স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস তৈরির প্রথম সর্ত প্রতিদিন ভোরে ঘুম থেকে ওঠা

স্বাস্থ্য কথাঃ  প্রতিদিন রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমতে যাওয়া ও ভোরে দ্রুত বিছানা ত্যাগের অভ্যাস যে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য কতোখানি উপকারী এতে সন্দেহের কোনো অবকাশই নেই। এক গবেষণায় বিষয়টি আরো সুদৃঢ় হয়ে উঠেছে । ওবিসিটি শীর্ষক জার্নালে সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণা বলা হয়েছে, ভোরে ঘুম থেকে ওঠার প্রবণতায় তৈরি হয় স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস। খবর ডেইলি মেইল।

ঘুম ভাঙা
দৈনন্দিন ব্জীবনে সময়ানুবর্তিতার যতই অভাব থাকুক না কেন, মানবদেহ কিন্তু তার কাজ চালায় ঘড়ির কাঁটায় কাঁটায় । সারা দিনে আমাদের খাদ্য গ্রহণের প্রবণতা কী ধরনের হবে, দেহঘড়ি সেটাও নির্ধারণ করে দেয়।
বিশেষজ্ঞদের দাবি, শরীরের এ ঘড়ির কাঁটা ধরে চলার প্রবণতাই স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস তৈরির সঙ্গে ভোরে ঘুম ভাঙার প্রবণতার সম্পর্ক নির্ধারণ করে দেয়। এমনকি দিনের বেলায় দীর্ঘক্ষণ বিছানায় থাকার যে অভ্যাস, তার সঙ্গে অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভাস্যেরও সংযোগ তৈরি করে দেয় দেহঘড়িই। ফলে দিনের বেলায় যাদের দীর্ঘক্ষণ বিছানায় থাকতে দেখা যায়, তাদের মধ্যে চিনি ও চর্বিজাতীয় খাবার গ্রহণের প্রবণতাও অনেক বেশি।
ফিনল্যান্ডের ২৫-৭৪ বছর বয়স্ক ১ হাজার ৮৫৪ জন নাগরিকের খাদ্যাভ্যাস পর্যালোচনার ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন গবেষকরা।
দেখা গেছে, যাদের মধ্যে রাত জাগার অভ্যাস রয়েছে, সকালের নাশতায় তারা খাদ্য গ্রহণ করেন অল্প। এর পরেও তাদের মধ্যে চিনি, কার্বোহাইড্রেট ও চর্বিজাতীয় খাদ্য গ্রহণের প্রবণতা অনেক বেশি। শুধু তা-ই নয়, দিন গড়িয়ে সন্ধ্যা আসতে আসতেই তাদের চিনি ও চর্বি গ্রহণের মাত্রা বেড়ে যায় অনেকখানি।
ছুটির দিনগুলোয় এসব রাতজাগা ব্যক্তিদের খাদ্যাভ্যাস আরো ওলট-পালট হয়ে পড়ে। এ সময় তারা খাদ্যাভ্যাসের স্বাস্থ্যসম্মততা তো বজায় রাখতে পারেনই না, বরং খাদ্য গ্রহণের সময়ও হয়ে ওঠে আরো বিশৃঙ্খল। বিশেষ করে তারা রাতের খাবার গ্রহণ করেন একেবারে গভীর রাতের দিকে। ফলে এ ধরনের ব্যক্তিদের ভেতর স্থূলতার পাশাপাশি হজমের সমস্যাও দেখা দেয় মারাত্মকভাবে। শুধু তা-ই নয়, তাদের ঘুমও খুব একটা ভালো হয় না। একই সঙ্গে শারীরিক কার্যক্ষমতাও কমে যায় অনেকখানি।
এ বিষয়ে গবেষণা নিবন্ধের প্রধান লেখক মিরাক্কা মাউকোনেন বলেন, ‘রাতজাগা ব্যক্তিরা শরীরের অভ্যন্তরীণ ঘড়ির বিপরীতে গিয়ে কাজ করেন। আমাদের সামাজিক গঠনও তৈরি হয়েছে ভোরে দ্রুত বিছানাত্যাগীদের জন্যই।’