এবছর বই পড়ে পুরুস্কার জিতলেন ৬ হাজার ৩১৩ জন শিক্ষার্থী

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বছর জুড়ে বই পড়া কর্মসূচিতে এবার অংশ নিয়েছে চট্টগ্রাম নগরীর ৮১টি স্কুলের ১৭ হাজার শিক্ষার্থী। এর মধ্যে বই পড়ে পুরস্কার জিতে নিয়েছেন ৬ হাজার ৩১৩ জন শিক্ষার্থী।

গতকাল ৪ হাজার ২৮৬ জনকে পুরস্কার প্রদান করা হয়। বাকি ২ হাজার ২৭ জনকে (আজ শনিবার) পুরস্কার প্রদান করা হবে।
বই পড়ায় শিক্ষার্থীদের উৎসাহী করতে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের নেয়া এই সৃজনশীল কর্মসূচিতে সহযোগিতা দিচ্ছে গ্রামীণফোন।
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের এই কর্মসূচি উপলক্ষে গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে নগরীর মিউনিসিপ্যাল মডেল হাইস্কুলে বসেছে হাজার হাজার শিক্ষার্থীর প্রাণের উচ্ছ্বাস। সকাল সাড়ে ৮টায় দুইদিনব্যাপী উৎসবের সূচনা হয়। ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ ও গ্রামীণফোনের হেড অব চট্টগ্রাম সার্কেল শাওন আজাদ।
উৎসবে বিশিষ্ট নাগরিকদের মধ্যে ছিলেন কবি ও সাংবাদিক আবুল মোমেন, অতিরিক্ত সচিব ড. মো. মাহামুদ-উল-হক, চট্টগ্রামের ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় কমিশনার বেগম সারওয়ার জাহান, চসিকের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ড. মুহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান, প্রথম আলোর যুগ্ম-সম্পাদক আনিসুল হক, চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল হোসেন, মাউশির চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক অধ্যাপক ড. গোলাম ফারুক, মিউনিসিপ্যাল মডেল স্কুল এন্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রেজিয়া আখতার, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের পরিচালক শরিফ মো. মাসুদ, চট্টগ্রাম মহানগরের সংগঠক আলেক্স আলীম।
সিটি মেয়র ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ছাত্রছাত্রীদের শুধুমাত্র গতানুগতিক শিক্ষাগ্রহণ করলেই হবে না। সার্টিফিকেটধারী শিক্ষিত না হয়ে বই পড়ার মাধ্যমে মানবিক মানুষ হতে হবে।
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, তোমাদের প্রত্যেকের ভেতর আলাউদ্দিনের চেরাগের দৈত্যের মতো একজন অসীম ক্ষমতাসম্পন্ন মানুষ বন্দী অবস্থায় আছে। সেই দৈত্যকে জাগানোই হল আসল কাজ, যা বই পড়ে করা যায়। তোমরা যদি সেই কাজটা করতে পারো, তবে বাংলাদেশ একদিন সত্যিই শ্রেষ্ঠ দেশ হিসেবে পরিচিত হবে।
কবি ও সাংবাদিক আবুল মোমেন বলেন, মানুষকে মানুষ হওয়ার জন্য সংগ্রাম করতে হয়। কিন্তু অন্যান্য প্রাণীদের তা করতে হয় না। প্রকৃত মানুষ হতে হলে শিক্ষাকে ধারণ করতে হয়। বই থেকে আসে শিক্ষা ও আলো।
গ্রামীণফোনের শাওন আজাদ বলেন, আমাদের চলার পথ কখনোও মসৃণ নয়। তবে জ্ঞান আমাদের চলার পথকে মসৃণ করে। আমাদের অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যায়। সারাদেশে বইপড়া কর্মসূচি এভাবে বাড়তে থাকলে দেশ আর অন্ধকারে থাকবে না, আলোকিত হয়ে যাবে।
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে দেশভিত্তিক উৎকর্ষ কার্যক্রমের আওতায় সারাদেশে প্রায় দুই হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বইপড়া কর্মসূচি পরিচালনা করে আসছে।