ফাঁসির রায় হলে আরো খুশি হতাম: তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় খাদিজা

সিলেট প্রতিনিধি – হত্যাচেষ্টাকারী শাবি ছাত্রলীগ ক্যাডার বদরুল আলমের সাজার খবরে খুশি মামলার ভিকটিম খাদিজা বেগম নার্গিস। তবে তিনি বদরুলের ফাঁসি চেয়েছিলেন।

বুধবার দুপুরে রায় ঘোষণার পর সিলেটের নিজ বাসায় তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় গণমাধ্যমকে এ কথা জানান তিনি।

খাদিজা বলেন, ‘আমার মামলায় বদরুলের যাবজ্জীবন সাজা হয়েছে শুনে খুশি হয়েছি। তবে ফাঁসির রায় হলে আরো খুশি হতাম।’ এ সময় তিনি প্রধানমন্ত্রী, আদালত এবং সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানান।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে খাদিজা জানান, এখন তিনি মোটামুটি সুস্থ আছেন।

এর আগে সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক আকবর হোসেন মৃধা বহুল আলোচিত খাদিজা আক্তার নার্গিস হত্যাচেষ্টা মামলায় একমাত্র আসামি বদরুল ইসলামের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেন। এ ছাড়া পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো দুই মাসের কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়।

গত বছরের ৩ অক্টোবর সিলেট এমসি কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষা দিয়ে বের হওয়ার পর শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক বদরুল আলম কুপিয়ে আহত করে খাদিজাকে। ঘটনাস্থল থেকে জনতা ও এমসি কলেজ শিক্ষার্থীরা বদরুল আলমকে আটক করে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেন।

khadiza-bodrul

বদরুলের চাপাতির আঘাতে খাদিজার মাথার খুলি ভেদ করে মস্তিষ্কও জখম হয়। খাদিজাকে কোপানোর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ পেলে দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। হামলার পর প্রথমে খাদিজাকে সিলেট এমএজি ওসমানী হাসপাতালে ও পরে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ৪ অক্টোবর বিকেলে অস্ত্রোপচার করে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয় তাকে। পরে ১৩ অক্টোবর তার লাইফ সাপোর্ট খোলার পর ‘মাসল চেইন’ কেটে যাওয়া তার ডান হাতে অস্ত্রোপচার করা হয়। ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে তিন দফা অস্ত্রোপচারের পর শরীরের বাঁ পাশ স্বাভাবিক সাড়া না দেওয়ায় চিকিৎসার জন্য স্কয়ার থেকে সাভারের সিআরপিতে পাঠানো হয়। সিআরপিতে তিন মাসের চিকিৎসা শেষে ২৪ ফেব্রুয়ারি বাড়ি ফেরেন কলেজছাত্রী খাদিজা।

ঘটনার পরদিন খাদিজার চাচা আবদুল কুদ্দুস বাদী হয়ে দণ্ডবিধির ৩০৭, ৩২৪ ও ৩২৬ ধারায় শাহপরাণ থানায় বদরুলকে একমাত্র আসামি করে মামলা করেন। ওইদিনই বদরুলকে বহিষ্কার করে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বদরুলের বাড়ি সুনামগঞ্জের ছাতকে ও খাদিজা সিলেট সদর উপজেলার আউশা গ্রামের মাসুক মিয়ার মেয়ে।

গত বছরের ৮ নভেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নগরীর শাহপরাণ থানার এসআই হারুনুর রশীদ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরে ১৫ নভেম্বর আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন। ২৯ নভেম্বর আদালত বদরুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন।

আমার ওপর অবিচার করা হয়েছে : রায় শোনার পর প্রতিক্রিয়ায় বদরুল

উচ্চ আদালতে যাওয়ার চিন্তা করছেন খাদিজার পরিবার

বাংলাদেশের ইতিহাসে এ রায় ঐতিহাসিক: খাদিজার আইনজীবি