‘চিনিকলগুলোতে যন্ত্রপাতি প্রতিস্থাপনসহ উপজাত ভিত্তিক শিল্প স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে’

স্টাফ রিপোর্টার, সময়ের কণ্ঠস্বর :  শিল্প মন্ত্রী আমির হোসেন আমু জানান, বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের আওতাধীন বিদ্যমান চিনিকলগুলোর ত্রিশ, পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে স্থাপিত। ইতোমধ্যে এসব চিনিকলগুলোর অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল শেষ হয়ে গেছে। এজন্য চিনিকলগুলোতে পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি প্রতিস্থাপনসহ উপজাত ভিত্তিক শিল্প স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে টেবিলে উত্থাপিত সানজিদা খানমের (মহিলা আসন-২৪) এক প্রশ্নের জবাবে বলেন।

তিনি আরো জানান, শিল্প মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের অধীনে মোট ১৫টি চিনিকল রয়েছে। সরকারের অনুমোদনক্রমে এসকল চিনিকল হতে ২০১২ ও ২০১৩ সালে মোট ২৫ হাজার মেট্রিক টন চিনি বিদেশে রফতানি করা হয়েছে।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বিকেল ৫টা ৫ মিনিটে সংসদের অধিবেশন শুরু হয়।

রাজধানীর হাজারীবাগস্থ চামড়া শিল্প কারখানায় কাঁচা চামড়া প্রবেশে বিগত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে নিষেধজ্ঞা জারি করা হয়েছে বলে আরও জানিয়েছেন শিল্প মন্ত্রী আমির হোসেন আমু।

তিনি বলেন, হাজারীবাগস্থ ট্যানারি শিল্প কারখানাসমূহ গত ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সাভারস্থ চামড়া শিল্প নগরী প্রকল্প এলাকায় স্থানান্তরের নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে চামড়া শিল্প মালিকদের বিশেষ অনুরোধে আরো এক মাস সময় বাড়িয়ে জানুয়ারি, ২০১৭ পর্যন্ত সময় দেয়া হয়। এম, আবদুল লতিফের (চট্টগ্রাম-১১) এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব তথ্য জানান।

আমির হোসেন আমু বলেন, বিসিক এর আওতায় বাস্তবায়নাধীন চামড়া শিল্পনগরী, ঢাকা (দ্বিতীয় সংশোধিত) প্রকল্পটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রকল্প। এই প্রকল্পের আওতায় বিটিএ ও বিএফএল-এলএফই-এর আওতাধীন ১৫৫টি শিল্প ইউনিটের অনুকূলে ২০৫টি প্লট বরাদ্ধ প্রদান করা হয়েছে। ১৫৫টি শিল্প ইউনিটের মধ্যে সাভারস্থ প্রকল্প এলাকায় ইতিমধ্যে ৪৩টি বড় বড় ট্যানারি কারখানায় ওয়েট-ব্লু সেকশন স্থানান্তর করে কাঁচা চামড়া প্রক্রিয়াজাত কার্যক্রম শুরু করেছে। বাকী শিল্প ইউনিটগুলো নির্মাণাধীন পর্যায়ে রয়েছে।

এম, আবদুল লতিফের আরেক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, সরকার ২০১১ সালের ২১ মার্চ জাহাজ নির্মাণ, জাহাজ-ভাঙ্গা ও জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ কর্মকাণ্ডকে শিল্প হিসেবে ঘোষণা করে। এ শিল্পে কর্মরত শ্রমিক ও কর্মচারীদের পেশাগত ঝুঁকি নিরসন, স্বাস্থ্য সুরক্ষা, উন্নত ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ সৃষ্টি, উপকূলীয় অঞ্চলের সামগ্রিক পরিবেশ রক্ষার নিমিত্ত সর্বোপরি এ শিল্পের বিকাশে সরকার কাজ করছে।

Screenshot_36

এ শিল্পের সার্বিক উন্নয়ন, পরিচালনা ও বিকাশের লক্ষ্যে শিল্প মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রণীত ‘বাংলাদেশ জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ আইন, ২০১৭’-এর খসড়া গত ৩০ জানুয়ারি মন্ত্রিপরিষদে চূড়ান্তভাবে অনুমোদন দেয়া হয়েছে। আইনটি কার্যকর হলে এর শিল্পের সার্বিক তত্ত্বাবধানের জন্য জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ বোর্ড ও ওয়ান স্টপ সার্ভিস প্রতিষ্ঠা করা হবে।

আ.ফ. ম বাহাউদ্দিন নাছিমের (মাদারীপুর-০৩) আরেক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, ওষুধ শিল্পের উন্নয়নের জন্য স্বতন্ত্র একটি এ্যাকটিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্ট (এপিআই) পার্ক স্থাপনের কাজ বাস্তবায়নাধীন আছে। এটি মুন্সীগঞ্জ জেলার গজারিয়া উপজেলাধীন বাউসিয়া মৌজায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দক্ষিণ পাশে ২শ’ একর জায়গায় অবস্থিত। এখানে মোট ৪২টি শিল্প প্লটে ৪২টি শিল্প ইউনিট স্থাপিত হবে। প্রকল্পের সর্বোমোট প্রাক্কলিত ব্যয় ৩৩ হাজার ১৮৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। এ প্রকল্পের আর্থিক অগ্রগতি হয়েছে ৬৪ শতাংশ এবং বাস্তব অগ্রগতি হয়েছে ৮৩ শতাংশ।