‘পুলিশ যখন রক্ত দিতে শিখেছে তখন জঙ্গি-সন্ত্রাসের আর ভয় নেই’

ওবায়দুল ইসলাম রবি, রাজশাহী প্রতিনিধিঃ

বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, পুলিশ যখন রক্ত দিতে শিখেছে তখন জঙ্গি-সন্ত্রাসের আর ভয় নেই। তিনি বলেন, আমাদের পুলিশ যখন দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ, আমাদের পুলিশ যখন রক্ত দিতে শিখেছে তখন জঙ্গির-সন্ত্রাসের ভয় আর পেতে হবে না।

আজ মঙ্গলবার (০৭ মার্চ) বিকেলে রাজশাহীতে নবনির্মিত পবা থানা ভবনের উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত সুধী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের সাথে সমতা রেখে বর্তমান আ’লীগ সরকার বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীকে সু-সজ্জিত আধুনিক পুলিশে রুপান্তরিত করেছে। পুলিশ সদস্যদের বেতন, ঝুকি ভাতা, রেশন, মিশন, উন্নত প্রশিক্ষকসহ সকল ধরনের সুযোগ সুবিধা দেওয়া হয়েছে। দেশের সাধারন মানুষের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে পুলিশকে তার দায়িত্বে সদয় হবার নির্দেশ আছে। তদুপরি জঙ্গি, সন্ত্রাস এবং মাদক নির্মূলে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেন মন্ত্রী।

মন্ত্রী বলেন, আমরা বলিনি জঙ্গি নির্মূল করেছি, শিকড় উপড়ে দিয়েছি। আমরা বলছি আমরা নিয়ন্ত্রণ করেছি।

জঙ্গিবাদকে দেশের বিরুদ্ধে, ইসলামের বিরুদ্ধে দেশিয় এবং আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র উল্লেখ করে আসাদুজ্জামান খান বলেন, জঙ্গিরা বসে থাকবে না, এরা মাঝে মধ্যেই আত্মপ্রকাশ করবে। আমরা মনে করি, জনগণ যখন আমাদের সঙ্গে আছে, কেউ আমাদের অগ্রযাত্রাকে রুখতে পারবে না।

kamal-rajshahi

জঙ্গিনেতা মুফতি হান্নানকে বহনকারী বাসে হামলার কথা স্বীকার করে মন্ত্রী বলেন, পুলিশ বাহিনীর সতর্কতার জন্য বোমা বহনকারীদের পুলিশ ধরে ফেলেছে জনগণের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায়।

কুমিল্লায় পুলিশ সদস্যদের ওপর বোমা হামলার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, একটি বাসে করে জঙ্গিরা যাচ্ছিল, হাইওয়ে পুলিশ যখন বাসকে চ্যালেঞ্জ করে বসে, তখন তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে বোমা নিক্ষেপ করে। আমাদের পুলিশ কিন্তু ভয়ে দৌড় দেয়নি। চ্যালেঞ্জ করে তাকে ধরেছে এবং যারা পালিয়ে যেতে চেয়েছিল, তাকে পুলিশ বাহিনী এবং ওখানকার জনগণ ধরেছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, মহানগর আ’লীগ সভাপতি এএইচ এম খায়রুজ্জামন লিটন, জেলা আ’লীগ সভাপতি ওমর ফারুখ চৌধুরী এমপি, আব্দুল ওয়াদুদ দার, আয়েন উদ্দিন এবং আকতআর জাহান এমপি, রেঞ্জ ডিঅইজি খুরশিদ আলম, রাজশাহী পুলিশ সুপার মোয়াজ্জেম হোসেন ভুঞা এবং বিভিন্ন পর্যায়ের উর্ধত্তন কর্মকর্তারা।

উক্ত অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিরাও একমত পোষন করে বলেন, আধুনিক ধাঁচে এই নতুন দুটি থানা কমপ্লেক্স নির্মিত হয়েছে। এখানে পুরুষ ও মহিলা ব্যারাক রয়েছে চারটি। ভবনের পাঁচ তলায় নারী ও পুরুষের পৃথক পৃথক ব্যারাক রয়েছে। গণপূর্ত বিভাগের আওতায় ভবন দুইটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১২ কোটি টাকা। তদুপরি এখানে হাজতখানা রয়েছে ৪টি। যারমধ্যে পূর্ণ বয়স্ক পুরুষ ও নারী হাজতখানা এবং শিশু ছেলে ও মেয়েদের আলাদা হাজত খানা রয়েছে।

অপরদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজশাহী সফলের দ্বিতীয় দিনে আগামীকাল বুধবার রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে মহানগর পুলিশ আয়োজিত জঙ্গীবাদ দমন ও ধর্মীয় সম্প্রীতি বিষয়ক মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দিবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।