৭ দিনের মধ্যে বিজিএমইএ ভবন ভাঙার পদক্ষেপ চেয়ে নোটিশ

সময়ের কণ্ঠস্বর – সাত দিনের মধ্যে রাজধানীর হাতিরঝিলে অবস্থিত বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক সমিতির (বিজিএমইএ) ভবন ভাঙার পদক্ষেপ চেয়ে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যানকে আদালত অবমাননার নোটিশ দিয়েছেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। এ সময়ের মধ্যে পদক্ষেপ না নিলে তার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনা হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

নোটিশ পাঠানোর বিষয়ে বৃহস্পতিবার নিশ্চিত করেছেন মনজিল মোরসেদ।

তিনি বলেন, ৯০ দিনের মধ্যে বিজিএমইএ ভবন ভাঙতে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে গত ২ জুন বিজিএমইএ-এর আপিল খারিজ হয়ে যায়। রায়ে বলা হয়েছিলো, বিজিএমইএ তাদের ভবন না ভাঙলে রাজউককে ভবন ভাঙতে হবে। কিন্তু রায়ের অনুলিপি পাওয়ার ৯০ দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি শেষ হয়ে যায়। এরপরেও রাজউক চেয়ারম্যান ভবন ভাঙতে কার্যকরী পদক্ষেপ না নেওয়ায় আদালতের রায়ের প্রতি অশ্রদ্ধা এবং আদেশ অমান্যের শামিল।

নোটিশে রাজউক চেয়ারম্যানকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়, এ নোটিশ পাওয়ার সাত দিনের মধ্যে বিজিএমইএ ভবন ভাঙার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করে আমাকে (মনজিল মোরসেদ) অবহিত করবেন। অন্যথায় আপিল বিভাগে আপনার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনা হবে।

bgmea-highcort

এদিকে বহুতল ভবন ভাঙতে তিন বছর সময় চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে একটি আবেদন করেছে বিজিএমইএ। রবিবার এর ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি বেঞ্চ এই দিন ধার্য করেন।

এরআগে, আবেদনের কথা জানান সংগঠনটির আইনজীবী ব্যরিস্টার ইমতিয়াজ মইনুল ইসলাম। তিনি বলেন, আদালতের আদেশ অনুযায়ী তিন বছর সময় চেয়ে আবেদন করা হয়েছে।

গত ৫ মার্চ বিজিএমইএ ভবন ভাঙতে কত সময় লাগবে তা ৯ মার্চের মধ্যে আদালতে আবেদন করতে বলেছিলেন আপিল বিভাগ। ওইদিন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে তিন সদস্যের বেঞ্চ রিভিউ আবেদন খারিজ করে বিজিএমইএ ভবন ভাঙার রায় বহাল রাখেন।

আদালতে বিজিএমইএ’র পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী কামরুল হক সিদ্দিকী। সঙ্গে ছিলেন ইমতিয়াজ মইনুল ইসলাম। আর রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

বুধবার এ প্রসঙ্গে বিজিএমইএর সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘আদালত যে রায় দিয়েছেন, আমরা মেনে নিয়েছি। আদালত জানতে চাইছেন, এখান থেকে সরে যেতে আমাদের কতদিন লাগবে। সেখানে আমরা তিনবছর সময় চেয়ে পিটিশন করেছি। আমরা এখানে কিছু জরুরি কাজ করি। এ জন্য আমাদের কিছু সময়ের প্রয়োজন। এখন মহামান্য আদালত যেটা বলবেন, আমরা সেটাই করবো।’

কিন্তু দপ্তর সরাতে কেন এতদিন সময় লাগবে? জিজ্ঞেস করা হলে রহমান বলেন, ‘এটা সাময়িকভাবে সরিয়ে নেয়ার মতো বিষয় না। আমাদের আরেকটা স্থায়ী ভবন তৈরি করে সেখানে স্থায়ীভাবে সরে যেতে হবে। সে জন্যই এই সময় দরকার। আমাদের অফিসটা একেবারে ছোট না, তিনশোর মতো কর্মী আছে। এখানে আমরা ইউডি, ইউপি ও সিও ইস্যু করি। সব সময়েই আমাদের কাজ চালিয়ে যেতে হয়।’