মাধবপুরে গৃহবধুকে মৃত্যু নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যার অভিযোগ

gf


হামিদুর রহমান,মাধবপুর থেকেঃ

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার চৌমুহনী ইউনিয়নের হরিণখোলা গ্রামে পাপিয়া আক্তার পপি  (২০) নামে এক গৃহ বধুকে হত্যা করে লাশ ঘরের আড়ের সঙ্গে ঝুলিয়ে স্বামী পালিয়ে গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ সোমবার বিকেলে নিহত গৃহবধু ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেছে পুলিশ।

পপি আক্তার উপজেলার হরিণখোলা গ্রামের মৃত শাহজালাল মিয়ার মেয়ে। এ ঘটনার পর থেকে পপি’র স্বামী আরিফুল ইসলাম তারেক(২২)পলাতক রয়েছে। নিহত পপি’র মা রেজিয়া খাতুন ও প্রতিবেশীরা জানান ,উপজেলার চৌমুহনী খুর্শিদ স্কুল এন্ড কলেজে পপি অধ্যায়ন কালে ৬ মাস আগে পপিকে একই উপজেলার মঙ্গলপুর গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে আরিফুল ইসলাম তারেক অপহরণ করে। এ ঘটনায় পপির মা রেজিয়া খাতুন আরিফুল ইসলাম তারেকের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করে। পরবর্তীতে এ মামলাটি আপোষে নিষ্পত্তি করে পপি’র নামে তারেক ১২ শতক জমি দিয়ে পপিকে বিয়ে করে।

বিয়ের পর থেকে প্রায় ৫ মাস ধরে পপিকে নিয়ে তারেক ঢাকায় বসবাস করত: কিন্তু আরিফ পপিকে নানাহভাবে শারীরিক নির্যাতন করে পপি’র কাছ থেকে সাদা অলিখিত ষ্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে পপি’র গয়নাঘাটি রেখে দেয়। প্রতিদিনই পপি’র উপর অমানসিক নির্যাতন করা হত। নির্যাতন সহ্য না করতে পেরে গত ২ মার্চ গোপনে পালিয়ে পপি তার মায়ের নিকট হরিণখোলা গ্রামে চলে আসে এবং মায়ের নিকট এসব নির্যাতনের বিবরণ দেয়। স্ত্রী পালিয়ে এসে খবর পেয়ে তার স্বামী তারেকও রোববার বিকেলে পপি’র বাড়িতে এসে কেন চলে আসল এর কারণ জানতে চেয়ে পপিকে শাসায়। রোববার রাতে পপি ও তারেক একই ঘরে শুয়ে পড়ে। পপি’র মা সোমবার সকালে জামাতা ও মেয়েকে ঘরে রেখে টমেটো ক্ষেতে শ্রমিকের কাজ করতে যায়।

দুপুরে এসে দেখে তাদের শুয়ার ঘরের দরজা বন্ধ। কিন্তু একটি জানালা খোলা। জানালা দিয়ে দেখতে পায় পপি ঘরের আড়ের সঙ্গে ঝুলে রয়েছে। তার মায়ের অভিযোগ তারেক পপিকে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রেখে পালিয়ে গেছে। খবর পেয়ে মাধবপুর থানার কাশিমনগর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এস.আই এমরান হোসেন পপি’র মর দেহ উদ্ধার করে।

সোমবার বিকালে ঘটনার খবর পেয়ে চৌমুহনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আপন মিয়া ঘটনাস্থল ছুটে যান। কাশিমনগর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এস.আই এমরান হোসেন প্রতিবেদককে বলেন ময়না তদন্ত প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। স্বামী পলাতক থাকায় সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার রহস্য উদঘাটনের জন্য তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। মাধবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি)মোকতাদির হোসেন বলেন,লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য প্রেরণ করা হয়েছে ।