‘আজ আমাদের দেশে যেসব অগণতান্ত্রিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে সবকিছুই ভারতের মদদে হচ্ছে’

স্টাফ রিপোর্টার, সময়ের কণ্ঠস্বর:  মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, সুপিমকোর্টের প্রধানফটক থেকে গ্রিক নারীমূর্তি সরানোর আন্দোলনে মদদ দিচ্ছেন আপনারা, অথচ আপনারা তো হযরত আয়েশা (রা.) এর কথা বলছেন না। তিনি তো সর্বপ্রথম ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য বসরার যুদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন। আজ কেন তার কথা বলা হচ্ছে না। এভাবে কখনো ন্যায় প্রতিষ্ঠা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ গড়ে উঠে না।

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এমনিতেই অবিসংবাদিত নেতা, তিনি জেলে গেলেও দলের মধ্যে সেই অবিসংবাদিত নেতা থাকবেন। কেননা, দলের লোকেরা তো বটেই, দেশের অন্তত ৬ কোটি লোকের তার প্রতি সমর্থন রয়েছে। এমতাবস্থায় খালেদা জিয়া যদি মনে করেন তিনি জেলে গেলে তার পুত্রবধূকে দল পরিচালনার দায়িত্ব দিবেন সেটা খুবই ভুল সিদ্ধান্ত হবে। কেননা, এটা কোনো গণতান্ত্রিক রীতি হতে পারে না। বরং খালেদা জিয়ার উচিত হবে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য সরকারের বাধা উপেক্ষা করে মওদুত-হাফিজদের মতো সিনিয়র নেতাদের নিয়ে দেশব্যাপী ভ্রমণে বের হওয়া। সেই সঙ্গে খালেদা জিয়ার উচিত হবে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় রাস্তায় নামা। তাহরে তাদের প্রতি জনসমর্থন বাড়বে। তিনি এও বলেন, এভাবে ঘরে বসে হুমকি-ধমকিতে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা যাবে না। আর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ছাড়া কারো মুক্তি আসবে না।

তিনি আরও বলেছেন, ‘আজ আমাদের দেশে যেসব অগণতান্ত্রিক কর্মকাণ্ড ও অপকর্ম পরিচালিত হচ্ছে সবকিছুই ভারতের মদদে হচ্ছে। ভারত এখন আমাদের দেশের সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতে নতুন করে নিরাপত্তা ও সামরিক চুক্তির জন্য সরকারের ওপর চাপ দিচ্ছে। এটা হলে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়বে, দেশকে ভয়াবহ পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দেয়া হবে।

সংগঠনের সভাপতি এম এ হালিমের সভাপতিত্বে আলোচনায় আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মজিবুর রহমান সরোয়ার ও বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মোহাম্মদ রহমত উল্লাহ প্রমুখ।

jafor

শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ‘মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে করণীয়’ শীর্ষক এ আলোচনা সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ ডেমোক্রেটিক কাউন্সিল।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বলেছেন, নির্বাচনের এক মাস আগে নয়, সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হলে আজ থেকেই লেভেল প্লেইং ফিল্ড দিতে হবে।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের বড় দায়িত্ব হলো সকল রাজনৈতিক দলকে সমান সুযোগ দিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করা। আর এ জন্য আজ থেকেই সরকারি দলের মতো সব রাজনৈতিক দলকে সভা, সমাবেশ করার অনুমতি দেয়া হোক।

ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বলেন, আমাদের এখনো জনসমাবেশ, মানববন্ধন, মিটিং, মিছিল, বিজয় দিবসের মিছিল করার জন্য অনুমতি নিতে হয়। কিন্ত সরকারদলীয় সবকিছুই চলছে।

তিনি বলেন, এখন থেকে রাজনৈতিক পরিবেশ নির্বাচন কমিশনকে দিতে হবে তা না হলে এই কমিশনের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব হবে না।

প্রধানমন্ত্রীর বগুড়ায় নির্বাচনী প্রচারণার কথা উল্লেখ করে বিএনপির এই নীতি নির্ধারক বলেন, প্রধানমন্ত্রী বগুড়ায় জনসমাবেশ করেছেন এটি নির্বাচনী বিধি কিনা, জনগণ তা জানতে চায়।

বর্তমান সরকারের অধীনের নির্বাচন ব্যবস্থার সমালোচনা করে তিনি বলেন, এককভাবে একের পর এক নির্বাচনের ষড়যন্ত্র জনগণ বুঝতে পারে।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মামলা উদ্দেশ্যমূলক মন্তব্য করে মওদুদ বলেন, খালেদা জিয়ার মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যমূলক। সরকারে কোনো অর্থ এই মামলার সঙ্গে জড়িত নেই। আর কেউ স্বামীর নামের ট্রাস্টের অর্থ লুটে খায় না, এটা জনগণ খুব ভালো করেই বোঝে।

তিনি আরো বলেন, নাইকো মামলার আসামি ছিলেন শেখ হাসিনা। কিন্তু নিজে খালাস নিয়েছেন। শুধু রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে খালেদা জিয়ার নামে মামলা ঝুলিয়ে রেখেছে সরকার।