অবৈধ্য ব্যাটারি চালিত রিকশা রাজশাহী শহর যানজটের প্রধান কারন

রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহী শহরে ইজি বাইক ও ব্যাটারি চালিত রিকশা যানজটের প্রধান কারণ। জেলার পূর্বে আলুপট্টি থেকে পশ্চিমে রাজশাহী কলেজ মুসলিম হোস্টেল পর্যন্ত যানজটে স্থবির। যার কারনে অফিস, আদালত এবং স্কুর কলেজের শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রী সময় মত গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছে না।

raj

রাজশাহী নগরীর ব্যস্ততম সড়কগুলো সাহেব বাজার, রেলগেট, লক্ষ্মীপুর, রাজশাহী কলেজ গেট, সোনাদীঘির মোড় যানজটের প্রবনতা অনেক বেশি। এসব এলাকায় ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত যানজটে পড়ে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ পথচারীসহ স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গামী শিক্ষার্থীদের।

এ বিষয়ে রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) ও মহানগর পুলিশ অটোরিকশা বন্ধের উদ্যোগ নিয়েছিল। কিন্তু শ্রমিক নেতাদের চাপে সেই সিদ্ধান্ত থেকে পিছু হটতে বাধ্য হয় ওই দুটি সংস্থা। জেলার সাহেব বাজার এলাকার ব্যবসায়ী এরফান আলী বলেন, ‘অটোরিকশার চাপে দোকানের সামনে কোনো খদ্দেরও সহজে কেনাকাটা করতে পারে না। রাজশাহী কলেজের ছাত্রী মৌ বিপা বলেন, সকাল থেকেই অটোরিকশার জ্যাম শরু হয় যার ফলে প্রত্যেকেরই সমস্যার মধ্যে পড়ে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, নগরীতে সব মিলিয়ে কমপক্ষে ৪০ হাজার অটোরিকশা ও রিকশা চলাচল করছে। এর মধ্যে ১৫ হাজার ইজি বাইক এবং প্রায় ২৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশা। এগুলোর মধ্যে মাত্র ১৪ হাজার ২৬২টি অটোরিকশার নিবন্ধন দিয়েছে সিটি করপোরেশন। অথচ নগরীতে চলাচলকারী সব অটোরিকশাতেই লাগানো আছে সিটি করপোরেশনের নাম্বার প্লেট।

রাসিক সূত্র মতে, ২০১১ সাল থেকে রাজশাহীতে ইজি বাইক চলাচল শুরু হয়। সিটি করপোরেশনের দেওয়া নিবন্ধনের সংখ্যা বৃদ্ধি হয়ে এখন আট হাজার ৮৬২টি এবং অনিবন্ধিত ইজি বাইকের সংখ্যা প্রায় সাত হাজার। আর ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল শুরু হয় ২০১৪ সালে এবং এর সংখ্যা প্রায় ২৫ হাজার। অথচ ২০১৬ সালের জানুয়ারির মধ্যে রাসিক থেকে রিকশার নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে মাত্র পাঁচ হাজার ৪০০টি এবং বাকি সবগুলোই অবৈধ্য। নতুন এসব রিকশারও নিবন্ধন নম্বর আছে। যদিও খাতা-কলমে গিয়ে রাসিকের কোথাও এ সংক্রান্ত তথ্য খুুঁজে পাওয়া যায়নি।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, আগের দেওয়া লাইসেন্স নম্বরগুলোই একাধিক রিকশায় বসিয়ে নিবন্ধন ফি হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। আর এই কাজের সঙ্গে জড়িত রয়েছে রাসিকের এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী। সূত্র মতে, ইজি বাইকের নিবন্ধনের জন্য রাসিকের নামে আদায় করা হয় পাঁচ হাজার টাকা। আর অটোরিকশার নিবন্ধনের জন্য দুই হাজার টাকা। অন্যদিকে নবায়নের জন্য ইজি বাইক থেকে আদায় করা হয় দুই হাজার টাকা এবং রিকশা থেকে ৫০০ টাকা। এদিকে গত কয়েক বছরে অটোরিকশা দুর্ঘটনায় রাজশাহী নগরীতেই কমপক্ষে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে একজন এসআইও মারা গেছেন অটোরিকশার ধাক্কায়। আবার হাসপাতালে রোগী দেখতে এসে হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনেও অটোরিকশার ধাক্কায় প্রাণ হারাতে হয়েছে পথচারীকে। সব মিলিয়ে অটোরিকশার দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ নগরবাসী।

জানতে চাইলে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা আবু সালেহ সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, ‘ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও রিকশার জন্য নতুন করে আর নিবন্ধন দেওয়া হচ্ছে না। তারপরও নিবন্ধন বিহীন কিছু গাড়ি চলে নগরীতে। মাঝে মধ্যে অবৈধ্য অটোরিকশার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হয়।