ঢাবি ক্যান্টিনে বাকি বা ফ্রি খেলে আজীবন বহিষ্কারের ঘোষণা

সময়ের কণ্ঠস্বর – বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোর ক্যান্টিনে ছাত্রলীগের কোনো নেতাকর্মী বাকি বা ফ্রি খেলে তাকে সংগঠন থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করার ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ছাত্রলীগের সভাপতি আবিদ আল হাসান।

সোমবার (০৬ মার্চ) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের টিভিকক্ষে ছাত্রলীগ আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এ ঘোষণা দেন।

সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বার্থে প্রণীত ১৯ দফা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সব হলের ক্যান্টিনে খাবারের মান ভালো করতে চলমান মতবিনিময় সভার ধারাবাহিকতায় এ আয়োজন করা হয়।

হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি তাহসান আহমেদ রাসেলের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান তাপসের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মাহবুবুল আলম জোয়ার্দার, ঢাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন প্রিন্স। ক্যান্টিনের বিভিন্ন ধরনের সমস্যা নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরা, ক্যান্টিন ব্যবস্থাপক তাদের মতামত তুলে ধরেন।

আবিদ আল হাসান বলেন, নেত্রী আমাদের বলেছিলেন তোমরা (ছাত্রলীগ) সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি। পড়াশোনার পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষায় কাজ করবে। আমরা নেত্রীর কাছে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছি সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করবো।

‘এখন থেকে ছাত্রলীগের কেউ বাকি ও ফ্রি খেলে তাকে সংগঠন থেকে আজীবন বহিষ্কার করা হবে। কোনো ধরনের অন্যায় অপকর্মের দায়ভার বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ নেবে না।’

dhabi-cantin

ছাত্রলীগ ডাকসুর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ক্যাম্পাস থেকে ব্যক্তিগত ব্যানার ও ফেস্টুন নামিয়ে ফেলা, ডাস্টবিন স্থাপন, পহেলা বৈশাখে নিরাপত্তায় ছাত্রলীগ কর্মীদের স্বেচ্ছাসেবকের দায়িত্ব পালন, ভর্তি পরীক্ষায় তথ্যকেন্দ্র স্থাপন করে সাধারণ ছাত্রদের সাহায্য করার কাজ প্রমাণ করে ছাত্রলীগ ডাকসুর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। সব সময় ভালো কাজের সঙ্গে থাকবে ঢাবি ছাত্রলীগ। ২০১৭ সাল হবে বিশ্ববিদ্যালয়কে মাদক ও বহিরাগতমুক্ত করার বছর।

অধ্যাপক ড. মাহবুবুল আলম জোয়ার্দার বলেন, সমস্যাগুলোর গভীরে গিয়ে আমাদের সমাধান বের করতে হবে। হলের অনেক রুম অছাত্ররা দখল করে আছে। প্রথমেই তারা যেন চলে যায় সে ব্যবস্থা করতে হবে। তারপর মেধার ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের সিট দিতে হবে। সমস্যা সমাধানে সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

মোতাহার হোসেন প্রিন্স বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায় না হলে পূর্বসূরীদের মতো দেশের কল্যাণে অবদান রাখতে পারবে না ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। খাবারের পুষ্টিমান পড়াশোনায় প্রভাব রাখে। স্বল্প সময়ের মধ্যে শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধানে কাজ করবে ছাত্রলীগ। এসএম হলে মাদকের ব্যবসা বন্ধ করার ঘোষণা দেন তিনি। জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

তাহসান আহমেদ রাসেল বলেন, শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে সলিমুল্লাহ মুসলিম হল সবসময় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের পাশে থাকবে।

মেহেদী হাসান তাপস বলেন, ছাত্রলীগের রোল মডেল হচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। ছাত্রলীগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় এমন কিছুর সঙ্গে এসএম হলের কেউ জড়িত থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।