প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, কুড়িগ্রামের ঐতিহ্যবাহী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়টি সমস্যায় জর্জরিত

21207


ফয়সাল শামীম,নিজস্ব প্রতিবেদক,কুড়িগ্রামঃ

কুড়িগ্রাম শহরের প্রাণ কেন্দ্রে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়টি নানা সমস্যায় জর্জরিত হয়ে পড়েছে । প্রধান শিক্ষকের অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও অদক্ষতার ফলে  স্কুলটির  শিক্ষার  মান তলানীতে নেমে  এসেছে। স্কুলের মেধাবী ছাত্রীরা স্কুল ছেড়ে অন্য স্কুলে চলে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে স্কুলের এসএসসি পরীক্ষায় ২৪ জন ছাত্রী অকৃতিকার্য হয়েছে । জি পি এ- ৫ পেয়েছে মাত্র ১১জন। অথচ পরীক্ষা দিয়েছিল প্রায় ২‘শ জন।

স্কুলের অভিভাবকরা বলছেন, একসময় কুড়িগ্রাম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়টি শুধু কুড়িগ্রামে নয় সারা উওরাঞ্চলের মধ্যে একটি শীর্ষাস্থানীয় স্কুল ছিল। প্রতি বৎসর প্রায় অর্ধশতাধিক ছাত্রী জিপিএ- ৫ পেতো। পঞ্চম আর অষ্টম শ্রেনীতে ১০ থেকে ১৫ জন ছাত্র ছাত্রী বিভিন্ন কেটাগরীতে বোর্ডে বৃত্তি পেতো। অথচ বর্তমানে এ সব রেজাল্ট শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। অন্যদিকে বর্তমান প্রধান শিক্ষক নিজের চাকুরীর মেয়াদ বাড়ানোর  জন্য স্কুল কমিটির কাছে আবেদন করলে কমিটি তা বাতিল করে দেয়। পরর্বতীতে প্রধান শিক্ষক নিজ ক্ষমতা বলে কমিটির গুটি কয়েক সদস্যের যোগসাজসে নির্বাচিত কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে এ্যডহক কমিটি গঠনের পায়তারা করছেন। এ নিয়ে স্কুলের কয়েকজন প্রভাবশালী সদস্য নিরীহ সসদ্যদের হুমকী দিচ্ছ বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করছেন।

৯০ এর দশকে উত্তর জনপদের শীর্ষ স্কুলগুলির মধ্যে একটি সেরা স্কুল ছিল এটি। এর ছাত্রী সংখ্যা রয়েছে প্রায় ২হাজার। স্থানীয় অভিভাবকরা প্রায় ৪ বৎসর আগে স্কুলের প্রধান শিক্ষক অবৈধ ভাবে স্কুলে নিয়োগ নেয়ার ফলে স্কুলের ধ্বস নামা শুরু হয়। প্রধান শিক্ষক স্কুলটিকে নিজের মত করে কোন নিয়ম নীতির  তোয়াক্কা  না করে  পরিচালনা করছে। ইতিমধ্যেই স্কুলের ফলজ আর বনজ গাছ গুলি টেন্ডার ছাড়াই কেটে ফেলেছে । এ গুলি কম দামে বিক্রি করেছে। তারা আরও বলেন স্কুলে নিয়মিত ক্লাস হয় না। অধিকাংশ সময়ে নানা অজুহাতে ছুটি দেয়া হয়।

শিক্ষার মান এত নিম্ন পর্যায়ে নেমেছে যে,গত বৎসর এই বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষায় মাত্র ৫ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। আর অকৃতিকার্য হয়েছে ২৪ জন ছাত্রী। অধিকাংশ মেধাবী ছাত্রী স্কুল ছেড়ে চলে যাচ্ছে।
ঐ ¯কুলের কয়েকজন শিক্ষক-শিক্ষিকা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রধান শিক্ষক হাজেরা বেগম স্কুলের মাত্র তিন থেকে চার জন শিক্ষক ছাড়া সকল শিক্ষক এবং কর্মচারীর সাথে প্রায় সময় দুব্যবাহার করেন। তার আচরণের  কারনে সাধারণ শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা আরও বলেন, প্রধান শিক্ষকের প্রশাসনিক দুর্বলতা, অদক্ষতা এবং অব্যবস্থার কারণ বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান নিন্মগামী।

সাম্প্রতিক সময়ে প্রধান শিক্ষক স্কুল সরকারী করনের কথা বলে, স্কুলের শিক্ষকদের কাছে মোটা অংকের টাকা তুলেছেন। স্কুলে হয় না কোন আয় ব্যয়ের হিসাব। স্কুলের লক্ষ লক্ষ টাকা বিল ভাওচারের মাধ্যমে উত্তলোন করে আত্মসাত করারও অভিযোগ রয়েছে।
স্কুলের অভিভাবক আবুল বাশার জানান কয়েক মাসের মধ্যে স্কুলের প্রধান শিক্ষকের মেয়াদ শেষ হবে। নানা অনিয়মের পরও আবারও স্কুলের প্রধান শিক্ষকের মেয়াদ বাড়ানেরা জন্য পাঁয়তারা চলছে।

বিদ্যালয়টির সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য আহমেদ সুলতানা নাজলি বেগম জানান, বতর্মান প্রধান শিক্ষকের স্কুলে নানা হিসেবের গরমিল এর কারণে কোন হিসাব ঠিকমত দিতে পারছে না। তিনি এককভাবে চাকুরীর মেয়াদ বর্ধিত করনের চেষ্টা করছেন। এতে আমি বাধা দেয়ায় তার সাথে আমার সম্পর্কের অবনতি হয়েছে।

স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা হাজরা বেগম জানান, আমি স্কুলের কোন অনিয়ম করিনি। দিনে দিনে স্কুলের ফলাফল আরও ভাল হচ্ছে। আমার বিরুদ্ধে যে সমস্ত অভিযোগ উঠেছে তা সত্য নয়।