নারীর চোখে বিশ্ব দেখার অঙ্গীকার এখনো শিশু পর্যায়ে, নারী-পুরুষে সমান ভাবার মানসিকতা এখনো হয়নি!

নিউজ ডেস্ক,সময়ের কণ্ঠস্বর ~ নারী-পুরুষে সমানে সমান দেখার মানসিকতা এখনো সমাজে তৈরি হয়নি। আর যতদিন এই মানসিকতা তৈরি না হবে; ততদিন নারী তার কাজের যোগ্য সম্মান পাবেন না। সেই মুক্তিযুদ্ধের সময় যেসব মা বোন ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন তাদের এখনো যোগ্য সম্মান দিতে পারিনি। তারা নারী মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি পাননি। এখনো নারীর শ্রমশক্তির ৫৬ ভাগ ব্যয় হয় পারিবারিক কাজে, অথচ সেই শ্রমশক্তির কোনো মজুরি তারা পান না। নারীর অগ্রগতি আছে। তবে অগ্রগতি শুধু উদাহরণেই থাকলে হবে না, সে উদাহরণ সব নারীর জীবনকে ছুঁয়ে যেতে হবে।

গতকাল মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে ভোরের কাগজের কনফারেন্স কক্ষে ‘উন্নয়নে নারী’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক ও গুণীজন সম্মাননা অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি। অনুষ্ঠানে ভাষাসৈনিক রওশন আরা বাচ্চু, মুক্তিযোদ্ধা রোকেয়া কবীর ও অতিরিক্ত আইজিপি ফাতেমা বেগমকে সম্মাননা জানানো হয়।

nari dibosh-2017

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেহের আফরোজ চুমকি বলেন, আমাদের দেশে জন্মের পর থেকেই একটি শিশুর বিভাজন শুরু হয়। কন্যাদের ছোটবেলা থেকেই ভাবতে হচ্ছে যে তারা নারী। ফলে মানসিক ভাবেই নারীরা পিছিয়ে পড়ছে। তিনি বলেন, নারীর পিছিয়ে পড়ার মূল কারণ হিসেবে সরকার দারিদ্র্যকে চিহ্নিত করেছে। কারণ একটি দরিদ্র পরিবারে সবার আগে নারীর উপরই চাপ পড়ে বেশি। শিক্ষা-স্বাস্থ্য এমনকি অর্থনৈতিক দিক দিয়েও তারা অনেক পিছিয়ে পড়ে। তাই এ সরকার দারিদ্র্য বিমোচনের দিকে বেশি নজর দিচ্ছেন। চুমকি বলেন, বর্তমান সরকার জেন্ডার সমতা করতে কাজ করছে। তবে নারীকে স্বাবলম্বী হতে হলে নিজেকেই তৈরি করতে হবে। নিজেকে ভালোবাসতে হবে, শ্রদ্ধা করতে হবে। সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস তৈরি করতে হবে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার ৪৫ বছরে আমাদের নারীদের অর্জন খুব কম নয়। স্পিকার, ভিসি, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, খেলাধুলা- সর্বত্রই নারীর সরব উপস্থিতি। তবে সংখ্যার দিক দিয়ে তা খুবই কম। এ দিকটায় আমাদের নজর দিতে হবে।

নারী প্রগতি সংঘের নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া কবীর বলেন, অগ্রগতি শুধু উদাহরণেই থাকলে হবে না, সে উদাহরণ সব নারীর জীবনকে ছুঁয়ে যেতে হবে।

প্রিপ ট্রাস্টের নির্বাহী পরিচালক এ্যারোমা দত্ত বলেন, আমি আজ যে জায়গায় দাঁড়িয়ে আছি এজন্য আমাকে অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। হাঁটতে হয়েছে অনেক বন্ধুর পথে। তিনি আরো বলেন, গাইবান্ধার এক চরে একজন নারী বলেছিলেন ‘তোমরা পারলে আমরা কেন পারবো না?’ তার এ কথা শুনে সত্যিই সেদিন ভালো লেগেছিল।

ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত বলেন, ‘আজ ৭ মার্চ।’ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ভাষণে মুক্তির সংগ্রামের কথা বলেছিলেন। নারীর ক্ষেত্রে এই মুক্তির সংগ্রামের খুব প্রয়োজন। তিনি মুক্তিযোদ্ধা হালিমা খাতুনকে ধন্যবাদ দিয়ে বলেন, আমাদের যুদ্ধ শুরু হয়েছিল অনেক আগে থেকেই। সেই মুক্তিযুদ্ধের সময় যেসব মা বোনেরা ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন তাদের মূল্যায়ন আমরা আজো করতে পারিনি। তারা নারী মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে এখনো স্বীকৃতি পাননি।

ভোরের কাগজের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ঝর্ণামনির উপস্থাপনায় মূল প্রবন্ধে বলা হয়, ৪র্থ বিশ্ব নারী সম্মেলনে নারী উন্নয়নে অন্তরায় হিসেবে চিহ্নিত ১২টি ক্ষেত্রে পৃথিবীর কোনো দেশেই এখনো কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জিত হয়নি। নারীর চোখে বিশ্ব দেখার অঙ্গীকার এখনো শিশু পর্যায়ে। যাদের জন্য নারী দিবস পালন সেই নারী শ্রমিকরাই আজো পাননি কর্মক্ষেত্রে সুষ্ঠু পরিবেশ। আজও তারা এ দিনটিতে কর্মরত থাকেন। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, নারীর শ্রমশক্তির ৫৬ শতাংশ ব্যয় হয় পারিবারিক কাজে। একই যোগ্যতাসম্পন্ন একজন নারী শ্রমিকের দৈনিক গড় আয় ৯২ টাকা আর একজন পুরুষ শ্রমিকের দৈনিক গড় আয় ১৩২ টাকা।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক সচিব নাসিমা বেগম, বিএনপির ভাইস প্রেসিডেন্ট সেলিমা রহমান, ইউএসআইডি-ডিএফআইডি, এনএইচএসডিপির চিফ অব পার্টি ড. হালিদা হানুম আখতার, উইম্যান এন্টারপ্রেনার্স অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট নাজিয়া বিনতে আমিন প্রমুখ।