৩ ঘণ্টার জন্য ছেলেসহ প্যারোলে মুক্তি পাচ্ছেন এমপি হান্নান

সময়ের কণ্ঠস্বর – স্ত্রীর মৃত্যুর কারণে একাত্তরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আটক ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) আসনের সংসদ সদস্য এম এ হান্নান ও তার ছেলেকে প্যারোলে আজ বুধবার বেলা ৩ টা থেকে ৬ টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টার জন্য মুক্তি দিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ডিসিসহ সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

এমপি হান্নানের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুস সুবহান তরফদার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আইনজীবীর জানান, আদালত ঢাকা জেলা প্রশাসককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য বলেছেন।

হান্নানের পক্ষে করা আবেদনের প্রেক্ষিতে বুধবার ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. আনোয়ারুল হকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন বলে জানান প্রসিকিউটর রেজিয়া সুলতানা চমন।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ২০১৬ সালের ১১ ডিসেম্বর এমপি হান্নানসহ আটজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এম এ হান্নানসহ (৮০) এ মামলার পাঁচ আসামি গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছেন। অন্য চার আসামিরা হচ্ছেন- এম এ হান্নানের ছেলে রফিক সাজ্জাদ (৬২), ডা. খন্দকার গোলাম সাব্বির আহমদ(৬৪,, মিজানুর রহমান মিন্টু (৬৩) ও মো. হরমুজ আলী (৭৩)। পলাতক অপর তিন আসামিরা হচ্ছেন- ফখরুজ্জামান (৬১), আব্দুস সাত্তার(৬৪) ও খন্দকার গোলাম রব্বানী(৬৩)।

mp-hannan

২০১৬ সলের ১১ জুলাই হান্নানসহ আটজনের বিরুদ্ধে তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেন তদন্ত সংস্থা। এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. মতিউর রহমান ২০১৫ সালের ২৮ জুলাই থেকে ২০১৬ সালের ১১ জুলাই পর্যন্ত তদন্ত কাজ সম্পন্ন করেন। একই বছরের ১ অক্টোবর প্রসিকিউশনের আবেদনক্রমে এ মামলার আট আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল। পরে ওইদিনই ঢাকায় গ্রেফতার হন এম এ হান্নান ও তার ছেলে রফিক সাজ্জাদ। ময়মনসিংহ সদর ও ত্রিশালে গ্রেফতার হন বাকি তিনজন।

২০১৫ সালের ১৯ মে এমপি হান্নানসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মামলাটি দায়ের করেন শহীদ মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুর রহমানের স্ত্রী রহিমা খাতুন। মামলায় জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য এম এ হান্নান ছাড়াও জামায়াত নেতা ফখরুজ্জামান ও গোলাম রাব্বানীকে আসামি করা হয়। পরে তদন্তে আরও পাঁচজনের সম্পৃক্ততা পাওয়ায় এ মামলার আসামি হয়েছেন মোট আটজন।