ঠাকুরগাঁওয়ে জমিতে বিষ ব্যবহার করে শত শত বিঘা ধান গাছ নষ্ট : হতাশ কৃষক

f


কামরুল হাসান, ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধিঃ

পেট্রোকেম কোম্পানির ডুপোন্ট এ্যালমিক্স ২০ ডব্লিউপি নামে বিষ ব্যবহার করে ঠাকুরগাঁওয়ে শত শত বিঘা জমির ধান গাছ নষ্ট হতে বসেছে। ইতোমধ্যে অনেক কৃষকের ধান গাছ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় ক্ষতিপুরনের দাবি জানিয়েছে তারা। আর পেট্রোকেম কতৃপক্ষ বলছেন, কৃষকের ধান গাছ সতেচ করতে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

জমিতে বিষ ব্যবহার করে ক্ষতিগ্রস্তের আশংকায় ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ধনতলা ইউনিয়নের খোচাবাড়ী এলাকার, নাগেশ্বরবাড়ি, ডাঙ্গাপাড়া, চৌটাকিসহ বেশ কয়েকটি গ্রামের প্রায় ৩শ কৃষক এখন হতাশায় ভুগছেন। কেউবা নিজ জমিতে,কেউবা পরের জমি বড়গা নিয়ে ধান চাষ করেছেন। চারা রোপনের পর পরই পেট্রোকেম কোম্পানির আগাছা নাশক ডুপোন্ট এ্যালমিক্স ২০ ডব্লিউপি নামে বিষ ব্যবহার করে বিপদে পরেছেন ওই এলাকার কৃষক। বিষ ব্যবহারের পর ধানের চারা সচেত না হয়ে তা নষ্ট হতে বসেছে।

ইতোমধ্যে ওই এলাকার অনেক কৃষকের ধান গাছ নষ্ট হয়ে যাওয়া হতাশায় ভুগছেন। শনিবার সকালে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা বিষ ক্রয়কৃত দোকান ঘোড়াও করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। বিক্ষোভে কৃষকরা ক্ষতিপুরনের দাবি জানালে কোম্পানি কর্তৃক ১৫ সদস্য বিশিষ্ট্য একটি পর্যবেক্ষন কমিটি গঠন করে ধান গাছ সতেচে কৃষকদের বিনামুল্যে বেশ কিছু ওষুধ দেয়ার নির্দেশ দেয় ওই কোম্পানি। এর পর দফায় দফায় ওই এলাকায় কৃষি অধিদপ্তরের উর্ধতন কতৃপক্ষসহ উদ্ভিদ বিজ্ঞানিরা মাঠ পরিদর্শন করেন। নাগেশ্বরবাড়ি, ডাঙ্গাপাড়া, চৌটাকিপাড়ার রবিন, চৈতুরাম, মজিবর রহমান শেখ, অনন্ত্যসহ ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা কান্নায় ভেঙ্গে পরে সাংবাদিকদের জানান, আমরা এক বিঘা মাটি ৬ থেকে সাড়ে ৬হাজার টাকায় বড়গা নিয়েছি। আমাদের ধান না হলে কিভাবে ঋণের টাকা পরিশোধ করবো। বিষ বিক্রেতার পরামর্শ নিয়ে ধান ভাল হবে এই আশায় জমিতে বিশ দিয়েছি।

কিন্তু জমি গাছ এখন মরে যাচ্ছে আমরা মাঠে মারা যাবো। আমাদের ক্ষতিপরণ চাই। আর খোচাবাড়ি বাজারের খুচরা সার ও কিটনাশক ব্যবসায়ী নাজিম উদ্দিন জানান, আমরা ডিলারের কাছ থেকে বিষ নিয়ে কৃষকদের দিয়েছি।তা ব্যবহার করে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেটা ডিলারকে জানালে তারা নতুন করে কৃষকদের বিনামুল্যে বেশ কিছু ওষুধ দিয়ে পরামর্শ প্রদান করেন। আর লাহিড়ী বাজারে অবস্থিত জয়েন্ট টেড্রাসের সত্বাধীকারি পেট্রোকেম কোম্পানির ডিলার আলমগীর হোসেন জানান, মাটির গুনাগুনের কারনে এ অবস্থার সৃস্টি হয়েছে। তবুও আমি বিষয়টি কোম্পানি কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। কর্তৃপক্ষ বর্তমানে ধান গাছ সতেচে কিছু ওষুধ বিনামুল্যে কৃষকে দিচ্ছেন। তারপরও যদি কৃষক ক্ষতির শিকার হয় ওই ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে। বালিয়াডাঙ্গী লাহিড়ী চাড়োল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দীলিপ কুমার চ্যার্টাজি জানান, কোম্পানি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের পাশে থাকবেন তারা আশস্ত করেছেন। মাঠ পর্যায়ে বিষয়টি দেখা হচ্ছে বলে জানালেন এই চেয়ারম্যান।

আর কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের জেলা প্রধাণ উপ- পরিচালক কে এম মাউদুদুল ইসলাম জানান,বিষয়টি আমাদের নজরে আছে। আমরা দেখবো আরো কিছু দিন ধান গাছ সতেচ হচ্ছে কি না। না হলে প্রয়োজনে কোম্পানির কাছ থেকে ক্ষতিপুরন নিয়ে কৃষকে দেয়া হবে। এই ঘটনার পর কোম্পানি কর্তৃপক্ষ বাজার থেকে সরিয়ে নিয়েছে এ্যালমিক্স নামক বিষটি।