করে নলছিটি থানার একজন উপ-পরিদর্শকের মাধ্যমে রেজাউলকে শুক্রবার সন্ধ্যায় থানায় নিয়ে আসে। নলছিটি থানার ওসি(অপারেশন) একেএম সুলতান মাহমুদ ও ওসি(তদন্ত) সাখাওয়াত হোসেন তপু এ নাটকে প্রধান ভূমিকায় থাকেন। রাতে র‌্যাব নলছিটি থেকে ফিরে গেলে রাত ২টার দিকে নলছিটি পৌরসভার এক কাউন্সিলরের মধ্যস্থতায় রেজাউলকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।

(এর আগের প্রকাশিত খবর) ছাত্রীকে বোরকা খুলতে বাধ্য করার দৃশ্য নিয়ে তোলপাড়! (ভিডিও)

অভিযোগ উঠেছে, মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময়ে রফদফার মাধ্যমে রেজাউলকে পুলিশ ছেড়ে দেয়। একাধিক সূত্রে জানা গেছে, রেজাউলের বিরুদ্ধে এক যুবলীগ নেতাকে হত্যাচেষ্টাসহ নলছিটি একাধিক মামলা ও জিডি রয়েছে। ঢাকার চিহ্নিত ছিনতাইকারী রেজাউল ২০১২ সালে নলছিটি পৌর এলাকার নান্দিকাঠীতে গড়ে তুলেছেন নিজস্ব বাহিনী। এলাকায় চাঁদাবাজি, জমিদখল ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের মাধ্যমে ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করেন।

nolchiti-school-girl-evetisingএই সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় সংবাদ প্রকাশের জেরে একাধিক স্থানীয় সংবাদিকর্মী তার পালিত সন্ত্রাসীদের দিয়ে লাঞ্ছিত হয়েছেন। এসব ঘটনায় একাধিকবার থানায় সংবাদকর্মীরা অভিযোগ দিলেও নলছিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম সুলতান মাহমুদ কোন ব্যবস্থা নেননি বলে সংবাদকর্মীরা অভিযোগ করেন। নলছিটিতে ত্রাস সৃষ্টিকারী রেজাউল বাহিনীর হাতে নান্দিকাঠী ও তালতলা রাস্তার মোড়ে প্রায়ই স্কুল ও কলেজ পড়ুয়া ছাত্রীরা শ্লীলতাহানি ও যৌন হয়রানির শিকার হলেও কেউ ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পায়নি। রেজাউল এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করলেও পুলিশ তাকে রহস্যজনক কারনে গ্রেফতার করেনি। এই বাহিনীর সেকেন্ড-ইন-কমান্ড রমিজ ওরফে বোমা রমিজ। তালতলা রাস্তার মোড়ে একটি বাড়িতে রমিজের আস্তানা। ইয়াবা ব্যবসায়ী এই রমিজ পুলিশের হাতে আটক হয়ে বেশ কয়েকবার জেল খেটেছেন। নলছিটি থানার সাবেক ওসি আবুল খায়ের বিপুল পরিমান ইয়াবাসহ তাকে সর্বশেষ গ্রেফতার করেন। এরপর রমিজকে ধরতে আর কোন অভিযান পরিচালনা করেনি পুলিশ।

অভিযোগ রয়েছে, নলছিটি থানা পুলিশের একাধিক এস.আই মাসোয়ারার বিনিময়ে রেজাউল ও বোমা রমিজকে সেল্টার দিয়ে থাকেন। রেজাউল নিজেকে নলছিটি উপজেলা আ’লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র তছলিম উদ্দিনের ভাতিজা পরিচয় দিয়ে অপকর্ম করে বেড়ান বলে এলাকাবাসীরা জানান।

রেজাউলকে আটকের ব্যাপারে নলছিটি থানার ওসি(তদন্ত) সাখাওয়াত হোসেন তপু সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, জিঙ্গাসাবাদের জন্য রেজাউলকে থানায় আনা হয়েছিল। এ ঘটনায় কোন অভিযোগকারী না পাওয়ায় রেজাউলকে মুচলেকা রেখে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

এ ব্যপারে ঝালকাঠি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আব্দুর রকিব সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, রেজাউল এ ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তবে ভিকটিমের পরিচয় না পাওয়ায় তাকে আইনের আওতায় আনা যায়নি।