বহুল আলোচিত খাদিজা হত্যাচেষ্টা মামলার রায় আজ

সময়ের কণ্ঠস্বর – বহুল আলোচিত খাদিজা হত্যাচেষ্টা মামলার রায় আজ। বেলা ১১টার পর বিচারক এই রায় পড়া শুরু করবেন বলে জানা গেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক নারী দিবসে নিজের ওপর হামলার বিচার পেতে যাচ্ছেন খাদিজা বেগম নার্গিস।

এরআগে আদালতে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে ৮ মার্চ রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করেন সিলেট মহানগর দায়রা জজ আকবর হোসেন মৃধা।

গত বছরের ৩ অক্টোবর সিলেট এমসি কলেজে হামলার শিকার হন সিলেট সরকারী মহিলা কলেজের স্নাতক শ্রেণীর ছাত্রী খাদিজা বেগম নার্গিস। খাদিজাকে কোপানোর দায়ে ঘটনাস্থল থেকে জনতা শাহজালাল বিশ্ববদ্যিালয় ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক বদরুল আলমকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে। বদরুলের চাপাতির আঘাতে খাদিজার মাথার খুলি ভেদ করে মস্তিষ্কও জখম হয়। খাদিজাকে কোপানোর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ পেলে দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

হামলার পর প্রথমে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে ও পরে ঢাকায় স্কয়ার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় খাদিজাকে। সেখানে ৪ অক্টোবর বিকালে অস্ত্রোপচার করে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয় খাদিজাকে। পরে ১৩ অক্টোবর তার লাইফ সাপোর্ট খোলার পর ‘মাসল চেইন’ কেটে যাওয়া তার ডান হাতে অস্ত্রোপচার করা হয়।

khadiza-bodrulঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে তিন দফা অস্ত্রোপচারের পর শরীরের বাঁ পাশ স্বাভাবিক সাড়া না দেওয়ায় চিকিৎসার জন্য স্কয়ার থেকে সাভারের সিআরপিতে পাঠানো হয়। সিআরপিতে তিন মাসের চিকিৎসা শেষে ২৪ ফেব্রুয়ারি বাড়ি ফেরেন কলেজছাত্রী খাদিজা।

এদিকে, ঘটনার পরদিন খাদিজার চাচা আব্দুল কুদ্দুস বাদী হয়ে দন্ডবিধির ৩০৭, ৩২৪ ও ৩২৬ ধারায় শাহপরান থানায় বদরুলকে একমাত্র আসামী করে মামলা করেন। ওইদিনই বদরুলকে বহিস্কার করে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

৫ অক্টোবর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন বদরুল। ৮ নভেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নগরীর শাহপরান থানার এসআই হারুনুর রশীদ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরে ১৫ নভেম্বর আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন। ২৯ নভেম্বর আদালত বদরুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেন খাদিজা। এরমাধ্যমে মামলার ৩৬ সাক্ষীর ৩৪ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়। বদরুলের বাড়ি সুনামগঞ্জের ছাতকে ও খাদিজা সিলেট সদর উপজেলার আউশা গ্রামের মাসুক মিয়ার মেয়ে।

নারী দিবসে দেয়া রায়ে ন্যায়বিচার পাবেন খাদিজা আর নারীর প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে এই রায়- এমনটাই আশা করছেন খাদিজার স্বজনসহ সচেতন মহল।

খাদিজা বেগম নার্গিসও এ মামলার রায়ে- নিজের ওপর হামলাকারী বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন। মঙ্গলবার বিকেলে নিজ বাড়ির উঠানে দাঁড়িয়ে খাদিজা বলেন, আমার ওপর এমন সহিংস হামলায় বদরুলের দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হলে যেমন সমাজে খারাপ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে, তেমনি আমার জীবন আরো নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়বে। সেই সঙ্গে অন্যায়কারীরা আরো সাহস পাবে এমন আরো ঘটনা ঘটাতে। নারীরা আরো নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়বে। তাই আমি আশা করছি- বদরুলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হবে।