চুরির অভিযোগে দুই কিশোরকে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্মম নির্যাতন, গ্রেপ্তার ২ ইউপি সদস্য

রাজশাহী প্রতিনিধি – রাজশাহীর দুর্গাপুরে ছাগল চুরির অভিযোগে দুই স্কুলছাত্রকে গাছে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনায় নয়জনকে আসামী করে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে ঝালুকা ইউনিয়নের আমগাছি বাজার থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- ঝালুকা ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডে সদস্য আব্দুল মোতালেব ও ৫ নং ওয়ার্ডের সদস্য আব্দুল লতিব। তাদের বিরুদ্ধে নির্যাতনের পর অিভযুক্তদের কাছ থেকে ১৬ হাজার টাকা জরিমানা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে উঠেছে।

দুর্গাপুর থানার ওসি রুহুল আলম বলেন, ছাগল চুরির অভিযোগ এসে দুই কিশোরকে গাছে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনায় বৃহস্পতিবার সকালে থানায় মামলা দায়ের করা হয়। নির্যাতনের শিকার জার্জিস হোসেনের বাবা জিয়াউর রহমান বাদি হয়েছে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় ঝালুকা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোজাহার আলী মন্ডলসহ নয়জনকে আসামী করা হয়েছে।

তিনি জানান, ওই মামলায় দুই ইউপি সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে খবর পেয়ে রাতেই নির্যাতিত দুই শিশুকে পুলিশ হেফাজতে নিতো তাদের চিকিৎসার জন্য দুর্গাপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাতে দুই কিশোর আন্দুয়া গ্রামের রেজাউলের বাড়ি থেকে ছাগল চুরি করে। বুধবার ভোরে রাজশাহীর হরিয়ান বাজার দিয়ে ছাগলটি নিয়ে যাওয়ার সময় নিরাপত্তা প্রহরী সন্দেহবশত ছাগলসহ তাদের আটক করে।

kishor-nirjaton-op-membarনির্যাতিত ওই দুই কিশোর হল- উপজেলার হাড়িয়াপাড়া গ্রামের জিয়াউর রহমানের ছেলে জার্জিস হোসেন (১৫) ও পলাশবাড়ি গ্রামের সেকু আলীর ছেলে রতন আলী (১৪)। তারা উপজেলার আমগাছী সাহারবাণু উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র।

নির্যাতনের শিকার এক কিশোরের বাবা বলেন, বাচ্চারা ভুল করেছে। তাই বলে তাদের গাছে বেঁধে পেটানো কোন আইনে আছে আমার জানা নেই। আবার ছাগল ফেরত দেওয়ার পরও ১৬ হাজার টাকা আদায় করা হয়েছে।

উপজেলার ঝালুকা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য আব্দুল মোতালেব জানান, চুরির খবর পেয়ে আমি গিয়ে ছাগলসহ দুইজনকে উদ্ধার করে নিয়ে আসি। প্রথমে তারা চুরির কথা অস্বীকার করে। পরে চড়থাপড় দিলে স্বীকার করে।

এ বিষয়ে গ্রামের সালিশ-বৈঠক হয় জানিয়ে তিনি বলেন, সালিশে দুইজনের ১৬ হাজার টাকা জরিমানা হয়। এর মধ্যে আড়াই হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে ছাগলের মালিক রেজাউলকে। আর বাকি টাকা খরচ হয়েছে দুইজনকে হরিয়ান বাজার থেকে ছাড়িয়ে আনতে গিয়ে।