‘কি কোপইনা দিলো মেয়েটারে! কিন্তু ফাঁসি হলোনা!’

সিলেট প্রতিনিধি – বদরুলের যাবজ্জীবন কারাদন্ড ঘোষণায় নাগররিক জীবনে স্বস্তি নেমে এসেছে। এতদিন যারা তার নৃশংসতার শাস্তি নিয়ে নানা আশংকার দোলাচলে দোলছিলেন, তারা এখন খুশি। বুধবার রায় ঘোষণার পরপরই আদালত পাড়ায় কয়েকজন সচেতন নাগরিকের তাদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে স্বিস্তির কথা প্রকাশ করেছেন। দক্ষিণ সুরমার সিলাম থেকে বদরুলের মামলার রায় শুনতে এসেছেন কলেজছাত্র হাসান (২০)।

তিনি জানান, ন্যায় বিচার হয়েছে। তার নৃশংসতার উপযুক্ত শাস্তি দিয়েছেন আদালত। এ রায় বিচার বিভাগের প্রতি জনগনের আস্তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আদালত প্রাঙ্গনেই কথা বলেন সমাজকর্মী হাসিনা বেগম (২৮)। তিনি বললেন, অসহায় মেয়েদের উপর নানা ছলছুতায় যারা নৃশংসতা চালিয়ে নিজেদের পৌরুষত্ব জাহির করতে চায়, আশাকরি তারা এখন আরও সতর্ক হবে। একটি সুন্দর হানাহানিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাই সম্মিলিতভাবে কাজ করবেন।

হোটেলকর্মী হাসান আবার এ রায়ে পুরোপুরি খুশি নয়। তার ধারণা ছিলো বদরুলের ফাঁসি হবে। ‘কি কোপইনা দিলো মেয়েটারে! কিন্তু ফাঁসি হলোনা!’ এর আগে, গত ১ মার্চ সিলেট মুখ্য মহানগর হাকিম সাইফুজ্জামান হিরোর আদালত থেকে মামলাটি মহানগর দায়রা জজ আদালতে স্থানান্তর করা হয়। ওই আদালতে আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদানে সীমাবদ্ধতা থাকায় দায়রা জজ আদালতে মামলাটি স্থানান্তর করা হয়।

bodrul-khadija

গত বছরের ৩ অক্টোবর এমসি কলেজের পুকুরপাড়ে সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী খাদিজা বেগম নার্গিসকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অনিয়মিত ছাত্র ও শাবি ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক বদরুল আলম। ঘটনার পরপরই শিক্ষার্থীরা বদরুলকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন।

এ ঘটনায় খাদিজার চাচা আবদুল কুদ্দুস বাদী হয়ে বদরুলকে একমাত্র আসামি করে মামলা দায়ের করেন। গত ৫ অক্টোবর বদরুল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে তাকে কারাগারে প্রেরণ করেন আদালত। এ ছাড়া ঘটনার পর শাবি থেকে চিরতরে বহিষ্কার করা হয় বদরুলকে।

গত বছরের ৮ নভেম্বর খাদিজা হত্যাচেষ্টা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিলেট নগরীর শাহপরান থানার এসআই হারুনুর রশীদ আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। পরে ১৫ নভেম্বর আদালত চার্জশিট গ্রহণ করেন। গত ২৯ নভেম্বর আদালত বদরুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন।

গত ৫ ডিসেম্বর সাক্ষ্য গ্রহণের প্রথম দিন বদরুল আলমের বিরুদ্ধে আদালতে ১৭ জন সাক্ষ্য প্রদান করেন। পরে ১১ ডিসেম্বর ১৫ জন এবং ১৫ ডিসেম্বর সাক্ষ্য দেন আরো একজন। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি আদালতে সাক্ষ্য দেন খাদিজা। মামলায় ৩৭ সাক্ষীর মধ্যে ৩৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।

বাংলাদেশের ইতিহাসে এ রায় ঐতিহাসিক: খাদিজার আইনজীবি