রাগীব আলী ও তার ছেলের এক বছরের কারাদণ্ড

সিলেট প্রতিনিধি – রাগীব আলী ও তার ছেলে আবদুল হাইয়ের বিরুদ্ধে পলাতক অবস্থায় ‘দৈনিক সিলেটের ডাক’ সংবাদপত্র সম্পাদনা জনিত প্রতারণার অভিযোগে করা মামলায় তাদের এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আজ বৃহস্পতিবার (৯ মার্চ) সিলেটের মুখ্য মহানগর বিচারিক হাকিম মো. সাইফুজ্জামান হিরো এ রায় দেন।

আদালতের অতিরিক্ত পিপি মাহফুজুর রহমান জানান, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি এই মামলার অভিযোগ গঠন করেন আদালত। সাক্ষ্যগ্রহণের পর সোমবার (৬ মার্চ) যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আজ বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

এদিকে, রাগীব আলী ও তার ছেলে আবদুল হাই পলাতক থাকাবস্থায় পত্রিকা প্রকাশ করলেও অবৈধ প্রকাশনার ব্যাপারে দায়িত্বশীলরা কোনো ব্যবস্থা নেননি। এ বিষয়ে দুদকে অভিযোগ দেয়ার জন্য নালিশকারী গিয়াস উদ্দিনকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

নালিশকারীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট শহীদুজ্জামান চৌধুরী ও বাদী ছাতক প্রেসক্লাবের সভাপতি গিয়াস উদ্দিন তালুকদার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ragib-abdul-hai

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০১৬ সালের ৮ সেপ্টেম্বর রাগীব আলী ও আবদুল হাইয়ের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ এনে মামলা করেন গিয়াস উদ্দিন তালুকদার। পলাতক অবস্থায় সম্পাদনাজনিত প্রতারণার অভিযোগ এনে রাগীব আলীর ৫৮ বছর ও তার ছেলে আবদুল হাইয়ের ২৯ বছরের কারাদণ্ডের আবেদন করেন বাদী।

আদালত ওইদিন মামলাটি আমলে নিয়ে দণ্ডবিধির ৪১৭ ধারায় তাদের বিরুদ্ধে সমন জারির আদেশ দেন। তবে সমন পাওয়ার পর জবাব না দেয়ায় পরের মাসে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

সিলেটের হাজার কোটি টাকার দেবোত্তর সম্পত্তি তারাপুর চা বাগান দখলের অভিযোগে দুটি মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর গতবছরের ১০ আগস্ট রাগীব আলী ও তার একমাত্র ছেলে আবদুল হাই ভারতে পালিয়ে যান। সেই সময় রাগীব আলী সিলেটের ডাক পত্রিকার সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি এবং তার ছেলে আবদুল হাই সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন।

পরে আবদুল হাইকে সম্পাদকের পদ থেকে সরানো হলেও রাগীব আলী স্বপদে বহাল থাকেন।