স্বপ্ন দেখালেন তামিম-সৌম্য!

স্পোর্টস আপডেট ডেস্ক – গল টেস্টের পঞ্চম বা শেষ দিন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের জন্য টার্গেট ৩৯০ রান। চতুর্থ দিন শেষে টাইগাররা বিনা উইকেটে তুলেছে ৬৭ রান। আলোক স্বল্পতায় দিনের আরও ১১ ওভার বাকি থাকলেও মাঠে বল গড়ায়নি। লঙ্কান দলপতি রঙ্গনা হেরাথের পরিকল্পনাকে আরও দীর্ঘায়িত করলো তামিম-সৌম্যরা।

চতুর্থ দিনের শেষ সেশনে টাইগারদের ব্যাটিংয়ে আনার পরিকল্পনা করে লঙ্কানরা। ইনিংস ঘোষণার মধ্যদিয়ে হেরাথ বুঝিয়ে দেন চতুর্থ দিনের শেষ বেলায় সফরকারীদের টপঅর্ডার ফিরিয়ে দেবেন। কিন্তু, সাবলীল ছিলেন তামিম-সৌম্য। বরং পঞ্চম দিনে ম্যাচ টেনে নিয়ে হাতে সব উইকেট রেখে লঙ্কান সিংহদের চোখে চোখ রেখে জবাব দিতে নামবে টাইগাররা।

৪৫৭ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে দিনের শেষ সেশনে নামেন ওপেনার তামিম ইকবাল এবং সৌম্য সরকার। বেশ সতর্ক থেকেই ইনিংস শুরু করেন তারা। চতুর্থ দিন শেষে তামিম ৪৪ বলে ১৩ রানে অপরাজিত আছেন। প্রথম ইনিংসের হাফসেঞ্চুরিয়ান সৌম্য এই ইনিংসেও নিজের অর্ধশতক তুলে নিয়েছেন। ওয়ানডে স্টাইলে ব্যাট চালিয়ে ৪৭ বলে ৫৩ রান নিয়ে অপরাজিত সৌম্য। তার ইনিংসে ৬টি চারের পাশাপাশি রয়েছে একটি ছক্কা।

প্রথম ইনিংসে ১৮২ রানের লিড পাওয়ায় সুবিধাজনক অবস্থানে ছিল লঙ্কানরা। নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ৬ উইকেট হারিয়ে ২৭৪ রানে ইনিংস ঘোষণা করে শ্রীলঙ্কা। ফলে, সফরকারী বাংলাদেশের জয়ের জন্য প্রয়োজন ৪৫৭ রান। রেকর্ড গড়েই গল টেস্ট নিজেদের করে নিতে হবে টাইগারদের। এর আগে ২০১২ সালে ৫১০ রানের টার্গেটে ব্যাটিংয়ে নেমে পাকিস্তান তুলেছিল ৩০০ রান। বাংলাদেশের সামনে শেষ দিনও (১১ মার্চ, ম্যাচের পঞ্চম দিন) তাই কঠিন টার্গেটই অপেক্ষা করছে।

গল আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে শুক্রবারের (১০ মার্চ) প্রথম সেশনে ৮৭ রানের (৩৩ ওভার) বিপরীতে সফরকারীদের একমাত্র প্রাপ্তি ছিল দিমুথ করুনারাত্নের (৩২) উইকেট। ২৩তম ওভারে এসে ওপেনিং পার্টনারশিপ (৬৯) ভাঙেন তাসকিন আহমেদ। ডিপ স্কয়ার লেগে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ক্যাচবন্দি হন করুনারাত্নে। প্রথম ইনিংসে ১৯৪ রান করা কুশল মেন্ডিস বেশিদূর এগোতে পারেননি। ৪২তম ওভারে ব্যক্তিগত ১৯ রানে সাকিব আল হাসানের বলে তাসকিন আহমেদের হাতে ধরা পড়েন। আউট হওয়ার আগে থারাঙ্গার সঙ্গে ৬৫ রানের জুটি গড়েন।

