মোবাইল ফোনে পরিচয়, অত:পর প্রেমের ছুঁতোয় কিশোরীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ ৩ সন্তানের জনকের বিরুদ্ধে

মোঃ মহিবুল্লাহ্ আকাশ, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, নীলফামারী: নীলফামারীর সৈয়দপুরে এক অসম বয়সী প্রেমিকাকে বন্ধুর বাড়িতে নিয়ে স্ত্রী পরিচয় দিয়ে রাতভর ধর্ষণ করেছে তিন সন্তানের জনক এক লম্পট। পরে এলাকাবাসী তাদের আটক কওে ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে সৈয়দপুর থানায় সোপর্দ করেছে। আটককৃত ওই লম্পট প্রেমিক হলো দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার বড় কেরাছপুর (আফতাবগঞ্জ স্বপ্নপুড়ি) গ্রামের মৃত কলিম উদ্দিনের পুত্র তিন সন্তানের জনক কাজল ইসলাম (৩৮)। এবং প্রতারণার শিকার ওই প্রেমিকা হলো- রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বাজিতপুর গ্রামের শামসুল হক সরকারের মেয়ে সদ্য এসএসসি পরীক্ষা দেয়া সুবর্ণা ইয়াসমীন (১৬)। বৃহস্পতিবার (৯ মার্চ) রাত ৮ টায় উপজেলার কামারপুকুর থেকে তাদের হেফাজতে নেয় পুলিশ।


প্রতারণার শিকার সুবর্ণা সময়ের কণ্ঠস্বর-কে জানায়, ছয় মাস আগে রং নাম্বারের সূত্রে কাজলের সাথে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পরিচয় হয়। এরপর ধীরে ধীরে তা প্রেমের সম্পর্কে গড়ায়। সে যে এত বয়স্ক, বিবাহিত ও তিন সন্তানের জনক তা আমার জানা ছিল না। বুধবার (৮ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০ টায় তার সাথে দেখা করার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হই। রংপুরের পীরগঞ্জ বাজারে কাজলের সাথে আমার দেখা হওয়ার পর তার অনেক বয়স দেখে তার সাথে ঘুরতে যেতে অস্বীকৃতি জানাই। কিন্তু সে আমাকে জোরপূর্বক অটোরিক্সায় তুলে নিয়ে রংপুর শহরে আসার পর বাসে তুলে সৈযদপুরে নিয়ে আসে। লম্পট কাজলের বিচার চেয়ে সুবর্ণা জানায়, এরপর আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে তার এক বন্ধুর বাড়িতে নিয়ে যায় এবং স্বামী-স্ত্রীর অভিনয় করতে বলে।

soidpur

এদিকে আশ্রয়দানকারী বন্ধু কামারপুকুর ইউপির আইসঢাল হাজীপাড়া গ্রামের কবির উদ্দিনের পুত্র জহুরুল ইসলাম (৩০) কে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে সে সময়ের কণ্ঠস্বর-কে জানায়, স্বপ্নপুড়ি এলাকার এশটি ইঁভাটায় আগুন মিস্ত্রী হিসেবে কাজ করার সুবাদে কাজলের সাথে পরিচয়। বুধবার (৮ মার্চ) বিকেলে সুবর্ণাকে নিজের স্ত্রী পরিচয় দিয়ে আমার বাসায় ওঠে কাজল। এখানে রাত যাপনের পর বৃহস্পতিবার (৯ মার্চ) দুজনের বয়সের অনেক ব্যবধান ও তাদের গতিবিধি দেখে আমার সন্দেহ হলে আমি কাজলকে জেরা করলে তারা স্বামী-স্ত্রী নয় বলে স্বীকার করে। এরপর আমি ওই দু’জনকে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে সোপর্দ করি।

কামারপুকুর ইউপি চেয়ারম্যান রেজাউল করিম লোকমান সময়ের কণ্ঠস্বর-কে জানান, কাজল ও সুবর্ণা দুজনের মাঝে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এলাকাবাসী তাদের আটক করে আমার কাছে সোপর্দ করলে আমি সৈয়দপুর থানায় হস্তান্তর করি।

এ ব্যাপারে সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সৈয়দ আমীরুল ইসলাম সময়ের কণ্ঠস্বর-কে জানান, খবর পেয়ে ওই অসম বয়সী প্রেমিক যুগলকে থানায় আনা হয়েছে। মেয়ের অভিভাবক থানায় রয়েছে। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে এ ব্যাপারে আইনী পদক্ষেপ নেয়া হবে।