‘বিকাশের মাধ্যমে ৪টি ধাপে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতারক চক্র’

সময়ের কণ্ঠস্বর – প্রতারক চক্রের একজন সদস্য বিভিন্ন বিকাশ এজেন্টের নিকট বিকাশ বা ফ্লেক্সিলোড করার ছলে বিকাশ রেজিস্টার থেকে টাকা পাঠানোর তথ্য ও ফোন নম্বর সংগ্রহ করে। এই চক্রটি এরপর এসএমএস বা ফোনে চক্রের অন্য সদস্যকে ভুক্তভোগীর নম্বর ও টাকার পরিমাণ জানিয়ে দেয়। আরেকটি চক্র তখন ভুক্তভোগীর নম্বরে বিকাশের টাকা পাঠানোর মেসেজের হুবহু ভুয়া মেসেজ পাঠায়। আর সবশেষ চক্রটি কিছুক্ষণ পর ওই নম্বরে ফোন করে ভুলে টাকা চলে যাওয়ার কথা বলে অন্য একটি বিকাশ নম্বরে টাকা ফেরত দিতে বলে। ভিকটিম সরল বিশ্বাসে টাকা পাঠানোর পর তার বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে ওই টাকা প্রতারকের কাছে চলে যায়। এভাবেই বিকাশের মাধ্যমে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে একটি প্রতারক চক্র।

আজ সোমবার সকালে বিকাশের মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন – মো. মমিন মৃধা (১৯) এবং মো. হাসিবুল হাসান ফাহিম। এ সময়ে তাদের কাছ থেকে পাঁচটি মোবাইল সেট, ১৩টি মোবাইলের সিম, তিনটি ভুয়া জাতীয় পরিচয় পত্র এবং চারটি বিভিন্ন নামে জাতীয় পরিচয় পত্রের ছায়ালিপি উদ্ধার করা হয়।

সোমবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মির্জা আবদুল্লাহ হেল বাকী বলেন, চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি ডিএমপির শাহজাহানপুর থানার নয় নম্বর মামলার বাদী তার মেডিকেল পড়ুুয়া মেয়েকে বিকাশ এর মাধ্যমে টাকা পাঠানোর কিছুক্ষণ পরই তার কাছে একটি ভুয়া ক্ষুদেবার্তা আসে যাতে টাকা ক্যাশ ইন হয়েছে লিখা ছিল। বার্তাটি ছিল বিকাশের বার্তার মতই তবে প্রেরক ভিন্ন ছিল। পরবর্তীতে একজন প্রতারক ফোন করে এই মামলার বাদীকে জানায়, আপনার মোবাইলে ভুল বশত বেশি টাকা চলে গেছে, আমার এই নম্বরে টাকাটা পাঠিয়ে দিন। এমন তথ্যের ভিত্তিতে সরল বিশ্বাসে বাদী বিকাশের মাধ্যমে টাকা ফেরত পাঠানোর পর তার বিকাশ অ্যাকাউন্ট চেক করে দেখেন তার অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা চলে গেছে। এভাবে আসামিরা মিথ্যা তথ্য দিয়ে বাদীর কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

bkash crimeসিআইডি পুলিশের বিশেষ সুপার বলেন, এই ঘটনার আগে ও পরে আসামিরা ভিন্ন ভিন্ন সেট ও সিম ব্যবহার করে, যার একটি গত ৩০ জানুয়ারি গ্রেপ্তারকৃত আসামি মো. জিয়াউর রহমান মিশুর কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আজ সোমবার এই মামলার ঘটনার সাথে জড়িত আসামি মমিন মৃধা এবং হাসিবুল হাসান ফাহিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা উভয়ই দীর্ঘদিন যাবৎ মোবাইল ব্যাংকিং সংক্রান্ত প্রতারণা করে আসছে বলে তদন্তকারী কর্মকর্তার নিকট স্বীকার করে।