ক্যারিয়ারের তৃতীয় টেস্ট সেঞ্চুরি উদযাপন করেন অভিজ্ঞ বাঁহাতি ব্যাটসম্যান থারাঙ্গা। মেহেদী হাসান মিরাজের বলে বোল্ড হওয়ার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ১১৫। দিনেশ চান্দিমালের সঙ্গে থারাঙ্গার জুটিতে আসে ৬৪। দলীয় ১৯৮ রানে তৃতীয় উইকেট হারায় লঙ্কানরা। এক রান যোগ হতেই প্রথম ইনিংসে ৮৫ রান করা আসিলা গুনারাত্নের (০) স্ট্যাম্পে আঘাত হানেন সাকিব।

প্রথম ইনিংসের আরেক হাফ সেঞ্চুরিয়ান নিরোশান ডিকওয়েলাকে (১৫) লিটন দাসের গ্লাভসবন্দি করেন মিরাজ। একই ওভারে (৬১তম) প্রথম ইনিংসের তৃতীয় ফিফটি হাঁকানো দিলরুয়ান পেরেরাকে ফেরাতে পারতেন মিরাজ। কিন্তু, মিডউইকেট বাউন্ডারিতে ক্যাচ হাতছাড়া করে ছক্কা উপহার দেন মাহমুদউল্লাহ!

tamim-soummoদিনেশ চান্দিমাল ৭৫ বলে ৫০ রান করে অপরাজিত থাকেন। ষষ্ঠ ব্যাটসম্যান হিসেবে বিদায় নেন দিলরুয়ান পেরেরা। ব্যক্তিগত ৩৩ রানে উইকেটের পেছনে লিটনের হাতে ধরা পড়েন তিনি। পেরেরার উইকেটটি তুলে নেন মোস্তাফিজ।

বাংলাদেশের হয়ে মিরাজ আর সাকিব দুটি করে উইকেট পান। একটি করে উইকেট নেন মোস্তাফিজ আর তাসকিন। বৃহস্পতিবার (৯ মার্চ) তৃতীয় দিনের তৃতীয় সেশন ভাসিয়ে নেয় বৃষ্টি! মাত্র ৫১.২ ওভারের খেলা হয়। বাংলাদেশকে ৩১২ রানে অলআউট করলেও বৃষ্টির কারণে লঙ্কানদের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নামা হয়নি।

তার আগে মুশফিক-মিরাজের ১০৬ রানের সপ্তম উইকেট জুটিতে ফলোঅন এড়ায় টাইগাররা। অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের ব্যাট থেকে আসে ৮৫। দলীয় ৩০৮ রানে নবম ব্যাটসম্যান হিসেবে বিদায় নেন তিনি। চার রান যোগ হতেই দলীয় ইনিংসের সমাপ্তি ঘটে। মিরাজ করেন ৪১। ২৩ রান করে আউট হন সাকিব আল হাসান। ১১৮ রানের ওপেনিং জুটিতে দুর্দান্ত শুরু এনে দিয়েছিলেন তামিম ইকবাল (৫৭, রানআউট) ও সৌম্য সরকার (৭১)। কিন্তু, মুমিনুল-সাকিব-লিটন-মাহমুদউল্লাহদের ব্যর্থতায় দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় লঙ্কানদের হাতে।তিনটি করে উইকেট লাভ করেন দুই স্পিনার দিলরুয়ান পেরেরা ও দলপতি রঙ্গনা হেরাথ। সুরাঙ্গা লাকমল, লাহিরু কুমারা ও লক্ষণ সান্দাকান নেন একটি করে।

প্রথম ইনিংসে কুশল মেন্ডিসের (১৯৪) ব্যাটিং নৈপুণ্যে স্কোরবোর্ডে ৪৯৪ রান তোলে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা শ্রীলঙ্কা। অর্ধশতক হাঁকান অাসিলা গুনারাত্নে (৮৫), নিরোশান ডিকওয়েলা (৭৫) ও দিলরুয়ান পেরেরা (৫১)। একাই চার উইকেট দখল করেন মিরাজ। মোস্তাফিজুর রহমান দু’টি আর একটি করে নেন সাকিব, তাসকিন আহমেদ ও শুভাশিস রায়।

টি-২০ স্টাইলে খেলে সৌম্যর দুর্দান্ত হাফসেঞ্চুরি!

রেকর্ড গড়েই জিততে হবে বাংলাদেশকে!