ভয়ংকর সেলফি তোলার শখ ! মা-বাবার চোখের সামনেই অকালেই প্রাণ গেলো ছেলের!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক –

হাতে থাকা স্মার্টফোনে নিজের ছবি তোলাকেই সেলফি বলে। নিজের বোধজ্ঞান হারিয়ে অনেকেই সেলফি তুলছেন। মনোচিকিৎসকরা এই সেলফি আসক্তদের বলছেন মানসিকভাবে অসুস্থ। সেলফি আসক্তরা সেলফি তুলছেন লাশের সঙ্গে, কবরে নেমে, দুর্ঘটনায় রক্তাক্ত মানুষের সঙ্গে। সেলফি তুলতে গিয়ে প্রাণবাজি রেখে হাসিমুখে দাঁড়িয়ে যাচ্ছেন বাস, ট্রেনের ছাদে, বাড়ির ছাদের কার্নিশে, পাহাড় চূড়ায়, ভয়ঙ্কর খাদের কিনারায়। বিপজ্জনক এই সেলফি আসক্তিতে বিশ্বজুড়ে ঘটছে দুর্ঘটনা, মরছে মানুষ…

তবুও থেমে নেই ভয়ংকর এই সেলফি তোলার শখ ! সম্প্রতি এমন এক ঘটনা ঘটিয়ে অকালে প্রাণ হারিয়েছে কলেজের এক ছাত্র।

ঘটনাস্থল ভারতের রাজধানী দিল্লি। ভারতের জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া কলেজের প্রথমবর্ষের ছাত্র আয়ুব রেল লাইনে সামনে দাঁড়িয়ে সেলফি তুলতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন।

জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মুহাম্মদ আয়ুব আত্মীয়ের বাড়িতে যাচ্ছিলেন। পুরনো দিল্লির বাসিন্দা আয়ুব ট্রেন থেকে হজরত নিজামউদ্দিন স্টেশনে নামেন। রেল লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা একটি মালগাড়ির মাথায় চড়ে সেলফি তুলতে যান। তখনই হাইটেনশন তারের সঙ্গে হাত লেগে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন তিনি। ঝলসে যায় শরীর।

selfi dengorus

পরিবারের লোকেদের চোখের সামনেই ঘটে দুর্ঘটনা। দেহ ময়নাতদন্তের পরে পরিবারকে দেওয়া হয়। মা বাবার বড় ছেলে সে। ঘটনায় শোকের ছায়া গোটা এলাকায়।

ভয়ানক মানসিক ব্যাধি

সেলফি তুলতে যারা সারাক্ষণ নিজের চেহারা-পোশাক নিয়ে ব্যস্ত, যারা রেস্টুরেন্টে খাওয়া বাদ দিয়ে, শপিংমলে শপিং বাদ দিয়ে, বন্ধুদের সঙ্গে থেকেও আড্ডা বাদ দিয়ে, ঘরোয়া উৎসব, সামাজিক উৎসবে মিলিত না হয়ে শুধু সেলফি তোলাতেই মগ্ন তারা মানসিকভাবে অসুস্থ বলেই দাবি করছেন চিকিৎসকরা।

মার্কিন গবেষকরা দাবি করেছেন, নিজের চেহারার প্রতি আকর্ষণ অনুভব করা মানসিক স্বাস্থ্যকে ঝুঁকির মুখে ফেলে দিতে পারে। আমেরিকান সাইক্রিয়াটিক অ্যাসোসিয়েশন দাবি করেছে, অতিরিক্ত নিজের ছবি তোলার প্রবণতা এবং সেই ছবি ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইটে দেওয়ার এই মানসিক সমস্যার নাম ‘সেলফিটিস’। গবেষকরা এই মানসিক সমস্যার সমাধানে সাময়িক চিকিৎসা হিসেবে কগনিটিভ বিহেভিয়েরাল থেরাপি (সিবিটি) কাজে লাগতে পরামর্শ দিয়েছেন।

মানসিক রোগের চিকিৎসকেরা দাবি করছেন, অতিরিক্ত সেলফি তোলার সঙ্গে নার্সিসিজম ও আসক্তিরও সম্পর্ক থাকতে পারে। সেলফি আসক্তরা ধীরে ধীরে এই আসক্তিতে মগ্ন হয়ে পারিবারিকভাবে ও সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন— একাকিত্ব, বিষণ্নতায় ভুগে নিজে থেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন।