আড়াইহাজারে ৩ হাজার গ্রাহককে কৃষি ব্যাংকের ‘লাল’ নোটিশ

এম এ হাকিম ভূঁইয়া, আড়াইহাজার প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার পৌরসভা শাখা কৃষি ব্যাংক থেকে বিভিন্ন খাতে বিতরণকৃত ঋণে এ পর্যন্ত প্রায় ১৭ হাজার গ্রাহককে ঋণ বিতরণ করেছে।

bank

এর মধ্যে সিসি প্রজেক্টসহ বিভিন্ন খাতে প্রায় ১০ হাজার গ্রাহক খেলাপিতে পরিণত হয়েছেন। এসব গ্রাহকদের মাঝে প্রায় ২০ কোটি টাকারও বেশি বকেয়া ঋণ রয়েছে। ঋণ পরিশোধের জন্য এরই মধ্যে লাল ব্যাংকটি রংয়ের কাগজে ‘লাল’ নোটিশ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সময় বেঁধে দিয়ে এরই মধ্যে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৩ হাজারের বেশি খেলাপি গ্রাহকের বরাবর নোটিশ পাঠানো হয়েছে। ব্যাংকটি আড়াইহাজার পৌরসভায় ১৯৭৯ তাদের কার্যক্রম শুরু করে।

অভিযোগ রয়েছে, ব্যাংকের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও স্থানীয় বেশ কিছু দালাল চক্রের যোগসাজোশে ভুয়া ঠিকানা ও কাগজপত্র দাখিল করে অনেকে ঋণ নিয়েছেন। তবে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপকের দাবী ঋণ বিতরণে স্বচ্ছতা ফিরে আনা হয়েছে। এতে খেলাপির সংখ্যাও কমে আসবে। প্রকৃত কৃষকের হাতে ঋণ পৌঁছে দিতে ও কাঙ্খিত সেবা দিতে এরই মধ্যে দালাল মুক্ত করা হয়েছে। তবে কুঋণ ঠেকাতে ব্যাংকটি এরই মধ্যে প্রকাশ্যে ঋণ বিতরণ কর্মসূচি চালু করেছে। জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কৃষি ব্যাংকের আরো তিনটি শাখা রয়েছে। এসব ব্যাংকে কিছু কর্মকর্তার অনিয়মের কারণে বিতরণকৃত ঋণের বিপরীতে খেলাপির সংখ্যা বাড়ছে।

ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, আড়াইহাজার পৌরসভা শাখা থেকে আর্থিক অন্তরভুক্তি কার্যক্রমের আওতায় ১০ টাকা হিসাব ৫ পার্সেন সুদে গাভী পালনের ঋণসহ টেক্সাইল ও কৃষির খাতে বিভিন্ন সময় ১৭ হাজার গ্রাহককে ঋণ বিতরণ করা হয়। এ পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার গ্রাহক খেলাপিতে পরিণত হয়েছেন। তাদের কাছে ব্যাংটির বকেয়া ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২০ কোটি টাকারও বেশি। ব্যাংকের পক্ষ থেকে নানাভাবে চেষ্টা করেও ঋণ পরিশোধের ব্যাপার কোনো প্রকার সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। ঋণ আদায়ের জন্য প্রাথমিক পর্যায়ে ‘লাল’ নোটিশ পাঠানো হচ্ছে। শত ভাগ আদায়ের লক্ষ্যে পর্যায়ক্রমে খেলাপিদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে ব্যাংকটি। এরই মধ্যে সর্ব্বোচ গুরুত্ব দিয়ে ৩ হাজার গ্রাহকের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।

প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে রয়েছে উপজেলার ঝাউগড়া এলাকায় ইয়াছিন ডেইরী খামারে ১০ লাখ টাকা, শ্রীনবাসদী এলাকায় মের্সাস ডানা টেক্সাটাইল ৮ লাখ ও হোগলাকান্তি বারী টেক্সটাইল ৬ লাখ টাকা। বিভিন্ন সময় বিতরণকৃত ঋণের বিপরীতে এমন প্রায় ১০ হাজার গ্রাহক খেলাপিতে পরিণত হয়েছেন। ঋণ পরিশোধ না করায় এর আগে বিভিন্ন খাতে গ্রহণকৃত ১২০ গ্রাহকের বিরুদ্ধে সার্টিফিকেট মামলা করা হয়েছে।

বারী টেক্সাইল মিলের মালিক শফিকুল বারী বলেন, সময়মতো ঋণ পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয়েছি। তবে ঋণ পরিশোধের ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ঝামেলা এড়াতে অচিরেই ঋণ পরিশোধ করা হবে।

মের্সাস ডানা টেক্সাটাইলের মালিক দুলাল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসায়ীক মন্দার কারণে লোকসান যাচ্ছে। তাই সঠিক সময়ে ঋণ পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয়েছি।

পৌরসভা শাখা কৃষি ব্যাংকের ব্যবস্থাপক মতিউর রহমান সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, আমরা কৃষিসহ বিভিন্ন খাতে প্রকাশ্যে ঋণ বিতরণ শুরু করছি। এতে কুঋণের প্রবনতা কমে আসবে। তিনি আরো বলেন, ‘খেলাপি ঋণ আদায়ে নিয়ম অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।’