নওগাঁর আত্রাইয়ে কাঁঠালের মুচি পঁচা রোগে উদ্বিগ্ন চাষী

নাজমুল হক নাহিদ, আত্রাই প্রতিনিধি: নওগাঁর আত্রাইয়ে কাঁঠালের মুচি পঁচা রোগ ব্যাপক হারে দেখা দেওয়ায় দুশ্চিতা করছেন চাষীরা। এ রোগের প্রতিকার সম্পর্কেও তারা ভালো ভাবে জানেন না।

poca

উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামের কাঁঠাল গাছে গাছে এ রোগ দেখা দিয়েছে। তবে কৃষিবিদের মতে, দেশের প্রায় সব অঞ্চলে প্রচুর পরিমানে কাঁঠাল উৎপাদন হলেও এর বড় একটি অংশ মুচি পঁচা রোগে নষ্ট হয়।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, বিশ্বে প্রায় ৫০ প্রজাতির কাঁঠাল রয়েছে। এসব প্রজাতির অনেক গাছেই খাওয়ার উপযোগী উৎপন্ন করে। এ ফল কাচা ও পাকা দুই অবস্থাতে খাওয়া যায়। তবে এ জাতীয় ফলের ১৩টি রোগ শনাক্ত করা হয়েছে। তার মধ্যে একটি ছাত্রাকজনিত, একটি ভাইরাসজনিত, একটি শেওলাজনিত, একটি পরগাছাজনিত এবং ২টি শরীরবৃত্তীয় কারণ জনিত রোগ।

আমাদের দেশে ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসে কাঁঠালের গাছে গাছে ফুল বা মুচি আসতে শুরু করে। এসব মুচি থেকে কাঁঠাল হয়। মুচির মধ্যে স্ত্রী ও পুরুষ মুচি রয়েছে। পুরুষ মুচি থেকে কাঁঠাল হয় না। পরাগায়নের পর পুরুষ মুচিদের কাজ সম্পন্ন হয়। স্ত্রী মুচি আস্তে আস্তে বড় হতে থাকে পুরুষ মুচিগুলো শুকিয়ে বা পঁচে ঝরে যায়। কিন্তু সমস্যা হল যখন পুরুষ-স্ত্রী মুচি নির্বিচারে পঁচতে শুরু করে আর এটি হয় রোগের কারণ। রোগটির নাম কাঁঠালের মুচি পঁচা রোগ।

এ ব্যাপারে উপজেলার সিংসাড়া গ্রামের মোঃ রফিকুল ইসলাম জানান, আমরা গায়ের মানুষ, তাই আমরা সব কিছু বুঝে উঠতে পারিনা। কাঁঠালের মুচি পঁচা রোগের লক্ষণ ও এ রোগের প্রতিকার সম্পর্কে আমরা না জানার কারণে প্রতি বছর বড় ধরনের কাঁঠাল উৎপাদন থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। চলতি বছরেও আমার কাঁঠাল গাছে ব্যাপক হারে মুচি পঁচা রোগ দেখা দিয়েছে।

এ বিষয়ে আত্রাই উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের উদ্ভিদ সংরক্ষক কর্মকর্তা মোঃ শরিফুল ইসলাম সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান, কাঁঠাল গাছে মুচি পঁচা রোগ দেখা দিলে পঁচা মুচি মাটিতে না ফেলে গাছ থেকে অনেক দুরে নিরাপদ স্থানে মাটিতে পুঁতে ফেললে রোগ জীবাণু বেশি ছড়াতে পারবে না। এ রোগের উপর কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক পরামর্শ দিয়ে আসছে উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা বৃন্দ।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কে এম কাউছার হোসেন সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান, এ রোগের আক্রমণ প্রথমে মুচি বা কচি ফলের উপর নরম ভেজা ভেজা ছোট ছোট বাদামী দাগ পড়ে। পরে এ দাগ ছড়িয়ে পড়তে থাকে। এক সময় এ দাগ কালো ছাতার মতো আবরণে ঢেকে যায়। তিনি আরো বলেন, এ রোগের জীবাণু পঁচা, আবর্জনা, কাঁঠাল গাছের সরা-পঁচা, ডাল-পালা ও আগাছা ইত্যাদির মধ্যে বেঁচে থাকে। তাই কাঁঠাল গাছ ও নিচের জমি পরিচ্ছন্ন রাখলে এ রোগ অনেক কম হয়। এছাড়াও আক্রমণ ফল ভিজা বস্তায় জড়িয়ে তুলে মাটিতে পুঁতে ধ্বংস করতে হবে। এতে করে মুচি পঁচা রোগ অনেকাংশে কমে গিয়ে ভালো ফল আসবে।