সারাদেশে সরকারের চুড়ান্ত সিদ্ধান্তকে ‘বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে’ বহাল তবিয়তেই শোভা পাচ্ছে পরিবহনের বাম্পার!

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, সময়ের কণ্ঠস্বর-

বিভিন্ন সময়ে নানা অজুহাতে পাঁচবার সময় বাড়ানোর পর বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যানের বাম্পার, অ্যাঙ্গেল ও হুক অপসারণ করার চুড়ান্ত সময়সীমা শেষ হয়েছে গত ২৮ ফেব্রুয়ারী মঙ্গলবার।  তবে এখন অবধি সরকারী আদেশের তোয়াক্কা না করে পণ্যবাহী যানবাহন ও ট্রাকে বাম্পার অ্যাঙ্গেল ও হুক আছে বহাল তবিয়তেই! নামমাত্র কিছু কিছু পরিবহনের বাম্পার খোলা হলেও  অ্যাঙ্গেল ও হুক খুলতে নারাজ অধিকাংশ পরিবহন মালিকরা।

সরকারের পক্ষ থেকে পরিবহনের বাম্পার খোলার সিদ্ধান্তে সন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন প্রায় সব শ্রেনীর মানুষ। এমন সিদ্ধান্তকে ‘যুগান্তকারী’ উল্লেখ করে সাধুবাদ জানিয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাসও ফেলেছিলেন অনেকেই। তবে দুঃখজনকভাবে সরকারী  এমন সিদ্ধান্তকে ‘বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে’ চলেছেন অধিকাংশ পরিবহন মালিক ও শ্রমিকেরা। এমন ‘বিসদৃশ্যের ফলে আশাহত অনেকেই তাদের ক্ষোভ প্রকাশের সাথে আশংকা প্রকাশ করে বলছেন,   তবে কী সরকারের চাইত্তেও বেশি ক্ষমতা রাখে পরিবহন খাতের নেতা-কর্মীরা?

দুর্ঘটনা রোধে সরকারী সিদ্ধান্ত মোতাবেক পরিবহনে অবৈধভাবে যুক্ত করা অ্যাঙ্গেল, হুক, বাম্পার মালিকদের নিজ খরচে অপসারণ করার নির্দেশ ছিলো।  এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ধর্মঘটের ডাক দেয় পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের সংগঠনগুলো। আন্দোলনের মুখে বেশ কয়েক দফা সময় বাড়ানো হয়।

বেশ কিছু পরিবহন চালকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, পরিবহন মালিকেরাই শুধু নয় তাদেরও ‘অনীহা’ কাজ করছে ‘বাম্পার, অ্যাঙ্গেল ও হুক খোলার ব্যপারে।

এর আগে পণ্যবাহী পরিবহনের বাম্পার, অ্যাঙ্গেল ও হুক সরিয়ে ফেলতে গত বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছিল সরকার। এরপর চার দফায় সময় বাড়ানো হয়েছে। সর্বশেষ বর্ধিত সময়ও শেষ হয়েছে গত মঙ্গলবার ।

বিআরটিএ পরিচালক (রোড সেফটি) শেখ মাহবুব ই রাব্বানী  পরিবহনের বাম্পার খোলার ‘চুড়ান্ত নির্দেশনার’ বিষয়ে এর আগে জানিয়েছিলেন, পরপর চারবার সময় দেয়া হয়েছে আর কোনভাবেই সময় বাড়নো হবে না। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে অ্যাঙ্গেল, হুক ও বাম্পার অপসারণ না করলে সংশ্লিষ্ট পরিবহন মালিকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও ‘হুশিয়ারী দিয়েছিলেন তিনি।

Road-Transport-Bangladesh
অলংকরণ- সময়ের কণ্ঠস্বর

বিআরটিএ চেয়ারম্যান মশিয়ার রহমানও জানিয়েছিলেন, ‘ আর সময় বাড়বে না। নির্ধারিত সময়েই (২৮ ফেব্রুয়ারী  ২০১৭)র মধ্যেই অবৈধ অংশ অপসারণ করতে হবে।

পণ্যবাহী যানে পণ্য বহনের কেবিনের প্রস্থ চালকের কেবিনের সমান হওয়ার কথা। কিন্তু রাস্তায় এমন কোনো ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, লরি, ট্রেইলার পাওয়া যাবে না, যার পণ্যবহনের কেবিনের প্রস্থ চালকের কেবিনের চেয়ে বেশি নয়। অতিরিক্ত পণ্য বহন করতে কেবিনের বাইরে লাগানো হয় অ্যাঙ্গেল। এতে প্রস্থ দুই পাশে আরও চার ইঞ্চি বৃদ্ধি পায়। মালপত্র বাঁধার সুবিধার্থে ট্রাকে লাগানো হয় চোখা মাথার হুক। এতে ট্রাকের সুবিধা হলেও রাস্তায় চলাচলকারী অন্যান্য যানবাহনের জন্য ভয়ঙ্কর ঝুঁকি সৃষ্টি করে।

সড়ক দুর্ঘটনায় চালকদের বেপরোয়া গতির পেছনে ট্রাকের বাম্পার থাকার কারনকে দায়ী করে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন পরিবহনের বাম্পারে আটকে  প্রাণহানির ঘটনা ঘটে সবচেয়ে বেশি। এই বাম্পার থাকার কারনেই চালকেরাও ব্বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোর আত্মবিশ্বাস পায়। ফলে বাম্পার খুলে ফেললেই কমে যাবে গতি।   এসব বিষয়ের উপর পর্যালোচনা করে বিআরটিএ সব ধরনের যানবাহনের বাম্পার খুলে ফেলার নির্দেশ দিয়ে আসছে গত বছর থেকেই । কিন্তু কয়েকদফা সময় বাড়িয়েও আশার আলো দেখেনি সে নির্দেশনা ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের রাস্তায় চলাচলকারী কোনো যানবাহনেরই আকার ঠিক নেই। অতিরিক্ত যাত্রী ও পণ্য পরিবহন করতে পরিবহন মালিকরা নিয়ম ভেঙে যানবাহনের ইচ্ছামতো আকার-আকৃতি বানিয়ে নিয়েছেন। এসব যানবাহন বিনা বাধায় ফিটনেস সনদ পাচ্ছে বছর বছর। বিকৃত আকারের যানবাহনে ঘটছে দুর্ঘটনা। যাত্রীবাহী যানের আকার বিকৃতি রোধে কোনো উদ্যোগই নেই। যেসব বাসের কাঠামো দেশে বানানো হয়েছে, এর প্রায় ১০০ ভাগ ক্ষেত্রেই বাসের দুই পাশ চওড়া করা হয়েছে যাত্রীধারণ ক্ষমতা বাড়াতে। মহাসড়কে চলাচলকারী অধিকাংশ বাস ‘ওভাল শেপের’ (ডিম্বাকৃতির)।

 

Save