নাটোরে হ্যাচারিতে ক্যাম্বেল হাঁসের বাচ্চা ফুটিয়ে স্বচ্ছল হবার স্বপ্ন দেখছেন ঠান্ডু

তাপস কুমার, নাটোর প্রতিনিধি: নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার মশিন্দা ইউনিয়নের মশিন্দা কান্দিপাড়া গ্রামের মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান আনোয়ার হোসেন (৩০)। ডাক নাম ঠান্ডু। অবশ্য ঠান্ডু নামে এলাকায় এক বাক্যে সবাই চেনে তাকে। কারণ তিনি এলাকার একজন প্রসিদ্ধ ক্যাম্বল হাঁসের হ্যাচারী মালিক।

cam-has-bace

১৯৯৪ইং সাল থেকে জীবন জীবিকার লড়াইয়ে টিকে থাকার লক্ষ্যে ওই হ্যাচারী প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। প্রথমে ৩০ হাজার ডিম থেকে বাচ্চা ওঠানো প্রজজন প্রক্রিয়া শুরু করলেও বর্তমানে তিনি প্রতি মাসে ৪০ হাজার বাচ্চা প্রজজন প্রক্রিয়া চালু রেখেছেন বলে জানান তিনি। অর্থনৈতিক দৈন্যদশার মধ্যেও তিনি তার নিজ নামীয় মাত্র একবিঘা জমি বিক্রি করে হ্যাচারীর কাজ শুরু করেন।

পরিশ্রমী স্বামীভক্ত স্ত্রী ৪ সন্তানের জননী পরিয়া বেগম (২৬) তার ওই হ্যাচারী প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে অনুপ্রেরনা জুগিয়েছেন বলে তিনি দাবী করেন। স্ত্রী পরিয়া বেগম আর চার সন্তান নিয়েই গড়ে উঠেছে তার সংসার। তবে এটাও সত্য যে, তার হ্যাচারীতে ক্যাম্বেল বাচ্চা উৎপাদনে সফলতা এলেও নিত্যদিনের আর্থিক টানাপোড়নের কারনে হ্যাচারী কর্মসূচী সম্প্রসারণ বাঁধাগ্রস্থ হচ্ছে।

কারণ নিজ বাসভবন ছাড়াও পার্শ্ববর্তী তাড়াশ ও সলঙ্গা উপজেলার বিভিন্ন স্থানেও বানিজ্যিক ভাবে গড়ে তুলেছেন হ্যাচারী প্রতিষ্ঠান। বিভিন্ন গবেষনার মাধ্যমে বেড পদ্ধতিতে ওই হ্যাচারী গুলোর প্রজনন প্রক্রিয়া চলে। তিনি জানান, তার নিয়ন্ত্রনে প্রায় ৭০টি হ্যাচারীর মাধ্যমে ক্যাম্বেল হাঁসের বাচ্চা প্রজনন করে বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করে থাকেন। আর এই হ্যাচারীর বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি ক্যাম্বল হাঁসের ডিম তিনি মাত্র ১২ টাকায় কিনেন এবং সেটা বেড পদ্ধতিতে প্রজননের মাধ্যমে ২৭ দিনের মাথায় বাচ্চা উৎপাদন করে ২৮ দিনের মাথায় ১ দিন বয়সের বাচ্চা পাইকারদের কাছে বিক্রি করে দেন। পুরুষ বাচ্চা গুলো ২০ টাকা এবং নারী বাচ্চা গুলো ২৮ টাকা পিস দরে বিক্রি করে পাইকারদের মাধ্যমে সেগুলো বাজারজাত করে থাকেন।

পাইকাররা ওই ১ দিন বয়সের বাচ্চা গ্রামে গঞ্জে ভ্যানযোগে ঘুরে ঘুরে ফেরী করে ২৫ টাকা থেকে ৩৫ টাকা পিস বিক্রি করে থাকেন। কিন্তু আর্থিক দৈন্যতা তার হ্যাচারী প্রজনন প্রকল্পের বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন বলে তিনি জানান। তিনি ক্ষোভ ও দুঃখ ভরাক্রান্তে মনে ব্যক্ত করেন, চাঁচকৈড় সোনালী ব্যাংক ও কাছিকাটা জনতা ব্যাংকসহ বিভিন্ন মাইক্রোক্রেডিট সংস্থার আর্থিক সহযোগিতা আবেদন করেও তার কোনো সুফল খুঁজে পাননি তিনি।

মাত্র তিন লাখ টাকা হ্যাচারীতে বিনিয়োগ করেও সফলভাবে তিনি হ্যাচারীর কর্মকান্ড সম্প্রসারিত করতে পারছেন না। অদম্য ইচ্ছা আর গতিশীল মানসিকতা নিয়ে তিনি হ্যাচারী প্রকল্পের সফলতার মধ্যে দিয়েই প্রতিষ্ঠিত হতে চান এই সমাজ ব্যবস্থায়। কিন্তু তার হিসাব মতে ওই হ্যাচারী প্রকল্পের জন্য কমপক্ষে ১০ লাখ টাকা প্রয়োজন। যদি কোন সংস্থা, ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান তাকে প্রয়োজনীয় ঋনদানের মাধ্যমে অনুপ্রেরনার হাত প্রসারিত করেন তাহলে তার প্রতি চিরকৃতজ্ঞ থাকবেন বলে অভিমত ব্যক্ত করেন তিনি।