জামালপুরের নারিকেলি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান

আবদুল লতিফ লায়ন, জামালপুর প্রতিনিধি: জামালপুর সদর উপজেলা ঐতিহ্যবাহী নারিকেলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পড়ালেখার মান সন্তোষজনক হলেও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে দেওয়া হচ্ছে শিক্ষা।

pahtodan

প্রতিনিয়ত কোমলমতি শিশু কিশোরসহ শিক্ষকগন মাথায় উপর ভবনের মারাত্মক ফাটল, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেখানে বসে প্রতিদিন শিক্ষা দিচ্ছেন কোমলমতি শিশু-কিশোরদের। যে কোন মুহুর্তে ভবনের ছাদ ধ্বসে গেলে বড় ধরণের ঘটে যেতে পারে নানা অঘটন, বইতে পারে রক্তের বন্যা, ঝরতে পারে নিস্পাপ শিশুদের প্রাণ।

জানা যায়, ১৯৩৮ইং সালে নারিকেলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। আর ১৯৯৩ইং সালে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি নির্মিত হয়। দুর্নীতির মাধ্যমে  নিম্নমানের নির্মান সামগ্রী দিয়ে নির্মাণ করা হয় ভবনটি। তাই ভবনটি স্বল্প সময়ের মধ্যেই ফাটল ধরে। ভাঙ্গতে থাকে ছাদের আস্তরণ।  প্রতিষ্ঠানের জায়গার সঙ্কুলান না হওয়ায় বাধ্য হয়ে এই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই  প্রথম শ্রেণি ও চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠদান করানো হচ্ছে।

এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেহানা বেগম অতি দুঃখের সাথে বলেন, আমরা কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করেছি কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন সাড়া পাইনি। বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ছোরহাব মোল্লা ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন ব্যবস্থাপনা কমিটি, অভিভাবকদের পক্ষ থেকে একাধীকবার জেলা ও উপজেলা শিক্ষা অফিসে লিখিত ভাবে  ভবন সংস্কারের বিষয়ে আবেদন করেছি। কিন্তু কোন প্রকার সাড়া পাইনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন অভিভাবক এই প্রতিনিধিকে ক্ষোভের সাথে বলেন, ছাদ ধসে ছেলে মেয়েদের মাথার রক্ত ঝরলে অথবা প্রাণহানি ঘটলে কুম্ভকর্ণের ঘুম ভাঙ্গবে।

এ ব্যাপারে জেলা শিক্ষা অফিসার শহিদুল ইসলাম এর কাছে জানতে চাইলে তিনি সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, সরেজমিনে দেখে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জেলা প্রশাসক মোঃ শাহাবুদ্দিন খান সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, বিষয়টি উচ্চ পর্যায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হবে। কোনভাবেই শিশুদের ঝুঁকির মধ্যে রাখা যাবে না। সরকার পদক্ষেপ না নিলে ভবন নির্মানের দাবিতে আমরা প্রয়োজনে আন্দোলনে যাবো।