বকশীগঞ্জ সরকারি কিয়ামত উল্লাহ কলেজে শিক্ষক সংকট

আবদুল লতিফ লায়ন, জামালপুর প্রতিনিধি: শিক্ষক-সংকটের কারণে জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার সরকারি কিয়ামত উল্লাহ কলেজে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। কলেজে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২ হাজার ৪০০। শিক্ষক আছেন ৮ জন। পাঁচ মাস ধরে ইংরেজিসহ আটটি বিষয়ে কোনো শিক্ষকই নেই।

jamal-pur

কলেজ সূত্রে জানা গেছে, ৯ একর জমির ওপর ১৯৭২ সালে কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৮৯ সালে এটি সরকারীকরণ হয়। কলেজে একাদশ, দ্বাদশ ও স্নাতক শ্রেণি চালু রয়েছে। ২২ জন শিক্ষক থাকার কথা রয়েছে। অথচ আছেন ৮ জন। বাংলা বিষয়ে ২ জন এবং ইসলামের ইতিহাস, হিসাববিজ্ঞান, ব্যবস্থাপনা, অর্থনীতি, দর্শন ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ১ জন করে শিক্ষক রয়েছেন। পাঁচ মাস ধরে ইংরেজি, রসায়ন, পদার্থ, গণিত, জীববিজ্ঞান, ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং, কৃষিবিজ্ঞান ও আইসিটি বিষয়ে ১৪ জন শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে।

জানা যায়, বকশীগঞ্জ, দেওয়ানগঞ্জ, ইসলামপুর, কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলার অনেক শিক্ষার্থী এখানে লেখাপড়া করেন। বিজ্ঞান বিভাগে কোনো শিক্ষক নেই। একজন শিক্ষক দিয়ে এত সংখ্যক শিক্ষার্থীকে পাঠদান করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এতে করে শিক্ষার মান খারাপের দিকে যাচ্ছে।

বিজ্ঞান বিভাগের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী মুহাম্মদ আদিল বলেন, কলেজে শিক্ষক-সংকট প্রকট আকার নিয়েছে। গত এক সপ্তাহে বিজ্ঞান বিভাগে মাত্র একটি ক্লাস হয়েছে। এই বিভাগের কোনো শিক্ষক নেই। স্থানীয় চারজন অতিথি শিক্ষক দিয়ে বিভিন্ন বিষয়ের ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। এতে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা চিন্তার মধ্যে রয়েছে। পরীক্ষায় খারাপ করার আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি এই বিভাগের শিক্ষার্থীদের। মানবিক শাখার একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী মাহামুদা খাতুন বলেন, ইসলামের ইতিহাস বিষয়ের শিক্ষক আমাদের ইংরেজির ক্লাস নেন। শিক্ষক-সংকটের কারণে আমরা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।

বাংলা বিভাগের প্রভাষক আসলাম হোসেন বলেন, ২২ জনের কাজ ৮ জন শিক্ষকের পক্ষে করা সম্ভব নয়। এত বেশি শিক্ষার্থীর চাপ সামলাতে আমাদের ওপর মানসিক চাপ বেড়ে যাচ্ছে। সমস্যার সমাধান জরুরি হয়ে পড়েছে। শিক্ষক-সংকটের কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো নয়। ফলে শহরাঞ্চল থেকে কোনো শিক্ষক আসতে চান না। এলেও কলেজে থাকার কোনো আবাসিক ব্যবস্থা নেই। ফলে শিক্ষকেরা কলেজে যোগ দেওয়ার কিছুদিন পরই আবার চলে যান।

ইসলামের ইতিহাস বিভাগের প্রভাষক রবিউল ইসলাম বলেন, আমার বিষয়ের ক্লাস নেওয়ার পর অধ্যক্ষের অনুরোধে ইংরেজি ক্লাস নিতে হয়। কলেজে শিক্ষক-সংকট প্রকট। গুরুত্বপূর্ণ ইংরেজি বিষয়ে একজনও শিক্ষক নেই। ইংরেজি বিষয়ে আমার একটি কোর্স করা ছিল। ওই বিষয়ে কোনো শিক্ষক না থাকার কারণে মাঝে মধ্যে ক্লাস নিতে হয়।

কলেজের অধ্যক্ষ পরিতোষ চন্দ্র দাস বলেন, শিক্ষক-সংকটের কারণে কলেজ চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। পুরো কলেজে মাত্র ৮ জন শিক্ষক। ২ হাজার ৪০০ জন শিক্ষার্থী। এই ৮ জন শিক্ষক দিয়ে কীভাবে চলে। বাধ্য হয়ে ৪ জন অতিথি শিক্ষক নেওয়া হয়েছে। কলেজে শিক্ষক এলেও কয়েক মাস থাকার পর তদবির করে আবার বদলি হয়ে যান। ফলে শিক্ষক-সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। এতে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ারও ক্ষতি হচ্ছে। প্রতি মাসেই শিক্ষক-সংকটের বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জানানো হয়।