‘আমরা নাকি গৃহপালিত বিরোধী দল, তাহলে তোমরা কী করেছ?’

সময়ের কণ্ঠস্বর – বিএনপি নেত্রী খালদা জিয়ার প্রতি ইঙ্গিত করে বিরোধী দলীয় নেত্রী রওশন এরশাদ বলেছেন, ‘আমরা নাকি গৃহপালিত বিরোধী দল। তাহলে তোমরা কী করেছ? তোমরা তো সংসদে যাও নাই, জনগণের কথা বলো নাই। আমরা দেশের মানুষের জন্য কাজ করছি। সরকারের উন্নয়ন কাজে সহযোগিতা করছি।’

বৃহস্পতিবার দশম জাতীয় সংসদের ১৪তম অধিবেশনের ৩৭তম কার্য দিবসে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

রওশন এরশাদ বলেন, ‘প্রত্যেক দেশে নির্বাচন হয় পলিটিক্যাল গভর্নমেন্টের মাধ্যমে। কিন্তু আমাদের দেশে নির্বাচন চাই কেয়ারটেকার গভর্নমেন্টের মাধ্যমে। কারণ, আমরা একজন আরেকজনকে বিশ্বাস করি না। আমরা যদি একজন আরেকজনকে বিশ্বাস না করি, জনগণ আমাদের বিশ্বাস করে ভোট দেবে কী করে?’

তিনি বলেন, ‘আগে দেখা গেছে, যে দল যখন ক্ষমতায় আসে, তখন বিরোধী দল একটা না একটা কিছু সমস্যা সৃষ্টি করে। আর সরকারি দল বিরোধী দলকে দমাতে ব্যস্ত থাকে। এজন্য উন্নয়ন কাজে ব্যাঘাত ঘটে। জনগণের জন্য যতই গুরুত্বপূণ বিষয় হোক না কেন, কোনো সময় আমরা একমত পোষণ করি না। এটা আমাদের বিশেষত্ব। এটা আমাদের ছাড়তে হবে। একে অপরের সঙ্গে বসে মিলেমিশে কথা বলতে হবে। জনগণের জন্য, দেশের জন্য যেটা ভালো, সেটাই করতে হবে। যদি যেকোনো বিষয় একমত পোষণ করি তাহলে উন্নয়ন কাজে কোনো ব্যাঘাত ঘটবে না।’

rouson-songsod

বিভিন্ন মহলে জাতীয় পার্টিকে গৃহপালিত বিরোধী দল হিসেবে সমালোচনা করার প্রসঙ্গে রওশন এরশাদ বলেন, ‘এখন অনেক আজেবাজে কথা বলা হচ্ছে। আমরা নাকি গৃহপালিত বিরোধী দল। তাহলে তোমরা কী করেছ? তোমরা তো সংসদে যাও নাই, জনগণের কথা বলো নাই। আমরা দেশের মানুষের জন্য কাজ করছি, সরকারের উন্নয়ন কাজে সহযোগিতা করছি। সেজন্য তারা ভালোভাবে দেখছে না। প্রধানমন্ত্রী সারাক্ষণ দেশ নিয়ে ভাবছেন। আমরা মিলেমিশে থাকলে দেশ তো এগিয়ে যাবেই।’

তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশে প্রচুর খাদ্য উৎপাদিত হচ্ছে। মানুষ না খেয়ে নেই। কিন্তু শরীরের জন্য নিরাপদ, স্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ খাদ্য এখানে নেই। এটাই আমাদের বড় সমস্যা। নিরাপদ খাদ্যের নিশ্চয়তা একমাত্র দিতে পারেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি যদি চিন্তা করেন, তাহলে এটা সম্ভব। কারণ, উনার মায়ের মতো মন আছে। আগামী প্রজন্ম, যারা আমাদের দেশ গড়ে তুলবে, তারা যদি নিরাপদ খাদ্য না পায় তাহলে দেশের জন্য অবদান রাখবে কীভাবে? তাদের নিরাপদ খাদ্যে দিতে না পারলে তারা কোনো অবদান রাখতে পারবে না। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে উদ্যোগ নিতে হবে।’

সাংবাদিকদের নবম ওয়েজ বোর্ড গঠনে সংসদ নেতা শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, ‘সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতা বাড়লেও সাংবাদিকদের বেতন-ভাতা বাড়েনি। আপনি অনেক বেশি জনদরদী, আপনার কাছে অনুরোধ করব, সাংবাদিকদের নবম ওয়েজ বোর্ড গঠনে উদ্যোগী হোন।’