শরীয়তপুরে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চলছে শিশু শ্রম

শরীয়তপুর প্রতিনিধি: শরীয়তপুরে সরকারী নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে দিন দিন বেড়েই চলছে শিশু শ্রম। শিশুদের যে বয়সে বই খাতা নিয়ে স্কুলে যাওয়ার কথা, সে বয়সে তারা হোটেল, কারখানা অথবা ইটের ভাটায় শ্রম বিক্রি করেছে।

ite

সরকার শিশু শ্রম বন্ধের আইন করলেও প্রশাসনিক ভাবে কার্যকর না থাকায় বেড়েই চলেছে শিশু শ্রম। তবে এই শিশু শ্রম বন্ধের আশ্বাস দিয়েছেন শরীয়তপুর জেলা প্রশাসন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, সরকারী নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জেলার প্রত্যেকটি ইটের ভাটায় কম বেশী শিশু শ্রমিক রয়েছে। এর মধ্যে সদরের কোটাপাড়া, ভেদরগঞ্জ, জাজিরা ও গোসাইরহাটের ইটের ভাটা গুলোতে শিশু শ্রমের সংখ্যা অনেক বেশী। শুধু তাই নয় হোটেল, কারখানা ও দোকানের কর্মচারী থেকে শুরু করে সবধরনের কজে শিশু শ্রমিক ব্যাবহার করা হচ্ছে।

শিশু শ্রমিকের সাথে আলাপ কালে জানা যায়, প্রতি বছরই বেশিরভাগ চরাঞ্চলের শিশুদের দিয়ে ইটের ভাটায় কাজ করানো হয়। এতে করে প্রতিদিন জনপ্রতি ৫০ টাকা করে সপ্তাহে ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা দেয়া হয় শিশু শ্রমিক মুজুরি। এতে করে তাদের সংসারের উপকার হয়। এছাড়া, হোটেলের মালিকরা খারাপ ব্যাবহার করায় এখন ইটের ভাটায় কাজ করছে অর্ধশতাধিক শিশু শ্রমিক।

ইটের ভাটার মালিকদের সাথে আলাপকালে তারা জানান, কোন ইটের ভাটায় ইচ্ছাকৃত ভাবে শিশুদেরকে দিয়ে কাজ করানো হয় না। জেলার বিভিন্ন ভাটায় যে সকল শিশু শ্রমিক রয়েছে তারা তাদের বাবা-মায়ের সাথে মিলে কাজ করে। সন্তানরা তার মা বাবাকে সহযোগিতা করেছে। তবে এ জন্য শিশুদের কোন পারিশ্রমিক দেওয়া হয় না বলেও জানানো হয়।

জেলা প্রশাসক মোঃ মাহামুদুল হোসাইন খান বলেন, শিশু শ্রমিকদের কাজে রাখার বিষয়ে আমাদের সকলকে সচেতন হতে হবে। শুধু আইন দিয়ে শিশু শ্রম বন্ধ করা যাবেনা। সবাই মিলে এগিয়ে এসে শিশু শ্রম বন্ধ করে শিশুদেরকে স্কুলে পাঠাতে হবে। আর, এই শিশু শ্রমের বিষয়ে তদন্ত করা হবে।