ফুলবাড়ীতে ডাক্তার না থাকায় ৩১ শয্যা হাসপাতালটি এখন নিজেই রোগী

অনীল চন্দ্র রায়, ফুলবাড়ী প্রতিনিধি: চিকিৎসক নেই। তবুও হাসপাতাল। জোরাতালি ও বেহাল অবস্থায় চলছে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলা হাসপাতালটি। চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে উপজেলার আগত রোগীরা।

hos

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডাঃ মোঃ শহিদুল্লাহ লিংকন একমাত্র চিকিৎসক হিসাবে হাসপাতালটির ভরসা। কিন্তু প্রায় সময়ই তার অফিস রুমটি বন্ধ থাকে। সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় হাসপাতালে গিয়ে জানা গেল তিনি সিভিল সার্জন অফিসে দুই দিনের ট্রেনিং এ রয়েছেন। প্রশাসনিক কাছে নিজের ট্রেনিং নিয়ে ব্যাস্ত সময় পাড় করছেন। ফলে চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হাসপাতালটি এখন নিজেই রোগী।

যদিও এখানে ৯ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক থাকার কথা। অপর দিকে উপজেলার ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে ৬ জন মেডিকেল অফিসার পোষ্টিং থাকলেও একজনও নেই সেখানে। বর্তমানে হাসপাতালটিতে Every Mothar Every Newborn নামের একটি ইউনিসেফের প্রোগ্রাম চালু থাকলেও কোন চিকিৎসক না থাকার কারণে তা ভেস্তে বসেছে। তাছাড়াও রয়েছে কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা। সরকার কোটি কোটি টাকা ব্যায়ে ৩১ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালটি চালু করলেও প্রায় আড়াই লাখ অধ্যুষিত উপজেলাটির জনগন আজ চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত।

শুধুমাত্র একজন মেডিকেল অফিসার রয়েছেন এখানে কর্মরত। তিনিই উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার। প্রতিদিন বহিঃর বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসেন প্রায় ৮০ থেকে ১০০ জন। এর মধ্যে ভর্তি হন ১০ থেকে ১২ জন। চিকিৎসক না থাকার কারণে শুধুমাত্র উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসার (সেকমো) দিয়ে চালাতে হচ্ছে চিকিৎসা সেবা। ইসিজি মেশিন থাকলেও নষ্ট রয়েছে দীর্ঘদিন থেকে। আলট্রাসনোগ্রাফ ও এক্স-রে মেশিন চালু থাকলেও পেপার নেই প্রায় ৬ মাস থেকে। একটি এ্যাম্বুলেন্সটি দীর্ঘদিন থেকে নষ্ট হয়ে অবহেলা অযত্নে দাড়িয়ে আছে হাসপাতালের বারান্দায়। দেখার কেউ নেই।

২০১১ সাল থেকে আজও পর্যন্ত দুই জন ফার্মাসিষ্টের একজনও নেই এখানে। কাগজে কলমে রয়েছে জুনিয়র কলসালটেন্ট মেডিসিন, জুনিয়র কলসালটেন্ট গাইনি, জুনিয়র কলসালটেন্ট সার্জারী, জুনিয়র কলসালটেন্ট শিশু, জুনিয়র কলসালটেন্ট এ্যানেসথিসিয়া এগুলো পোষ্ট।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার অফিসে আসেন কি না জানতে চাইলে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির কেউ কেউ জানান, স্যার বাইরে আছেন। আবার কেউ বলেন, দুই দিনের ট্রেনিং এ রয়েছেন স্যার।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডাঃ মোঃ শহিদুল্লাহ লিংকন সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান, চিকিৎসক না থাকার সমস্যায় রয়েছি। প্রশাসনিক কাজতো রয়েছে। তবে তিনি নিয়মিত অফিস করেন বলে জানান।