গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পরামর্শের জন্যে লন্ডন যাচ্ছেন খালেদা জিয়া

সময়ের কণ্ঠস্বর – যুক্তরাজ্য সফরে যাচ্ছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। সফরের প্রাথমিক দিনক্ষণ নিয়ে ঘনিষ্ঠ কয়েকজনের সঙ্গে আলাপ করেছেন তিনি। এপ্রিলের শেষে অথবা মে মাসে সুবিধাজনক সময়ে সফরসূচি চূড়ান্ত করতে সংশ্লিষ্টদের প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। চেয়ারপারসনের এমন চিন্তাভাবনার পর লন্ডন সফর নিয়ে প্রাথমিক কাজ শুরু করেছেন তারা। তবে লন্ডনে যাওয়ার আগে দলের পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শেষ করতে চান খালেদা জিয়া।

বাকি জেলা ও মহানগর কমিটি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর পুনর্গঠন কাজ দ্রুত শেষ করতে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের বিশেষ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। একাধিক পদ আঁকড়ে থাকা নেতাদের বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ফাঁকা পদগুলো পূরণ করতে বলেছেন তিনি। চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয় ও দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

জানতে চাইলে বিএনপির পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার প্রধান সমন্বয়ক দলের ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, নিয়মিত চিকিৎসার অংশ হিসেবে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া যুক্তরাজ্য সফরে যাওয়ার চিন্তা করছেন। তবে এখনও দিনক্ষণ চূড়ান্ত করা হয়নি। ২০১৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান খালেদা জিয়া। দীর্ঘ দুই মাসের বেশি সময় পরিবারের সঙ্গে কাটিয়ে ২১ নভেম্বর দেশে ফেরেন তিনি। যুক্তরাজ্যে দীর্ঘদিন অবস্থান করে ছেলে তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনা করে দলের সাংগঠনিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেন তিনি। পরে দেশে ফিরে দলের ষষ্ঠ কাউন্সিলের দিনক্ষণ ঘোষণা করেন।

khaleda-zia

তাই চিকিৎসার জন্য চেয়ারপারসন আবার লন্ডন যাওয়ার চিন্তাভাবনা করলেও তার এ সফরকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন দলটির নেতারা। তারা মনে করেন, ভবিষ্যতে দলের করণীয় বিশেষ করে নির্বাচনকালীন সরকার ইস্যুতে দলের অবস্থান কী হবে সেই বিষয়ে ছেলে তারেক রহমানের পরামর্শ নিতেই মূলত তিনি যুক্তরাজ্য যাচ্ছেন। আগামী নির্বাচনে বিএনপির অংশ নেয়া, না-নেয়ার বিষয়ে তাদের দু’জনের মধ্যে আলোচনা হতে পারে। এ ছাড়া সাংগঠনিক বিষয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হতে পারে। বিশেষ করে স্থায়ী কমিটির তিনটি ফাঁকা পদে কাদের নিয়োগ দেয়া যায় সেই আলোচনাও হতে পারে তাদের মধ্যে।

সূত্র জানায়, দল পুনর্গঠনের সর্বশেষ বিষয়ে জানতে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কয়েক নেতার সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে তিনি বলেছেন, আগামী এপ্রিল বা মে মাসে চোখের চিকিৎসা করাতে তিনি লন্ডন যাবেন। তার আগে দলের পুনর্গঠন কাজ যতদূর সম্ভব শেষ করতে নির্দেশ দিয়েছেন। বিশেষ করে, বাকি জেলা ও মহানগর এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন পুনর্গঠন এবং কেন্দ্রের যেসব পদ ফাঁকা রয়েছে তা পূরণ করতে বলা হয়েছে।

জানা গেছে, চেয়ারপারসনের নির্দেশনা বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। চেয়ারপারসনের লন্ডন যাওয়ার আগেই ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ, রাজবাড়ী, চট্টগ্রাম দক্ষিণ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নরসিংদী, বরিশাল মহানগর, লালমনিরহাট, নাটোর, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, টাঙ্গাইল, পঞ্চগড়, গাইবান্ধা, বরগুনা, হবিগঞ্জ, ময়মনসিংহ মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণের কমিটি গঠন দ্রুত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা। জেলা ও মহানগর পুনর্গঠনের পাশাপাশি মেয়াদোত্তীর্ণ বাকি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কাজও দ্রুত করা হবে।

এ বিষয়ে শাহজাহান বলেন, আমরা ইতিমধ্যে ৩২টি জেলা ও মহানগর কমিটি গঠন কাজ শেষ করেছি। ঢাকা মহানগরসহ আরও বেশ কয়েকটি কমিটি চূড়ান্তের পথে। আশা করছি, চলতি মাসেই কমিটি গঠনের কাজ অনেকদূর এগিয়ে নেয়া সম্ভব হবে।

সূত্র জানায়, বারবার উদ্যোগ নেয়ার পরও যারা একাধিক পদ ছাড়েননি চেয়ারপারসনের নির্দেশের পর তাদের ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে। যারা ইতিমধ্যে জেলার নতুন কমিটিতে সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন তাদের ব্যাপারে কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেয়া হচ্ছে। তৃণমূলে যাওয়ার পর কেন্দ্রে তাদের আর কোনো পদ নেই এমনটা জানিয়ে ইতিমধ্যে কয়েকজনকে ফোনও করা হয়েছে। যারা এখনও পদ ছাড়েননি তাদের ব্যাপারে দ্রুতই সিদ্ধান্ত নেবে কেন্দ্র। ওইসব নেতার কাছে ফোন করে জানতে চাওয়া হবে, একাধিক পদের মধ্যে তারা কোনটিতে দায়িত্ব পালন করতে চান। তাদের মতামত জানার পর কেন্দ্র থেকে সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেয়া হবে। তিনি যে পদে থাকতে চান সেটি বাদে বাকি পদগুলো বিলুপ্ত করে অন্য কাউকে ওই পদে বসানো হবে।

সূত্র জানায়, শুধু কেন্দ্রে নয়, জেলার মধ্যেও যারা একাধিক পদ দখল করে আছেন তাদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে। অনেক জায়গায় একই ব্যক্তি একসঙ্গে জেলা ও উপজেলার দায়িত্বে আছেন। একই ব্যক্তি একসঙ্গে জেলার পাশাপাশি মহানগর, উপজেলা বা পৌরের দায়িত্বে থাকতে পারবেন না। তিনি কোন পদে থাকতে চান তা জানার পর বাকি পদে নতুন কাউকে দায়িত্ব দেয়া হবে। একাধিক পদের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার পরই জাতীয় নির্বাহী কমিটির কতগুলো পদ ফাঁকা তার তালিকা করা হবে। এরপর যোগ্য ও ত্যাগীদের ওই পদে নিয়োগ দেয়া হবে।