রাজবাড়ীতে মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়ায় ইউ.পি সদস্যের বাড়িতে হামলাঃ থানায় অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টারঃ সময়ের কণ্ঠস্বর

শুক্রবার সকালে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার ছোটভাকলা ইউনিয়নের ৯  নম্বর ওয়ার্ডের ভাগলপুর গ্রামের চিহ্নিত ও জেলা পুলিশের তালিকা ভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী ও দূর্ধর্ষ সন্ত্রাসী জলিল শেখ (জুইল্যা ৫০) কে মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়ায় স্থানিয় ইউ.পি সদস্য তোরাপ আলী খানের বাড়িতে হামলা চালিয়েছে। এঘটনায় গোটা এলাকাবাসি ব্যপক ভাবে ফুঁসে উঠেছে এবং গোয়ালন্দ থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে ঘটনাটি সম্পর্কে জানতে চাইলে ঘটনা স্থলে উপস্থিত অন্তত ২০/২৫  জন স্থানিয় গ্রামবাসি অভিযোগ করে বলেন, স্থানিয় মাদক ব্যবসায়ি ও চরমপন্থি জলিল শেখ দীর্ঘ দিন এ অঞ্চলে গাঁজা, ফেন্সিডিল, চোলাই মদ, ইয়াবা ট্যাবলেট সহ বিভিন্ন প্রকার মাদকদ্রব্যের খুচরা ও পাইকারি ব্যবসা করে আসছে।কেউ প্রতিবাদ করলেই অস্ত্র সস্ত্র সহ নিয়ে তাকে ভয়ভীতি দেখায় ও মারধর করে জলিল ও তার ছেলেরা । তাই ভয়ে কেউ মুখ খুলেনা ।

এলাকার সিংহ ভাগ যুব সমাজ আজ মাদকাসক্ত ।আমরা এলাকাবাসি অতিষ্ঠ হয়ে গত বুধবার সকালে স্থানীয় ইউ.পি সদস্য তোরাপ আলী খানকে সংগে নিয়ে মাদক ব্যবসায়ি জলিলকে মাদক ব্যবসা বন্ধের জন্যে অনুরোধ করি ।এতে ক্ষুদ্ধ হয়ে ওই দিনই দুপুর বেলায় জলিল, জলিলের ছেলে মিঠু, আলিম, টিটু ও জলিলের ভাগিনা সেলিম শেখ মিলে মেম্বর এর বাড়িতে হামলা চালায় ।হামলার শিকার হয়ে তৎক্ষনাত মেম্বার তোরাপ আলী খান গোয়ালন্দ থানা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করলে তাৎক্ষনিক পুলিশ ঘটনা স্থলে উপস্থিত হয় । পুলিশ দেখে সন্ত্রাসিরা গা-ঢাকা দেয় ।

পুলিশ কাউকে খুজে না পেয়ে ফিরে যাওয়ার পরপরই কয়েকটি ধারালো রামদা নিয়ে মেম্বারের বাড়িতে দ্বিতীয় দফায় হামলা করে ওরা ।খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষনিক ঘটনা স্থলে উপস্থিত হয়ে সেলিমকে আটক করতে সক্ষম হয় ।পরবর্তিতে রাজবাড়ী ডিবি পুলিশের তথ্যানুযায়ী আমরা জানতে পারি সেলিম শেখ এলাকার চাঞ্চল্যকর ডিম্পল হত্যা মামলার তালিকা ভুক্ত পলাতক আসামি ।

গত ২০১৫ সালের ৪ ঠা অক্টোবর বাসার প্রামানিকের বাড়ীর সামনে আজিবর সরদারের স্থানিয় ইটের ভাটায় ডিম্পল নামের একজন যুবককে কুপিয়ে ও গলা কেটে নিসংশ ভাবে হত্যা করে দূর্বৃত্যরা ।আটক কৃত সেলিমের স্বীকারোক্তি অনুযায়ি হত্যা কান্ডে ব্যবহৃত রামদাটি ও উদ্ধার করেছে ডিবি পুলিশ । ঘটনাটি এলাকায় ব্যপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করলে আরও হিংস্র হয়ে ওঠে জলিল ।

আজ ভোরে ইউ.পি সদস্য তোরাপ আলী খানের স্ত্রী ( ডায়বেটিক রোগী ) রাস্তায় হাটা-হাটি করতে বের হলে নিলুর দোকানের সামনে তার উপর আচমকা হামলা করে জলিল, জলিলের ছেলে মিঠু, আলিম, টিটু, জলিলের ভাই মজনু (ফজলু) ও জলিলের স্ত্রী ।

এ ঘটনায় ইউ.পি সদস্য তোরাপ আলী খান ও তার স্ত্রী স্থানিয় জেলা জাসদের নেতা (বিশিষ্ট্ মুক্তি যোদ্ধা) আব্দুল লতিফ লালের কাছে বিচার দাবী করেন । তিনি থানা পুলিশকে লিখিত অভিযোগ করতে পরামর্শ দিলে মেম্বার থানায় উপস্থিত হয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ।

তাছারা অভিযুক্ত মাদক ব্যবসায়ি ও চরম পন্থি জলিলের বিরুদ্ধে গোয়ালন্দ, রাজবাড়ী থানা সহ বিভিন্ন থানায় হত্যা, অস্ত্র, ডাকাতি, চাঁদাবাজি ও মাদক মামলা সহ এক ডজনেরও বেশি মামলা রয়েছে ।

এ প্রসঙ্গে হামলার শিকার ইউ.পি সদস্য তোরাপ আলী খানের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, যেহেতু আমি স্থানিয় জন প্রতিনিধি সেহেতু আইনের প্রতিও সর্বচ্চ শ্রদ্ধাশীল ।পুলিশ এ মর্মান্তিক ঘটনাটির সুষ্ঠ তদন্ত করে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন ও এলাকা থেকে মা্দক উৎখাত করে যুব সমাজকে ধ্বংসের দার প্রান্ত থেকে রক্ষা করবে । এলাকা বাসীর পক্ষ থেকে এটাই আমার প্রানের দাবি ।

ঘটনাটি প্রসঙ্গে গোয়ালন্দ ঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমি দুই দিনের ছুটিতে আছি । থানায় অভিযোগ করে থাকলে অবশ্যই পুলিশ যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করবে ।