ফুলবাড়ীতে গমের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

অনীল চন্দ্র রায়, ফুলবাড়ী প্রতিনিধি: আবহাওয়া অনুকুল থাকায় এ বছরে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার ৬ টি ইউনিয়নের গমের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।

gome-casa

বেশির ভাগ কৃষক কৃষি বিভাগের সুবিধা থেকে বঞ্চিত। তারপরেও গত বছরের চেয়ে এ বছর কৃষকরা বেশি করে গম চাষ করেছে। তাই কৃষকরা বিভিন্ন জাতের উচ্চ ফলনশীল গম যেমন বারী – ২৫,২৬ শতাব্দী, কাঞ্চন ও জনতা নামের গম চাষ করা হয়েছে। ১১০-১২৫ দিনের মধ্যে এ ফসল ঘরের তোলার সুযোগ থাকায় উপজেলার কৃষকরা গম আবাদে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। যেখানে প্রতি মন বোরোর উৎপাদন ব্যায় বর্তমানে প্রায় ৬৫০ টাকা সেখানে গমের মন প্রতি উৎপাদন ব্যায় প্রায় ৫০০ টাকা। অথচ বোরো ধানের দাম প্রতি মন ৬০০-৬৫০ টাকা। গমের দাম প্রতি মন ৯শ থেকে ১ হাজার টাকা।

পাশাপাশি বোরোর চেয়ে গম প্রাকৃতিক দুযোর্গ সহ কীট পতঙ্গের আক্রমন অতিরিক্ত প্রতিরোধ ক্ষম। বোরোর আবাদে লোকসানের ঝুঁকি রয়েছে যা গমের আবাদে নেই। ভাল মুনাফার আশার এখানকার কৃষকরা বেশি বেশি করে গম চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। এ মৌসুমে শেষ প্রর্যন্ত আবহাওয়া অনুকুল থাকলে একর প্রতি বিঘায় ১৩ থেকে ১৫ মন গম ঘরে তুললতে পারবেন বলে কৃষকরা আশা করেছেন।

নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের গোরকমন্ডপ গ্রামের কৃষক সাত্তার আলী জানান, গত বছর গম চাষ করি নাই। উপজেলা কৃষি বিভাগ থেকে কোন ধরণের সুযোগ সুবিধা পাই নাই, তারপরেও এ বছর দুই বিঘা জমিতে গম চাষ করেছি। ফলনও ভাল হয়েছে। যদি কোন ধরনের দুযোর্গ না হয় তাহলে প্রতি বিঘায় ১২ থেকে ১৪ মন গম ঘরে তুলতে পারবো। বোরো চাষের চেয়ে গম চাষের লাভ অনেক বেশি।

এ ব্যাপারে ফুলবাড়ী উপজেলা কৃষি অফিসার মাহবুবুর রশিদ সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান, এ উপজেলায় এ বছর ৫২০ হেক্টর জমিতে কৃষকরা গম চাষ করা হয়েছে। উপজেলা কৃষি বিভাগ গম চাষের জন্য ৪৫ টি প্রদর্শনি ও ৩৬৮ টি জন কৃষকদের মাঝে বীজ, সার, বস্তাসহ বিভিন্ন উপকরণ দেওয়া হয়েছে। কৃষকরা যদি ফড়িয়াদের দৈরাত্ব কম হলে দিনে দিনে কৃষরা গম চাষের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠবে।