৭০ বছর বয়সেও ভাগ্যে জুটেনি বকশীগঞ্জের সইরে ফুলির বয়স্ক ভাতার কার্ড

আবদুল লতিফ লায়ন, জামালপুর প্রতিনিধি: বকশীগঞ্জ পৌর শহরের বাসিন্দা সইরে ফুলের ভাগ্যে ৭০ বছর বয়সেও জুটেনি বয়স্ক ভাতা কার্ড বা বিধবা ভাতার কার্ড। ভাঙ্গা হাত পা নিয়ে টুলের উপর ভর করে ভিক্ষা করে জীবিকা নির্বাহ করছেন।

fuli-kar

জানা যায়, সইরে ফুলির স্বামী আবুল মিয়া প্রায় একযুগ পূর্বে মারা যায়। দিন মজুর স্বামী মারা যাওয়ার পর ৪ সন্তানের জননী সইরে ফুলি অসহায় হয়ে পড়ে। সন্তানরা কেই তাকে দেখা শোনা করেন না। উপায় না পেয়ে জীবনে বাচার তাগিদে ভিক্ষা বৃত্তির পেশা বেছে নেন। পাড়া গাঁয়ে ভিক্ষা করতে গিয়ে পিছলে পড়ে তার হাত পা ভেঙ্গে যায়। টাকার অভাবে সুচিকিৎসা করানো সম্ভব হয়নি।

বকশীগঞ্জ উপজেলা ক্যাম্পাস এবং সমাজ সেবা অফিসের কাছাকাছি বসবাস করলেও তার কপালে জুটেনি বয়স্ক ভাতা বা বিধবা ভাতার কার্ড। পাননি সরকারি কোন সুযোগ সুবিধা। একটি হুইল চেয়ারের অভাবে অতিকষ্টে চলাফেরা করছেন।

এ ব্যাপারে সইরে ফুলি জানান, আমি বুড়ি (বয়স্ক) মানুষ। নারী দিবস যায়, কত দিবস যায় আমি হুনি (শোনি)। আমাহে (আমাকে) তো কেউ দেহেনা (দেখেনা)। এডা বুড়ি ভাতার কার্ড চাই ছিলাম। কেউতো আমার কতা (কথা) হন লোনা (শোনলো না)। কবরে গেলে কার্ড দিয়ে কি হরমু (করবো)। আমি এডা (একটা) বুড়ি ভাতার কার্ড চাই। এডা চিয়ার (চেয়ার) চাই।

সংশ্লিষ্ট এলাকার পৌর কাউন্সিলর কামরুজ্জামান সুজন সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান, নানা কারণে সইরে ফুলিকে বয়স্ক ভাতার কার্ড দেওয়া সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।