ফুলবাড়ীতে অতিরিক্ত মূল্যে ইউরিয়া সার বিক্রি

অনীল চন্দ্র রায়, ফুলবাড়ী প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে চলতি ইরি বোরো ভরা মৌসুমে অতিরিক্ত মূল্যে ইউরিয়া সার বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন বাজার গুলোতে।

sar

সার ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে বস্তা প্রতি বিক্রি করছে সাড়ে আটশ টাকার দরে। হঠাৎ সারের মূল্য বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়ছে প্রান্তিক কৃষকরা। তারা ডিলারদের কাছ থেকে সরাসরি ইউরিয়া সার না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে বাজারে সার ক্রয় করছে অতিরিক্ত মূল্যে। কৃষি অধিদপ্তরের মনিটরিংরের দায়িত্ব অবহেলার কারনে ডিলারদের সারের দোকান বন্ধ থাকার কারনে এ অবস্থা সৃষ্টি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন কৃষকরা।

জানা গেছে, উপজেলায় সাড়ে দশ হাজার ইরিবোরো ক্ষেত লাগানো হয়েছে চলতি বোরো মৌসুমে। এদের মধ্যে বিআর ২৮-ধান চার হাজার ৮শ হেক্টর, বি আর ২৯ ধান এক হাজার ৭শ হেক্টর, হাই ব্রিট দুই হাজার ৮শ ৫৮ জাতের ধান এক হাজার দুইশ ও স্থানীয় জাত দুইশ হক্টের জমিতে এ অঞ্চলের কৃষকরা ক্ষেত লাগিয়েছে। তারা অতিকষ্টে ইরিবোরো ক্ষেতে দিন গুলো পার করলেও মধ্য সময়ে সার পাচ্ছে না হাতের কাছে। প্রতিদিন সার ডিলারদের দোকানে ধর্ণা দিলে চাহিদা অনুযায়ী সার উত্তোলন করতে পাচ্ছে না তারা। কাফ্ফ ও শাহজালাল সার সংকট থাকার অযুহাতে ৮০/৯০ টাকা বস্তা প্রতি অতিরিক্ত মূল্যে দিয়ে ক্রয় করতে হচ্ছে কৃষকদের।

এ উপজেলায় বিসিআই সার ব্যবসায়ী ৭ জন ও বিএডিসি’র ৬ জন ডিলার নিয়োগ করা হলেও তারা অধিকাংশ বাহিরের বসবাসকারী। সে কারনে তাদের দোকান বন্ধ থাকে প্রায় সময়। তারা রাতে অন্ধকারে ভাল মানের ইউরিয়া সার উত্তোলন করলেও কৃষকরা পাচ্ছে না তাদের কাছে। তবে অভিযোগ উঠেছে ডিলারদের সাথে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার যোগসাজস থাকায় নির্যমূল্য পাচ্ছে না ভাল মানের ইউরিয়া সার। ফলে বাজারের খুচরা ব্যবসায়ীরা মনগড়া ভাবে দাম নিচ্ছেন সাধারন কৃষকের কাছে। বাজারে খুচরা মূল্য ১৯ থেকে ২০ টাকা প্রতি কেজি ইউরিয়া বিক্রি হচ্ছে বর্তমানে।

ফুলবাড়ী উপজেলার পুর্ব ধনিরাম (হাজির হাট) এলাকার আঃ রশিদ জানান, চার বিঘা জমিতে ইরিবোরোর ক্ষেত লাগিয়েছেন। ডিলারদের দোকান বন্ধ থাকায় বাধ্য হয়ে ৮শ ৭০ টাকা দিয়ে এক বস্তা ইউরিয়া ক্রয় করেছেন। বালাটারী গ্রামের আজিজুল ইসলাম ও প্রানকৃঞ্চ গ্রামের জুলহাস, কুটিচন্দ্রখানা গ্রামের রশিদুল ইসলাম ও মধ্য অনন্তপুর গ্রামের সহিদুল ও নদাবশ গ্রামের শাহিন মিয়া একই কথা জানান। তারা বলেন, স্থানীয় ডিলার নিয়োগ না থাকার কারনে এ সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। এ জন্য নির্যমূল্যে ইউরিয়া সার বিক্রির জন্য এ উপজেলায় আরো ডিলার নিয়োগের ব্যবস্থা করা হলে এ সমস্যা দুর হবে। তা না হলে বাহিরের ব্যবসায়ীদের কাছে আমাদের জিম্মি থাকতে হবে প্রতি বছর।

গংগারহাট বাজারের সিরাজ ট্রেডাসের আইনুল হক, সৈকত এন্টারপ্রাজের ম্যানেজার দিপু রায় যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, সার উত্তোলনের জন্য ব্যবস্থা থাকায় দুই দিন দোকান বন্ধ ছিল। তাদের দোকানে দলাযুক্ত সার অনেক মজুত রয়েছে কিন্তু কৃষকরা সে সব বস্তা ক্রয় করতে নারাজ। আর অতিরিক্ত মুল্যে সার বিক্রির বিষয়টি কৃষকদের গুজব বলে জানান।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা কৃষি অফিসার মাহবুবুর রশীদ সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান, ডিলারদের দোকান নিয়মিত খোলা থাকার নিয়ম রয়েছে। অতিরিক্ত মূল্যে সার বিক্রির প্রশ্ন আসে না। প্রমান পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।