ফুলবাড়ীর সোনালী ব্যাংকে তিনজনের স্বাক্ষর জাল করে টাকা উত্তোলন, আতঙ্কে গ্রাহকরা

অনীল চন্দ্র রায়, ফুলবাড়ী প্রতিনিধি: ব্যাংক কর্মকর্তার সহায়তায় শিক্ষকের চেক জালিয়াতি করে তিন লক্ষাধিক টাকা উত্তোলনের ঘটনা ঘটেছে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে অবস্থিত সোনালী ব্যাংক শাখায়।

sonali-bank

একই ব্যক্তি তিনজনের স্বাক্ষর জাল করে তিনটি ভিন্ন একাউন্ট থেকে টাকা উত্তোলন করায় সাধারণ গ্রাহকরা রয়েছেন আতঙ্কে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এ ঘটনায় একজনকে শোকজসহ তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করেছে বলে জানা গেছে।

ব্যাংক সুত্রে জানা গেছে, ব্যাংকের কর্মকর্তার সহায়তায় তিনজনের স্বাক্ষর জাল করে ফেব্রুয়ারি মাসের ৭ তারিখে সালমা খাতুনের কনজুমার্স ঋণের ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা, ৯ ফেব্রুয়ারি জোসনা রাণীর কনজুমার্স ঋণের ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা ও ১৩ ফেব্রুয়ারি নুরজাহান বেগমের বেতনের জমানো ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা উত্তোলন করেন উপজেলার মধ্য অনন্তপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক রশিদুল ইসলাম।

রশিদুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংক ও বিভিন্ন শিক্ষক শিক্ষিকাদের মধ্যে কনজুমার্স ঋণ প্রদান, শোধ ও নবায়নের জন্য মধ্যস্থতা করে থাকেন।

চেক জালিয়াতি করে টাকা উত্তোলনের ঘটনা ধরা পড়ে জোসনা রাণীর টাকা উত্তোলনের সময়। তিনি নিজের টাকা উত্তোলন করতে এসে জানতে পারেন তার হিসাব নম্বরে থাকা ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা অন্য কেউ উত্তোলন করেছেন। তিনি সঙ্গে সঙ্গে অভিযোগ করেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপকের কাছে। এরপরই ব্যবস্থাপকের হস্তক্ষেপে জোসনা রাণীসহ সালমা খাতুন ও নুরজাহানের হিসাব নম্বর থেকে টাকা উত্তোলনের ঘটনাও বেরিয়ে আসে।

ব্যাংকের গ্রাহকরা দাবী করেন, চেকে মোবাইল নম্বর দেয়াসহ চেক জমা দেয়ার পর চেকের সিরিয়াল নম্বর ঠিক রেখে একটি চেকের বিপরীতে যখন টাকা উঠানো হয় তখন প্রথমে তা একজন ব্যাংক কর্মকর্তা দিয়ে ইস্যু ও ডেবিট করানো হয় এরপর আরেকজন কর্মকর্তা ওই চেক পাশ করেন। সবশেষ কোষাধ্যক্ষ সব ঠিকঠাক দেখে গ্রাহকের কাছে টাকা হস্তান্তর করেন। চেকের গায়ে কোনো লেখার কাটাছেঁড়া হলে তা ফিরিয়ে দেয়া হয়।

ব্যাংক সুত্র জানায়, ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ি পুরাতন চেকের পর নতুন করে চেক নিতে গেলে পুরাতন চেকের রিকোনাইজড কপি জমা দিতে হয়। এরপর গ্রাহকের স্বাক্ষর বা গ্রাহকের পক্ষে কেউ নিলে তার স্বাক্ষরও নেয়া হয়। এসব নোট করা হয় ব্যাংকের নির্দিষ্ট রেজিষ্টার খাতায়, তার পরেই চেকের বই হস্তান্তর করা হয়। অথচ রশিদুল ইসলাম ব্যাংক কর্মকর্তার যোগসাজসে পুরাতন চেকের রিকোনাইজড কপি জমা না দিয়েই তিনজন শিক্ষিকার পক্ষে না নিয়ে সরাসরি ব্যক্তিদের নিজ নামে স্বাক্ষর জাল করে প্রত্যেক বারেই নতুন চেক বই গ্রহণ করেন এবং আলাদা আলাদা সিরিয়ালের চেক দিয়ে টাকা উত্তোলন করেন।

এ প্রসঙ্গে সোনালী ব্যাংকের ফুলবাড়ী শাখার ব্যবস্থাপক মোঃ মজিবুর রহমান ভুইয়াঁ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান, ব্যাংকের কর্মকর্তা গোলাপ উদ্দিনকে শোকজ করা হয়েছে কিন্তু জবাব সন্তুষ্ট নয়। এছাড়া সাইদুর রহমানকে প্রধান করে আক্কাস আলী ও উত্তম কুমারের তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যাংক কর্মকর্তা মোঃ গোলাপ উদ্দিন সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান, তাকে শোকজ করা হয়েছে তার জবাব দিয়েছেন। ভুল করে তিনি এ চক্রে জড়িয়ে পড়েছেন।

এ ব্যাপারে চেক জালিয়াতিতে অভিযুক্ত শিক্ষক রশিদুল ইসলামকে মোবাইল ফোনে কথা বললে সাংবাদিক পরিচয় দিলে তিনি কথা না বলে ফোন কেটে দেন। পরে একাধিকবার মোবাইল ফোন কল দিলে তার সাথে কথাবলা যায়নি।