পোশাক শ্রমিকদের জন্য ‘মোবাইল মানি’

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক – সুইডিশ ফ্যাশন ব্র্যান্ড এইচ অ্যান্ড এম বুধবার ঘোষণা দিয়েছে যে, প্রতিষ্ঠানটির পণ্য সরবরাহকারীরা যাতে তাদের শ্রমিকদের মোবাইলের মাধ্যমে ডিজিটাল পদ্ধতিতে মজুরি পরিশোধে উৎসাহিত করে৷

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার এবং কোম্পানিগুলোকে ডিজিটাল ইকোনমিতে যোগ দিতে জাতিসংঘের নেয়া এক উদ্যোগের অংশ হওয়ার পরই এই ঘোষণা দেয় এইচ অ্যান্ড এম। ‘দ্য বেটার দ্যান ক্যাশ’ অ্যালায়েন্সে প্রথম কোনো পোশাক ব্র্যান্ড হিসেবে যোগ দিয়েছে সুইডিশ প্রতিষ্ঠানটি৷

এইচঅ্যান্ডএম-এর সোশ্যাল স্ট্যাবিলিটি ম্যানেজার গুস্তাভ লাভেন এই বিষয়ে এক বিবৃতিতে বলেন, ‘‘আমাদের পণ্য সরবরাহকারীদের কর্মীদের জীবনমান উন্নয়নে ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা একটি কার্যকর এবং পরিমাপযোগ্য ব্যবস্থা৷”

তিনি বলেন, “এই ব্যবস্থায় আরো দ্রুত, আরো নিরাপদে এবং স্বচ্ছভাবে কর্মীরা বেতন পাবে, যা তাদের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়াবে এবং নারীর অর্থনৈতিক স্বাধীনতার বিষয়টিকে এগিয়ে নেবে৷”

নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার ‘দিন বদলের সনদ’-এর অংশ হিসেবে ‘২০২১ সালের মধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশ’-এর উদ্ভব৷ ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনকে সামনে রেখে ২০০৮ সালের ১২ ডিসেম্বর এ ঘোষণা দেয়া হয়৷

garments-worker-mobile-money-somoyerkonthosor

প্রসঙ্গত, এইচঅ্যান্ডএমের সাপ্লাই চেইনে কর্মরতদের মধ্যে ৬৫ শতাংশই নারী, তবে তাদের অনেকের আর্থিক সেবা নেয়ার সুযোগ সীমিত৷ লাভেন মনে করেন, ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেমের কারণে পোশাক কারখানার মালিকরাও লাভবান হবেন, কারণ, এতে করে খরচ কমবে এবং নিরাপত্তা বাড়বে৷ পাশাপাশি চাকুরিদাতারা ঠিক কত টাকা বেতন দিচ্ছেন তা-ও আরো স্বচ্ছভাবে জানা যাবে বলে মনে করেন তিনি৷

উল্লেখ্য, চার বছর আগে ঢাকার সাভারে রানা প্লাজা ধসে ১,১৩৬ জন শ্রমিক নিহতের ঘটনার পর পোশাক কারখানার মান উন্নয়ন এবং শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোর উপর চাপ বাড়তে থাকে৷ এইচঅ্যান্ডএমসহ অনেক ব্র্যান্ডের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে যে, শ্রমিকদের জন্য সুষ্ঠু কাজের পরিবেশ নিশ্চিতে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণে ব্যর্থ হয়েছে তারা৷ বিশেষ করে অনেক পোশাক কারখানায় শ্রমিকদের কাজের পরিবেশ স্বাস্থ্যসম্মত ছিল না৷ মোটের উপর তাদের বাড়তি সময় কাজ করানো হতো৷

রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর অবশ্য বাংলাদেশের পরিস্থিতি কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে৷ শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নিশ্চিত করাসহ কারখানার নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানো হয়েছে৷ আর আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোও শ্রমিকদের অধিকারের বিষয়ে আগের চেয়ে সচেতনতার পরিচয় দিয়েছে৷