সাফারি পার্কের তিন বাঘ শাবকের নামকরণ

গাজীপুর প্রতিনিধি: গাজীপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে প্রথম জন্ম নেওয়া তিনটি বাঘের শাবকের নামকরণ করা হয়েছে শুক্রবার। প্রায় দেড় মাস আগে জন্ম নেওয়া বাচ্চাগুলো এখন আলাদা বেষ্টনীতে মায়ের সঙ্গেই রাখা হয়েছে। মা বাঘসহ বাচ্চাগুলো সবাই সুস্থ আছে। তারা বেস্টনীতেই মায়ের সাথে হেঁটে বেড়াচ্ছে।

badhe

বাংলাদেশ প্রাণিবিজ্ঞান সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও প্রাক্তন উপ-প্রধান বন সংরক্ষক তপন কুমার দে ওই তিন শাবকের নাম দিয়েছেন। ছেলে শাবকের নাম রাখা হয়েছে বিজয়, আর মেয়ে দুই শাবকের নাম রাখা হয়েছে মাধবী ও বিলাসী।

পার্ক কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, সাফারি পার্কে নয়টি বাঘ রয়েছে। ২০১৩ইং সালে দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গ থেকে অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় বেঙ্গল জাতের ওই সব বাঘ সাফারি পার্কে আনা হয়। এসব বাঘের উচ্চতা সাড়ে তিন ফুট থেকে চার ফুট এবং দৈর্ঘ্য সাড়ে চার ফুট থেকে সাড়ে পাঁচ ফুট। বছরের সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবর মাস হলো এদের প্রজনন মৌসুম। সাধারণত চার থেকে সাড়ে চার বছর বয়সে এরা যৌবনপ্রাপ্ত হয়। সংগমের ৯৬ থেকে ১০৫ দিনের মধ্যে তারা বাচ্চা প্রসব করে।

গত ২৬ জানুয়ারি গর্ভবতী বাঘিনীটি তিনটি বাচ্চা প্রসব করে। এর দেড় মাস আগে বাঘিনীটিকে আলাদাভাবে মিনি বেষ্টনীতে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। বাচ্চা প্রসবের প্রায় এক বছর পর্যন্ত তাদের অন্য বাঘ-বাঘিনীদের কাছ থেকে আলাদা করে রাখা হবে। বাচ্চারা আট-নয় সপ্তাহ পর্যন্ত কেবল মায়ের দুধ পান করে। এরপর থেকে মাংস খেতে দেওয়া হয়। বিজয়ের মাসে নামকরণ করতে গিয়ে পুরুষ বাচ্চাটির নাম বিজয় রাখা হয়েছে।

পার্কে বাঘের দেখ ভাল করেন কিপার মিন্টু মিয়া। তিনি বলেন, গত ২৬ জানুয়ারি বাঘের বাচ্চার জন্ম হয়। এরপর তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। এখন তারা নির্দিষ্ট স্থানে রয়েছে, নিয়মিত দেখাশোনা এবং হাতে খাওয়ানো হয়।

সাফারি পার্কের বন্য প্রাণী পরিদর্শক মোঃ আনিসুর রহমান সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, পার্কের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বাচ্চা তিনটির নামকরণ করেছে। জন্মের পর পর্যবেক্ষণে রাখার কারণে শুরুতে বিষয়টি কাউকে জানানো হয়নি। তবে এখন সবাই বাঘের বাচ্চার খবর জেনে গেছে।